অল্প বয়সে চুলের অকালপক্কতা রোধের ঘরোয়া কয়েকটি দুর্দান্ত উপায়, জেনে নিন বিস্তারিত

আপনি কি কম বয়সে চুল পাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন!!?কম বয়সে চুল পাকা সত্যিই অস্বস্তিকর। অনেকেরই অল্প বয়সে চুল সাদা হয়ে যায় । ফলে অল্প বয়সেই বয়স্কদের মতো দেখতে লাগে। ফলে বারবার হতে হয় হেয়ার কালার এর শরণাপন্ন । কিন্তু তবুও ফিরে আসে সেই পাকা চুল। কিন্তু বারবার হেয়ার কালার করা একমাত্র সমাধান নয় ।এবং কালার করার পরও কিছুদিন পর সেই পাকা চুল ফিরে আসে।অনেকেরই। চুলের অকালপক্বতা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে আপনাকে জানতে হবে কেন এরকম হচ্ছে !

অল্প বয়সেই চুলের পাক ধরার আসল কারণ কি !?বিভিন্ন কারণে চুলের অকালপক্বতা হয় । একদিকে যেমন দুশ্চিন্তা থেকে এরকম হতে পারে। আবার পুষ্টিকর খাবারের অভাবে ও হতে পারে। আপনার ডায়েট চার্টের ভুল ত্রুটির জন্য পেকে যেতে পারে চুল। এখন জেনে নিন পাকা চুল কালো করার ঘরোয়া কয়েকটি উপায়। সর্বপ্রথম আপনাকে জানতে হবে আপনি কী খাচ্ছেন। আপনার ডায়েট চার্ট ঠিকমত হচ্ছে কিনা প্রথমেই আপনাকে সেই দিকে নজর দিতে হবে। কারণ উপযুক্ত পুষ্টিগুণের অভাবে অনেকেরই অল্প বয়সেই চুলে পাক ধরে ।

তাই আপনি কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন, কীভাবে খাচ্ছেন এই সবকিছুর উপরে নির্ভর করে আপনার চুল এবং ত্বক কেমন থাকবে । সাধারণত দেখা যায় আয়োডিন, ওমেগা-থ্রি ,আয়রন ,কপার ,ভিটামিন ইত্যাদির অভাবে চুলের অল্প বয়সে পাক ধরে । বেশ কিছুদিন ধরে কয়েক জনের ওপর গবেষণার ফলে দেখা গেছে অতিরিক্ত জাঙ্কফুড ,প্যাকেট জাতীয় খাবার ,তৈলাক্ত খাবার ইত্যাদি প্রসেস খাবার খাওয়ার ফলে যেমন একদিকে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় সেরকমই তা সরাসরি চুলের ওপর প্রভাব ফেলে । ফলে চুলের টেক্সচার খারাপ হয়ে যায়, অকালে চুল পড়তে থাকে ,তেমনি অকালপক্কতা আসে।

আপনি যদি আপনার ডায়েটে সামান্য অদল-বদল আনেন তাহলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন । সাধারনত আয়োডিন ,আয়রন ,ওমেগা-থ্রি ,ভিটামিন যুক্ত খাবার আপনাকে প্রতিদিন আপনার ডায়েট চার্ট এ রাখতে হবে । বিভিন্ন বাদাম জাতীয় দানাশস্য যেমন কাঠ বাদাম ,আখরোট, আমন্ড, কাজু ইত্যাদি খেতে হবে যা চুলের পক্ষে খুবই ভালো। ভিটামিন বি যুক্ত খাবার যেমন দই ,ছানা, পনির, গাজর ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত । এই ধরনের খাবার শরীরের সমস্ত অঙ্গে রক্তচলাচল সঠিক রাখে ফলে চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল ভালো হয়ে। চুলের গ্রন্থি শক্ত করে ফলে চুল পড়া রোধ করে এবং চুলের অকালপক্বতা রোধ করে!

বর্তমান সময়ে চুলপড়ার একটি অন্যতম কারণ হলো মানসিক স্ট্রেস । অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে নোরপাইনফইন নামক এক রাসায়নিক হরমোন তৈরি হয় যা চুলের গ্রন্থির পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এর ফলে চুল তাড়াতাড়ি পেকে যায়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ না কমালে চুল পড়া চুলের অকালপক্কতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবেনা । স্টেস ফ্রী হতে আপনি যোগাসন এবং শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন।এছাড়া মন হালকা করার জন্য বই পড়া,গান শোনা, ডায়েরি লেখা ,বাগান করা ইত্যাদি করতে পারেন যা আপনার মনকে শান্ত রাখবে।

অনেক সময় অনেকের শারীরিক ইনু কোনো জটিলতা থাকার ফলে চুল অকালে পেকে যায় এর মধ্যে প্রধান হল লিভারের সমস্যা অ্যানিমিয়া কোষ্ঠকাঠিন্য এবং হরমোনাল কিছু প্রবলেম এছাড়া জিনগত কারণেও চুল পেকে যেতে পারে। একমাত্র সুস্থ এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনী আপনাকে এই সমস্ত সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে এছাড়া চুলের অকালপক্কতা রোধে করার জন্য ঘরোয়া কিছু টোটকা খুবই উপযোগী। যেমন ভিটামিন সি আছে এমন ফল আপনাকে খেতে হবে । এছাড়া আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে ফলে আমলকীর তেল চুলে লাগালে চুল পড়া এবং চুল পাকা থেকে হাত বাঁচতে পারবেন ।

এছাড়া কারিপাতা, নিমপাতা, জবা পাতা একসাথে নারকেল তেলে ফুটিয়ে সেই তেল চুলে লাগালে চুল কালো হয় প্রাকৃতিক ভাবে। পেঁয়াজের রস এবং কারি পাতা একসাথে নারকোল তেলে ফুটিয়ে চুলে লাগালে একদিকে যেমন চুল পড়া বন্ধ হয় অন্যদিকে প্রাকৃতিকভাবে চুল কালো হয় ।নিয়মিত হট অয়েল ম্যাসাজ চুলের পক্ষে খুবই উপযোগী । এতে চুলের গ্রন্থিগুলোর মধ্যে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়।