বাংলার একাধিক জেলাতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৩ টি জেলাতে জারি রেড এলার্ট: আবহাওয়া খবর

রবিবার থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে শুরু করে দিয়েছিল। আজ সোমবার থেকে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে গেছে বিভিন্ন অঞ্চলে। ইতিমধ্যে আবহাওয়া দপ্তর এর তরফ থেকে ১৩ জেলায় জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। উত্তরবঙ্গে কাল থেকেই শুরু হয়ে গেছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত । মোটামুটি ২০ থেকে ২১ শে অক্টোবর পর্যন্ত আবহাওয়ার এই রকমই অবস্থা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য অঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ক্ষয় ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ঐ সমস্ত অঞ্চলে আগে থেকেই সর্তকতা জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে উত্তরবঙ্গে একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি জোড়া নিম্নচাপের কারণে আবহাওয়ার এরকম তুমুল পরিবর্তন হচ্ছে। আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে একসাথে দুইটি নিম্নচাপ। যার জেরে উত্তরাখান্ড এবং অন্যান্য অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই জোড়া নিম্নচাপের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে গুরুতর দুর্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরখণ্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আবহাওয়া দপ্তর থেকে আগে থেকেই সর্তকতা জারি করা হয়েছে এই অঞ্চলগুলিতে।

উত্তরাখান্ড যেহেতু পার্বত্য অঞ্চল সেইজন্য ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনাটাও অনেকটাই বেশি ।জেলাগুলিতে এখন থেকেই দুর্যোগ বা দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য স্কুলগুলি ছুটি করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরা খণ্ডের ১৩জেলায় জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট সর্তকতা । এর আগে আগস্ট মাসে নিম্নচাপের ফলে দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছিল উত্তরাখান্ড। আবার আগস্ট মাসে জোড়া নিম্নচাপ এর ফলে সেই রকম বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরাখণ্ড জেলাগুলিতে। সম্প্রতি বিপুল ক্ষয় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরাখণ্ডে ।

সরকারের তরফ থেকে তাই জন্য আগে থেকেই সর্তকতা জারি করা হয়েছে। সমস্ত স্কুল-কলেজ ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে ।এই সময় যেহেতু উত্তরাখণ্ডে পর্যটকদের ভিড় থাকে সেই কথা মাথায় রেখেই অতিরিক্ত সর্তকতা জারি করা হচ্ছে উত্তরাখণ্ডের জেলাগুলিতে। উত্তরাখান্ড ছাড়াও কেরলের অতিবর্ষণে জন্য ইতিমধ্যেই বন্যার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অতি ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বিপর্যস্ত হয়েছে গোটা কেরল। ইতিমধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে কেরলে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ।যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়েছে।

ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দেবার জন্য বায়ুসেনার উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। বর্ষা বিদায় নেবার প্রাক্কালে কেরলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে কার্যত বিপর্যয় নেমে এসেছে। তবে শুধুমাত্র উত্তরাখান্ড নয় এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে চলেছে পশ্চিমবঙ্গও। পুজোর আগে থেকেই নিম্নচাপের ফলে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছিল বাংলা বিভিন্ন জেলায়। এবার পুজোর পরেও রেহাই নেই এই বৃষ্টির হাত থেকে।

এই জোড়া নিম্নচাপ এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাগুলিতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায়। নিম্নচাপের কারণে ভারী থেকে অতি ভারী সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতা এবং কলকাতার সংলগ্ন এলাকা, দুই মেদিনীপুর ,দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিতে। লক্ষ্মীপূজো পর্যন্ত অর্থাৎ বুধবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাগুলিতে।