জীবনযুদ্ধে হার মানেননি, এমনকি হাসপাতালের বেডে শুয়েও করেছিলেন ছবির পরিচালনা

চোখের সামনে মৃত্যু দেখেছেন। খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একবার বেসামাল হলেই সব শেষ হয়ে যেত। কিন্তু কোনো কিছুই তাঁর পথ চলাকে থামাতে পারেনি৷ তিনি পরিচালক অনুরাগ বসু। লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত। চিকিৎসকরা জবাব দিয়ে দিয়েছিল হাতে সময় মাত্র ৩ সপ্তাহ৷

কিন্তু হাসপাতালের শয্যায় শুয়েও তিনি একটি ছবি পরিচালনা করেছিলেন৷ তাঁর সমস্ত কাজ তিনি মাথার মধ্যে রাখেন৷ কোথাও কিছু লেখেন না৷ একথা সকলেই জানেন বলিউডের৷ কিন্তু এমন শারীরিক অবস্থায় তখন তার মনের মধ্যে কী চলছিল? সম্প্রতি জানিয়েছেন সেই কথা৷

শুরু হয়ে গেছে তুমসা নেহি দেখা ছবির শুটিং। সমস্ত কিছু তার মাথার মধ্যে রয়েছেন। তাই হাসপাতালে শুয়েই ছবি নির্দেশনার কাজ করছেন। পরিচালক জানালেন, যখন ভর্তি হয়েছিলেন তখন ভেবেছিলেন কিছুদিনের মধ্যে ছাড়া পেয়ে যাবেন। তখন ছবির শুটিং শুরু হয়ে গিয়েছে। ”

Advertisements

Advertisements

 

বলিউডে বেতন বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন করিনা ধুয়ে দিলেন অনিল কাপুর

কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারলেন, পরিস্থিতি গুরুতর। তখন একাধিক ক্যাসেটে রেকর্ড করলেন যা ছিল মাথার মধ্যে৷ সহ পরিচালক কে পাঠালেন৷ এভাবেই কাজটি করেছিলেন। তিনি জানতেন তার হাতে মাত্র দু তিন সপ্তাহ পড়ে রয়েছে। অত্যন্ত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছিল৷ প্রতিদিন বদলে যাচ্ছিলেন৷ তিনি বলেন, ” শরীরের ভিতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, আমার সমস্ত চুল পড়ে গিয়েছে,এই হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। শুধু নিঃশ্বাস নিতে চাই আমি এই মুহূর্তে ”

তাঁর এই অভিজ্ঞতাই তিনি তুলে ধরেছেন, মেট্রো সিনেমার মাধ্যমে। অভিনেত্রী নাফিসা আলির মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে। হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে যখন তিনি ঘুরতেন মনে হত, তাঁর সব শেষ। 70 দিন আইসিইউতে ছিলেন। পরিবারের ওপর দিয়ে অনেক ঝড় বয়ে গেছে৷ তিনি বলেন, “কেউ মরতে চায় না। আমিও চাইনি। লড়াই করেছি। কিন্তু একটা বিষয় না বললেই নয়, সুস্থ হওয়ার পর বুঝলাম কেরিয়ারে শূন্যে ফিরে গিয়েছেন। নতুন করে সব শুরু করতে হবে।” তিনি আবার শূন্য থেকে শুরু করলেন। তারপর বরফি, জগ্গা জাসুস, লুডো একের পর এক সুপারহিট সিনেমা বানালেন।