মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও ঝুঁকি নিয়ে ছদ্মবেশে ইংরেজদের চোখে ধুলো দিতে তিনি পিছপা হন নি

আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে দেশ স্বাধীন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন৷ যে মানুষটির কাছে সত্য আর সংগ্রাম ছিল জীবনের মন্ত্র৷ বিশ্বাস করতেন জীবনে ঝুঁকি নিতে হয়৷ সংগ্রাম ছাড়া স্বাধীনতা আসবে না৷  তাই বারবার মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও ঝুঁকি নিয়ে ছদ্মবেশে ইংরেজদের চোখে ধুলো দিতে তিনি পিছপা হন নি৷ আর সত্যই একমাত্র পথ তা তিনি মানতেন৷ তিনি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু৷  আজ তাঁর ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী।  এবার থেকে প্রতি বছর ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে গোটা দেশে প্ররাক্রম দিবস হিসেবে পালন করার কথা বলেছে কেন্দ্র সরকার৷

সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্ম ১৮৯৭ সালে ২৩ জানুয়ারি উড়িষ্যার কটক শহরে।  পিতার নাম জানকীনাথ বসু আর মায়ের নাম প্রভাবতী দেবী। জানকীনাথ  কটক এর একজন প্রখ্যাত আইনজীবী ছিলেন। কটকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করে  রাভেনশো কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন নেতাজি। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  ১৯১৯ সালে বিএ পরীক্ষায় তিনি ফার্স্টক্লাসে উত্তীর্ণ হন৷

নেতাজির বাবা জানকীনাথ বসু চেয়েছিলেন ছেলে  ICS হোক। ১৯২০ সালে আইসিএস পরীক্ষায় তিনি চতুর্থ হয়েছিলেন৷ কিন্তু ইংরেজদের চাকরি করবেন না তাই  ১৯২১ সালের ২২ এপ্রিল চাকরি থেকে তিনি ইস্তফা দেন। ২০ জুলাই ১৯২১ সালে গান্ধীজির সঙ্গে  প্রথমবার সাক্ষাৎ হয় সুভাষের। গান্ধীজির পরামর্শেই তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ বেছে নেন৷ সেই সঙ্গে  বাংলার বন্যা কবলিত মানুষদের খাবার, বাসস্থান এর সংস্থান করেন৷

গান্ধীজির সঙ্গে তিনি ভগৎ সিংয়ের মুক্তির জন্য কথা বলেন। তিনি গান্ধীজিকে ভগৎ সিংয়ের মুক্তি নিয়ে ইংরেজদের সাথে করা চুক্তি  ভেঙে দিতে বলেন৷গান্ধীজি ব্রিটিশ সরকারের সাথে করা চুক্তি ভাঙবেন না বলে জানিয়েছিলেন। এরপর ভগৎ সিংয়ের ফাঁসি হয়। এই ঘটনার পর গান্ধী তথা  কংগ্রেসের কাজের ধরণে ক্ষুব্ধ হন সুভাষ।

পোস্ট অফিসের এই দুর্দান্ত স্কিমে এখন মাত্র ১ হাজার টাকা বিনিয়োগেই মিলবে মোটা টাকা রিটার্ন

মোট ১১ বার জেলে গিয়েছিলেন নেতাজি।  ১৯২১ সালে ১৬ জুলাই ছয় মাসের জেল হয়৷ ১৯৪১ সালে একটি মামলায় কলকাতার আদালতে পেশ করা হবে জানতে পেরে  তিনি পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর জার্মানিতে গিয়ে হিটলারের সঙ্গে  সাক্ষাৎ করেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন৷ বলেন, ‘তোমরা আমার রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।”

১৮ অগাস্ট ১৯৪৫ সালে তিনি বিমানে মাঞ্চুরিয়া যাচ্ছিলেন। এই সফরে তাইহোকু বিমান বন্দরে  বিমান দুর্ঘটনা ঘটে৷ এই দুর্ঘটনার পর  ওনার কি হয়েছিল সেটা এখনো রহস্য। কেউ বলেন বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। কেউ বলেন, নেতাজি আজও ১৩০ কোটি মানুষের মধ্যে বেঁচে আছেন।