স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে জারি লকডাউন টু এর নির্দেশিকা, বাধ্যতামূলক মুখে মাস্ক পড়া, যেখানে সেখানে থুতু ফেললে করা হবে জরিমানা

ইতিমধ্যে দেশজুড়ে করোনাভাইরাস মোকাবিলার জেরে লকডাউন টু এর ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে আর এবার এই লকডাউন টু তে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তরফ থেকে কিছু বড় নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।আর এই নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী এখন বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় মুখে মাক্স পড়া অত্যন্ত বাধ্যতা মূলক আর এবার থেকে জনসাধারণ যেখানে সেখানে থুথু ফেললে সেটি দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ধরা হবে। যেমনটা আমরা জানি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে এসে এই লকডাউন এর মেয়াদকে 14 ই এপ্রিল থেকে আগামী মে মাসের 3 তারিখ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আর আগামী 20 ই এপ্রিলের পর থেকে কিছু গতিবিধির ওপর সরকারের তরফ থেকে অনুমোদন দেওয়া হবে যাদের মধ্যে নাম রয়েছে কৃষি উদ্যান, কৃষি কাজ, কৃষি পণ্য ক্রয়, ম্যান্ডি কিন্তু এক্ষেত্রে বাস-মেট্রো পরিষেবা বন্ধ থাকবে এবং স্কুল-কলেজ ও চালু হবে না। এক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়লে আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাস চলাচল করবে তবে এক্ষেত্রে যাত্রীবাহী পরিষেবা যেমন রেল এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে।

এক্ষেত্রে সিনেমা হল, শপিং মল, কমপ্লেক্স, জিম, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, সুইমিং পুল এগুলি আগামী 3 মে পর্যন্ত বন্ধ থাকিবে। এর পাশাপাশি এই লকডাউন চলাকালীন সময় সমস্ত রকম সামাজিক, রাজনৈতিক, খেলাধুলা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ধর্মীয় স্থান, প্রার্থনার জায়গাগুলি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না। এর পাশাপাশি কারো যদি এই সময় মৃত্যু ঘটে যায় তাহলে সে ক্ষেত্রে তার অন্তিম সংস্কারে কুড়িজন এর থেকেও কম লোকের যোগদান করার অনুমতি রয়েছে।

আর এরকম এক আপৎকালীন পরিস্থিতিতে যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে এবং এটিএম গুলিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ মজুদ থাকে তার জন্য এটিএম শাখা গুলি 24 ঘন্টায় খোলা থাকবে। এ বিষয়ে সরকার স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যাঙ্কগুলিতে নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহ করতে বলেছে।

20 ই এপ্রিলের পর থেকে স্ব-কর্মসংস্থানিত ইলেক্ট্রিশিয়ান, আইটি সম্পর্কিত মেরামতকর্মী, প্লাস্টিক, মোটর মেকানিক, কার্পেটরদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে কর্মরত শিল্পগুলিকে আগামী 30 শে এপ্রিল থেকে সামাজিক দূরত্বের কঠোর নিয়মগুলি পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে যে শিল্পগুলিকে সামাজিক দূরত্বের বিধি অনুসরণ করতে দেওয়া হবে আর এক্ষেত্রে তাদের শ্রমিকদের তাদের চত্বরে বা আশেপাশের ভবনে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

এই মুহূর্তে ভারতে এই করোনাভাইরাস এর দরুন আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে 12 হাজারেরও বেশি।আর ভারতে এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের দরুন মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে 422
জন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে যে তথ্য বেরিয়ে এসেছে সেখানে জানানো হয়েছে দেশে এই মুহূর্তে 10440 জন সংক্রমিত রয়েছে যাদের মধ্যে 1508 জন লোকের চিকিৎসা হয়ে গেছে।আর এই সংক্রমণের ক্ষেত্রে শামিল রয়েছে 72 জন বিদেশী নাগরিকও।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে এসে বলেছিলেন আগামী এক সপ্তাহ করোনার বিরুদ্ধে যে লড়াইটি চলছে সেটিকে আরো কঠোর করা হবে বলে জানান। তার পাশাপাশি আগামী কুড়ি এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষভাবে নজরদারি রাখা হবে রাজ্যে সহ বিভিন্ন জেলাগুলিতে, দেখা হবে কীভাবে রাজ্য এবং জেলাগুলির তাদের লকডাউন অনুসরণ করছে এবং কতটা পরিমাণে সে অঞ্চলগুলি করোনা হাত থেকে নিজেদের কে সুরক্ষিত রাখতে পেরেছে।এক্ষেত্রে যেসব অঞ্চল জেলা বা রাজ্যগুলি এই পরীক্ষায় সফল হবে তাদেরকে আগামী কুড়ি এপ্রিল এরপর কিছু কিছু গতিবিধিতে অনুমতি দেওয়া হতে পারে।