দুর্দান্ত রেকর্ড! কোন ওয়ার্ডে হারিনি, ভোটে জিতে বড় প্রতিক্রিয়া মমতার

নিশ্চিত ছিল জয়। তবে তার চেয়ে বেশি হয়েছে প্রাপ্তি। প্রায় হাজার হাজার পেরিয়ে জয়রথ থেমেছে বিপুলসংখ্যক ভোটে। 58 হাজার 832 সংখ্যক ভোটে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতেছেন তৃণমূল প্রধান মমতা ব্যানার্জি, যা একেবারেই রেকর্ড করা। 2011 সালে নিজের প্রাপ্ত রেকর্ড ভাঙলেন তিনি নিজেই। রবিবার দুপুর দুটো নাগাদ ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই কালীঘাটের বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বেশ কিছুক্ষন ধরে গোটা পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে নিজের বক্তব্য রাখলেন।

বললেন, “ভবানীপুরে ভাষাভাষী নির্বিশেষে সকলে আমাদের ভোট দিয়েছেন। ভবানীপুর শুধু নয়, সারা ভারতের মানুষজন আসলে আমাদের জিতিয়েছেন। কোন ওয়ার্ডেই আমরা হারিনি এবার। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও কম, কোথাও বেশি ভোট পেয়েছিঌ কিন্তু কোথাও হারিনি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভবানীপুর উপনির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির প্রাপ্ত ভোট 84 হাজার 709। যা নিকটতম বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল এর চেয়ে 58 হাজার 832 ভোট বেশি। তিনি পেয়েছেন 26 হাজার 320 ভোট।

প্রাপ্ত ভোটের এই পরিসংখ্যান তুলনা করে দেখা যাচ্ছে যে, 2011 ও 2016 সালের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে অনেকটাই বেশি। 2011 সালে ভবানীপুর উপনির্বাচনে মমতা ব্যানার্জি 54 হাজার বেশি ভোটে জিতেছিলেন। 2016 সালে এই ব্যবধান ছিল প্রায় 26 হাজার এর কাছাকাছি। 2021 সালে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে লড়াই করেছিলেন শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়। জয়ের ব্যবধান ছিল 28 হাজারের বেশি। সেই কেন্দ্র থেকেই উপনির্বাচন লড়েছে মমতা, আর তিনি জিতলেন 58 হাজারের বেশি ভোটে, যা শোভন দেব এর তুলনায় দ্বিগুণ। সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে এসব তথ্য নিজেই জানালেন মমতা ব্যানার্জি।

Advertisements

তৃণমূল প্রধান তার বক্তব্যে আরও জানান, ভবানীপুরে নানা ভাষাভাষীর মানুষও বাস করেন। তবে ভোট দানের ক্ষেত্রে কোনো বিভেদ হয়নি। সকলেই তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন। আর সেই কারণেই রেকর্ড ভোট প্রাপ্তি হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। এর জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। তবে এই রেকর্ড গড়াকে একা লড়াই, একার জয় বলে মোটেই মনে করছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনই জঙ্গিপুর, সামশের গঞ্জের ভোটের ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে।

Advertisements

ওই দুই কেন্দ্রও তৃণমূল প্রার্থীরা এগিয়ে বিপুল ভোটে। তাই সেই লড়াইয়ের দুই কারিগর, তৃণমূল প্রার্থী জাকির হোসেন এবং আমিরুল ইসলাম। এদের লড়াইয়ের কথা বললেন, “আমার দুই সহযোদ্ধা’ রয়েছেন সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে। তারাও লড়ছেন। জয়ের পথে এগোচ্ছেন। তাই আজ ‘ভি’ নয় ‘থ্রি’ সাইন দেখাচ্ছি”। তিনি এ কথা বলার পরপরই, তার সঙ্গে উপস্থিত সকলকে দেখা গেল তিনজনের জন্য জয় সূচক চিহ্ন দেখাতে।