পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রভু শ্রী রামের মামাবাড়ি, পুরান মতে এই স্থানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মাতা কৌশল্যা…

আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা তারপরেই অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পূজন হবে। এর জন্য অযোধ্যায় পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে। একেবারে ঢেলে সাজানো হচ্ছে অযোধ্যা কে। একদিকে যেমন অযোধ্যাকে সাজানো হচ্ছে তেমনি আবার অপরদিকে সাজানো হচ্ছে চাঁদখুরিকে। এই জায়গাটি ছত্রিশগড়ে অবস্থিত। অযোধ্যা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে এই জায়গাটি। এই জায়গাটি ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের মামাবাড়ি বলেই পরিচিত। পুরান মতে এই স্থানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কৌশল্যা। এছাড়া ভগবান শ্রী রামচন্দ্র যখন বনবাসে গিয়েছিলেন তখন এই রাস্তা দিয়ে গিয়েছিলেন।

আর তাই এই পবিত্র ধর্ম স্থানকে সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ছত্রিশগড় সরকার। এই চাঁদখুরিতে রয়েছে এক কৌশল্যা মাতার মন্দির। আর এই মন্দিরের আশেপাশের জায়গা কে ঘিরে ছত্রিশগড় সরকার একটি পর্যটনকেন্দ্র বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও এর আগে এই মন্দিরটি কে দর্শন করার জন্য বহু পর্যটকরা আসতেন। কিন্তু এবার ছত্রিশগড় সরকার এই পর্যটন কেন্দ্রটিতে জাতীয় স্তরের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ওখানকার সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে এই প্রকল্প বাবদ খরচ হবে 15 কোটি টাকা।

একদিকে যেমন অযোধ্যায় রাম মন্দির নিয়ে গেরুয়া শিবির ব্যস্ত রয়েছে তেমনি আবার অপরদিকে ছত্রিশগড়ের কংগ্রেস সরকার চাঁদখুরিকে পর্যটনকেন্দ্র করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। এ বিষয়ে অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, হিন্দুত্ব ভাবাবেগ হারানোর ভয়ে কী কংগ্রেস সরকার এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় মানুষজনের কাছে এই চাঁদখুরি জায়গাটি অনেক পবিত্র জায়গা। প্রত্যেক বছরই এখানে কালীপুজোর সন্ধ্যাবেলা তে কৌশল্যা মাতার মন্দিরে পুজো দেয় সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা। বাইরে থেকেও অনেকে এখানে পুজো দিতে আসেন এদিন।

এই মন্দিরের সামনে একটি লেক রয়েছে সেখানে পুজো দেওয়ার পর সকলে প্রদীপ ভাসান। তাই এই প্রকল্পটি যাতে আগের বছর কালীপুজোর আগে সম্পূর্ণ হয়ে যায় তার জন্য সম্পূর্ণরূপে চেষ্টা করছে সেখানকার সরকার।
চাঁদখুরি জায়গাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ।চারিদিকে সবুজ ঘন জঙ্গল। একটি লেকের মাঝখানে অবস্থিত এই কৌশল্যা মাতার মন্দির। এই মন্দিরে যাওয়ার জন্য একটি কংক্রিটের ব্রিজ তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই কাজটি নতুন প্রকল্পটির মধ্যেই রয়েছে। এ ব্রিজটি এমনভাবে তৈরী করা হয় যাতে মনে হবে কোনো মানুষ ব্রিজটি হাত দিয়ে ধরে রেখেছে।

বিকেলের পর যখন সূর্য অস্ত যায় তখন সেই দৃশ্য আরো অপূর্ব লাগে। তার সঙ্গে কানের মধ্যে ভেসে আছে ভক্তিগীত। সব মিলিয়ে এই জায়গাটি যে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ জায়গা তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। এই পর্যটন কেন্দ্রকে কেমন ভাবে গড়ে তোলা হবে তার নকশা ঠিক করে ফেলেছে ছত্রিশগড় সরকার। ইতিমধ্যেই এই নকশা প্রকাশ করেছেন ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল।

More Stories
বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট এ দেখা যাবে না অখিলেশ যাদবকে।