মোদী-শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা নিয়ে কী বললেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি! দেখে নিন…

রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির কথা ছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। কিন্তু এ রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির প্রসঙ্গ এড়ালেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি। প্রসঙ্গত সন্দেশখালি সংঘর্ষের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কড়া বার্তায় রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এমনকি কেন্দ্র যদি মনে করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন দরকার তাহলে সেই পথেই হাঁটতে পারে তারা, রবিবার মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরীর কথাতেও এমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে।

কিন্তু আজ প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করার পর সেই প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন রাজ্যপাল।
রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী বলেন,” প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে আমার যা বলার ছিল আমি সব বলে দিয়েছি। এখন তারা কি সিদ্ধান্ত নেবেন সেটি সম্পূর্ণ তাদের উপর নির্ভর করছে।” প্রসঙ্গত প্রশাসনিক বৈঠক এ যোগ দেওয়ার জন্য দিল্লি গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে সন্দেশখালি সংঘর্ষ নিয়ে রিপোর্ট জমা দেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী।

বৈঠক করার আগে রাজ্যপাল সাংবাদিকদের বলেন,” রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার যা জানার সেটি প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট ভাবে জানাবো।” এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপাল বৈঠক করার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন। ন্যাজাট কাণ্ডে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কড়া বার্তার মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যে কতটা ব্যর্থ তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বার্তায় দ্বারা প্রমাণিত হয়। এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে রাজ্য সরকারকে বার্তা দেওয়া হয়, আইন শৃঙ্খলা ও শান্তি ফেরাতে যেকোনো পদক্ষেপ নিক রাজ্য সরকার।

কোনও অফিসার যদি তার নিজের দায়িত্ব পালন না করে বা কোথাও গাফিলতি দেখা যায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিক। প্রসঙ্গত শনিবার সন্ধ্যার সময় তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে সন্দেশখালির ন্যাজাটের হাতগাছি। ঘটনাস্থলে এখনো পর্যন্ত 1 তৃণমূল কর্মী সহ 2 বিজেপি কর্মীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় দলই দাবি করছে তাদের পাঁচজন করে কর্মী এখনো নিখোঁজ। এলাকা জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারগুলিকে প্রতিটি দিন আতঙ্কে কাটাতে হচ্ছে।

পুলিশ প্রশাসন কেও এই সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা দেয় যাতে ওখানকার পরিবেশ শান্ত হয়ে ওঠে। আজ সমস্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যায় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর 6 সদস্য দল।

Related Articles

Close