দেশনতুন খবরবিশেষব্যবসা

অর্থনৈতিক প্যাকেজের তৃতীয় দফার বৈঠকে কৃষি, মৎস্য, পশুপালন ভিত্তিক একাধিক ঘোষনা অর্থমন্ত্রীর

গত মঙ্গলবার দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে করোনা পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে যে আত্মনির্ভর ভারত প্যাকেজের কথা জানিয়েছিলেন আজ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ সেই প্যাকেজটির তৃতীয় দফার রূপরেখার ঘোষণা সম্পন্ন করলেন। যেখানে এর আগে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের এই আর্থিক প্যাকেজের প্রথম দিনের বিস্তারিত ঘোষণাতে দেখতে পাওয়া যায় দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতি ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা করতে।

তবে সে ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান, অর্থের যোগান কিংবা পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে যে টাকা তুলে দেবার কথা তা ঘোষণা করা হয়নি। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার দিন প্যাকেজের দ্বিতীয় দফার আলোচনাতে তিনি পরিযায়ী শ্রমিক, হকার, ক্ষুদ্র চাষী ও কর্মসংস্থানের জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপের ঘোষণা করেন। আর আজ ছিল সেই প্যাকেজ এর তৃতীয় দফার আলোচনা যেটি আজ কিছুক্ষণ আগেই সম্পূর্ণ হয়েছে। আজ শুক্রবার দিন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের এই ঘোষণার মধ্যে ছিল কৃষি, মৎস্য, পশু পালন, দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে একাধিক আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা। এই দিনের ঘোষনাতে অর্থমন্ত্রী জানান প্রায় 1 লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ দেশের কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রের জন্য 11 টি ত্রাণ প্যাকেজের ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এই দিন। যাদের মধ্যে আটটি প্যাকেজকে মূলত সংযোগ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো কে মজবুত করার উদ্দেশ্যে এবং বাকি তিনটি প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তনের জন্য।তবে এই দিনেই সাংবাদিক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্রের তরফ থেকে গত দুমাস ধরে এই লকডাউন চলাকালীন কৃষকদের কাছ থেকে প্রায় 78 হাজার 300 কোটি টাকার খাদ্য শস্যের ক্রয় করা হয়েছে।

আর যেটি দেওয়া হয়েছে কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি গত দু’মাসে প্রধানমন্ত্রীর কিষান যোজনার দরুন চাষীদেরকে দেওয়া হয়েছে 18 হাজার 700 কোটি টাকা। এর পাশাপাশি দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা হবে 15 হাজার কোটি টাকা কারণ করোনা পরিস্থিতির জেরে অর্ধ বর্ষে দুগ্ধ সমবায় গুলির জন্য 2 শতাংশ সুদে ছাড় দেয়া হবে যার ফলে প্রায় 5000 কোটি টাকা বাঁচবে এবং এর দরুন লাভবান হবে দু’ কোটি চাষী। এর পাশাপাশি মৎস্য চাষীদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী যে ঘোষণা করেন সেখানে তিনি জানান গত দু’মাসে 282 টি হ্যাচারির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

যার ফলে সমুদ্রের মাছ ধরা এবং মৎস্য পালন সংক্রান্ত অন্যান্য সবকিছুর অনুমতি রয়েছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণায় মৎস্য সম্পদ যোজনার জন্য রয়েছে 20 হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ। যার ফলে দেশের 55 লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তবে এখানেই শেষ নয় এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য 10 হাজার কোটি টাকা, রোগ নিরাময়ে 53 কোটি পশুর টিকাকরন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী মৌমাছি পালন ও ভেষজ চাষে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন যার দরুন মৌমাছি পালনের জন্য 500 কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ও ভেষজ চাষের ক্ষেত্রে চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন যা তিনি এই দিন ঘোষণাতে জানান।

Related Articles

Back to top button