অবসর নিয়ে নিলেন গৌতম গম্ভীর। জেনে নিন তার ক্রিকেট জীবনের নানা অজানা তথ্য।

ফের ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীরা হারালেন তাদের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান কে। তারা হারালেন তাদের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক কে অর্থাৎ অবসর ঘোষণা করলেন ভারতের অন্যতম বাঁহাতি ব্যাটসম্যান গৌতম গম্ভীর। ভারতের ক্রিকেট প্রেমী সমর্থকরা আর দেখতে পাবেন না তাদের বিশ্বকাপ জয়ী প্লেয়ার কে ব্যাটিং করতে। এদিন গৌতম গম্ভীর সকল ভারতবাসীকে চমকে দিয়ে ক্রিকেটের সমস্ত ফরমেট কে বিদায় জানিয়ে নিজের অবসর ঘোষণা করে দিলেন।ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে এই গৌতম গম্ভীর তাদের অন্যতম পছন্দের প্লেয়ার হওয়ার কারণ হচ্ছে ভারতের টিম যখনই কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন অর্থাৎ ব্যাটিং অর্ডারে ভাঙ্গন ধরেছে তখনই এই গৌতম গম্ভীর পালন করেছেন ত্রাতার ভূমিকা।

২০০৭ সালে প্রথমবার যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয়েছিল তখন ভারত খেলেছিল সম্পূর্ণ একজন নুতন অধিনায়কের দায়িত্বে। এর ফলে সেই সময় টিমটি অতটা পরিনত ছিল না। তার ফলে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে বারবার ভাঙ্গন দেখা দিয়েছিল এমনকি বাংলাদেশর কাছেও ভারত কে পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই সময় ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সব থেকে বেশি রান করে ভারতীয় সমর্থকদের কাছে নিজেকে একটি অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন গৌতম গম্ভীর। ফাইনালে সর্বোচ্চ রান করে গৌতম গম্ভীর ভারতকে নিয়ে গিয়েছিলেন জয়ের সম্মুখে এবং সেই সময় ভারত জিতেছিল প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।এরপর আরেকটি বিশ্বকাপও আমরা গৌতম গম্ভীরের হাত ধরে পাই। ২৮ বছর পর ভারত পেয়েছিল বিশ্বকাপ অর্থাৎ ১৯৮৩ সালের পর ২০১১ সালে ভরত পায় দ্বিতীয় বারের মতন বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপই ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের ভগবান অর্থাৎ শচীন টেন্ডুলকারের জীবনের শেষ বিশ্বকাপ এবং সেই বিশ্বকাপে শ্রীলংকার ২৭৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা কাছে প্রথমেই ভারতের ব্যাটিং দুর্দশা নেমে আসে।


সেই ম্যাচে ভারতের অন্যতম সেরা ওপেনার বীরেন্দ্র শেওবাগ দ্বিতীয় বলে আউট হয়ে ফিরে যান সাজঘরে। তার কিছু ওভার পরই নিজের ব্যক্তিগত ১৮ রান করেই জীবনের শেষ বিশ্বকাপের ম্যাচ থেকে আউট হয়ে ফিরে যেতে হয় শচীন টেন্ডুলকার কে। সেই সময় ভারতের সমর্থকরা প্রায় আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন যে তারা আর বিশ্বকাপ জিতবে। কিন্তু সেই সময় নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন গৌতম গম্ভীর। ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়ের সময় মাত্র ২২ বছর বয়সী বিরাট কোহলিকে সঙ্গে করে নিয়ে যায় ভারতকে জয়ের মুখে। সেই ম্যাচে ব্যক্তিগত ৯৭ রান করে গৌতম গম্ভীর করেছিলেন সেই ম্যাচে সর্বোচ্চ রান এবং ভারত কে জিতেয়ে ছিলেন দ্বিতীয় বারের মত বিশ্বকাপ।তারপর আইপিএলের নিলামে উনি আসেন কলকাতা নাইট রাইডার্স টিমে। যে টিমের ওপরে কেউ ভরসা করতে পারত না, যে টিমের সমর্থকরা কোন দিন ভাবতে পারত না যে আমরাও জিতব। সেই টিমের ক্যাপ্টেন হয়ে তিনি জিতিয়েছেন ২ বার আইপিএল ট্রফি। তারপর উনি হয়ে ওঠেন কলকাতা নাইট রাইডার্স টিমের সমর্থকদের নয়নের মনি। এবং সবথেকে পছন্দের আইপিএল প্লেয়ার।

এক কথায় বলা যায় ভারতীয় ক্রিকেটে গৌতম গম্ভীরের অবদান অনস্বীকার্য। ভারতীয় জাতীয় দল হোক বা আইপিএল সব ক্ষেত্রে গৌতম গম্ভীর দিয়েছেন নিজের ১০০ শতাংশ। এই সকল নানান কারণের জন্য গৌতম গম্ভীরের অবসরের খবর পেয়ে ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীরা গভীর ভাবে দুঃখিত হয়। এবং তারা তাদের দুঃখের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভাবে জানিয়েছেন।

অনেক অনেক ক্রিকেটপ্রেমী বিভিন্নভাবে বিসিসিআইকে দায়ী করেছেন। কারণ গৌতম গম্ভীর এর মত একজন এত বড় মাপের ক্রিকেটার যিনি ভারতকে জিতিয়েছেন দুটি বিশ্বকাপ তার ফেয়ারওয়েল হিসাবে অন্তত একটা ম্যাচ দেওয়া উচিত ছিল বিসিসিআইয়ের।
#অগ্নিপুত্র

Related Articles

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Close