গণেশ চতুর্থী স্পেশাল : গণেশ ঠাকুর সম্পর্কে অজানা কয়েকটি তথ্য যা প্রত্যেকের জানা উচিত…

উৎসবের মরশুম কার্যত ভারতে শুরু হয়ে গিয়েছে, প্রতিবারের মতোই এবারেও নির্দিষ্ট তারিখ ধরে শুরু হয়েছে দেশের উৎসবের মরশুম। তবে, 2020 সালের যেকোনও উৎসবের থেকে আলাদা অন্যবারের উৎসবগুলি। আগামীকাল 22 শে অগাস্ট 2020 সালে আয়োজিত হতে চলেছে গণেশ চতুর্থী। শিঙার আওয়াজে, নাকাড়ার শব্দে প্রতিবার গণেশকে আহ্বান করে মহারাষ্ট্র। তবে এবার সেই রাজ্যই করোনার প্রবল দাপটে রয়েছে। ফলে লকডাউনের মধ্যে সেই চেনা আড়ম্বর গণেশ চতুর্থীতে দেখা যাবে না মহারাষ্ট্রে।

 

উল্লেখ্য, 21 তারিখের রাত থেকেই পড়ে যাচ্ছে চতুর্থীর তিথি। 21 অগাস্ট রাত 11.02 মিনিটে পড়ছে গণেশ চতুর্থীর তিথি। এই তিথি শেষ হচ্ছে 22 শে অগাস্ট সন্ধ্যে 7:57 মিনিটে। দেশের অনেক জায়গায় গণেশ চতুর্থী উৎসব ধুমধাম করে পালন করা হয়। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের বিশাল বড় করে এই উৎসব পালন করা হয়। এই উৎসব বহুকাল ধরে চলে আসছে আমাদের দেশে। কিন্তু এবছর করোনা মহামারীর জন্য অত ধুমধাম করে পালন করা হবে না গণেশ চতুর্থী। ভক্তরা শ্রদ্ধা এবং আস্থার সাথে গণেশের পুজো করেন।

 

এদিন বহু দর্শনার্থীরা ভিড় করেন এই পুজো দেখার জন্য। এরপর পূজো হয়ে গেলে গণেশের মূর্তি কে জলে বিসর্জন করা হয়। এই সমস্ত কিছু নিয়মকানুন গুলো অবশ্যই সকলেই আমরা জানি কারণ আমরা প্রত্যেক মাসে কিছু না কিছু পুজোর সাথে যুক্ত থাকি। কিন্তু এবার আপনাদের গণেশ ঠাকুর এবং গণেশ চতুর্থী উৎসব নিয়ে কিছু অজানা তথ্য জানাবো।
1. আমাদের পুরাণের মতে দেবী পার্বতীর দুই সখী জয়া এবং বিজয়া তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে মহাদেবের জন্য নন্দী রয়েছে যে সবসময় মহাদেবের কথা মেনে চলেন। কিন্তু পার্বতীর জন্য এমন কেউ ছিলনা। তাই তার জন্য এমন একজন থাকা উচিৎ যে সবসময় তার কথা শুনে চলবে। এরপরে সৌন্দর্যকে বাড়ানোর জন্য যে চন্দনবাটা লাগিয়েছিলেন তার গায়ে তিনি সেই চন্দন বাটা দিয়ে গণেশ মূর্তি তৈরি করেন তিনি। এর পরেই নাকি তার প্রাণ সঞ্চার হয়।

 

2. গণেশের প্রায় 108 টি নাম, প্রাচীন সংস্কৃত অভিধান অমরকোষ গ্রন্থে‘গণেশ’ নামের আটটি সমার্থক শব্দ পাওয়া যায়। ‘বিনায়ক’, ‘বিঘ্নরাজ’ (যা ‘বিঘ্নেশ’ নামেরও সমার্থক), ‘দ্বৈমাতুর’ (যাঁর দুইজন মা), ‘গণাধিপ’ (যা ‘গণপতি’ ও ‘গণেশ’ নামেরও সমার্থক), ‘একদন্ত’ (যাঁর একটি দাঁত, এখানে গণেশের হস্তীমুণ্ডের বাইরের দাঁতের কথা বলা হয়েছে), ‘হেরম্ব’, ‘লম্বোদর’ (যাঁর স্ফীত উদর) ও ‘গজানন’ (যাঁর হাতির মতো মাথা)। মারাঠি ভাষায় বলা হয় ‘বিনায়ক’, ‘বিঘ্নেষ’,’বিঘ্নেশ্বর’। তামিল ভাষায় দুটি জনপ্রিয় নাম হল পিল্লাই ও পিল্লাইয়ার। বর্মি ভাষায় গণেশ ‘মহা পেইন্নে’। থাইল্যান্ডে গণেশের জনপ্রিয় নামটি হল ‘ফ্রা ফিকানেত’। শ্রীলঙ্কার সিংহল বৌদ্ধ অঞ্চল গুলিতে গণেশ ‘গণ দেবিয়ো’ নামে পরিচিত।

3. জন্মের পর গনেশকে সবাই পার্বতীর পুত্র বলে সম্বোধন করতে। এরপর তার নাম রাখা হয় গণেশ।
4. গণেশ চতুর্থীর দিন নাকি চাঁদের দিকে তাকাতে নেই কারণ পুরান মতে চন্দ্র দেব নাকি গণেশের ওই গজ মুখ দেখে হেঁসে ফেটে পড়েছিলেন। এরপরে নাকি গণেশ রেগে গিয়ে নাকি অভিশাপ দিয়েছিলেন যে যদি গণেশ চতুর্থীর দিনকেও চাঁদের দিকে তাকায় তাহলে তার জীবনের সমস্যাগুলো ঘনিয়ে আসবে।

5. 1983 সালে লকমন্য তিলক প্রথম সর্বজনীনভাবে গণেশ চতুর্থীর পুজো শুরু করেন।
6. 2018 সালে মুম্বাইতে গণেশ চতুর্থীর দিন 10,000 মণ্ডপে পূজা করা হয় এবং ঐদিন বাড়ি ঠাকুরের সংখ্যা ছিল 1,80,650। এবং যত দিন যাচ্ছে ততই সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।
7. পুরান মতে গণপতির ঋদ্ধি এবং সিদ্ধির সঙ্গে বিবাহ হয়। এবং তার দুটি সন্তানও ছিল এদের নাম রাখা হয়েছিল লাভ এবং ক্ষেম।
8. শুধুমাত্র মহারাষ্ট্র নয় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কর্ণাটক গণেশ পুজো ধুমধাম করে করা হয়। এমনকি নেপালের তেরাই অঞ্চলেও গণেশ চতুর্থী পালন করা হয়।