ওজন ঝরিয়ে বাজিমাত! ২০০ কেজি থেকে সোজা ৮৫ কেজিতে এলেন কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্য্য

ধীরে ধীরে ওজন বেড়েই যাচ্ছিল, একসময় হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল ওজন। তখনই তিনি ঠিক করেন এবার ওজন কমাতে হবে কিছুটা। অসাধারণ কোরিওগ্রাফার হলেও নিজের ওজনের সঙ্গে তিনি ছিলেন একেবারেই বেমানান। তাই এক ধাক্কায় ৮৫ কিলোগ্রাম ওজন কমিয়ে ফেললেন বলিউড স্টার কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্য্য| এই কোরিওগ্রাফারকে আমরা সকলেই খুব ভালভাবে চিনি। ক্যাটরিনা কাইফের চিকনি চামেলি হোক অথবা ঋত্বিক রোশনের নাচের স্টেপ, যা দেখে আমরা মুহূর্তের মধ্যে মুগ্ধ হয়ে যাই তার পেছনে রয়েছেন এই মানুষটি।

বহু মানুষকে নাচের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছেন তিনি। পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। তবে রোগা হওয়ার পাশাপাশি তিনি বর্তমানে এনেছেন তাঁর নাচের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন। বিখ্যাত ডান্স কোরিওগ্রাফার নিজে বলেন, এতদিন এত ওজন নিয়ে আমি নাচতাম। কিন্তু এবার আমার নাচে অনেক এনার্জি চলে এসেছে।

এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে তিনি এতটা ওজন কমিয়ে ফেললেন। ২০১৫ সালে গণেশের ওজন ছিল ২০০ কিলোগ্রাম। তারপরে তিনি ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ওজন কমানোর আপডেট দিতে থাকেন তিনি। এক বছরে প্রায় ৯৫ কিলোগ্রাম ওজন কমিয়ে ফেলেছেন তিনি। মানুষের বাঁকা চোখের দৃষ্টি পাল্টানোর জন্য ছিল তাঁর এই পদক্ষেপ।

কোরিওগ্রাফার বলেন, “প্রথম দুমাস আমার কাছে ভীষণ ভাবে চ্যালেঞ্জিং ছিল। সাঁতার শিখতে প্রায় ১৫ দিন সময় লেগেছিল আমার। ধীরে ধীরে প্রশিক্ষক অজয় নাইডু আমাকে শেখান কিভাবে সাঁতার কাটতে হয়। এছাড়া প্রায় ৭৫ মিনিট ধরে ১১টি অনুশীলন করতাম আমি। ধীরে ধীরে দেড় বছরে ৮৫ কেজি ওজন কমাতে পেরেছি আমি”।

শুধুমাত্র ওয়ার্কআউট নয়, নিজের খাবারের তালিকায় এনেছিলেন মারাত্মক পরিবর্তন। ডায়েটিং করার সময় তিনি রাত ৮ টার পরে ও সকাল ১১ টার আগে খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। গ্রিন টি, সুপের মত তরল খাবার গ্রহণ করতেন বেশিরভাগ সময়। অত্যাধিক খিদে পেলে ডার্ক চকলেট খেতেন। চর্বি জাতীয় খাবার পুরোপুরি বর্জন করেছিলেন তিনি। শাকসবজি এবং ফল খেয়ে নিজের ওজন কমানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

জাতীয় পুরস্কার জয়ী গণেশ বলেন, “যেহেতু আমি একজন নৃত্যশিল্পী। তাই খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমাতে পেরেছিলাম আমি। যখন ওজন বেশি ছিল তখন আমি নাচলে ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। এখন দ্বিগুণ শক্তিতে নাচ করতে পারি”। এইভাবে কঠোর পরিশ্রম নিয়মিত অনুশীলন দ্বারা তিনি নিজেকে ফিট করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রত্যেক দিনের ওয়ার্কআউটের রুটিনের ছবি ইনস্টাগ্রামের শেয়ার করেন, যা নিঃসন্দেহে বহু স্থূলকায় ব্যক্তির জন্য উপকারী হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।