এবার থেকে রেশন কার্ড না থাকলেও প্রতিমাসে মিলবে ৫ কেজি ফ্রী তে খাদ্য সামগ্রী

করোনা মহামারীর ছোবলে সারা দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর মেরুদন্ড যখন প্রায় ভঙ্গুর অবস্থায় বিশেষত দিন আনা দিন খাওয়া, পিছিয়ে থাকা নিন্মমধ্যবিত্ত শ্রেনী, যারা দুমুঠো ভাতের জোগানের জন্য দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত প্রতিদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অবিরত খুঁজে চলেছে বেঁচে থাকার সন্ধানের তাগিদে, তখনই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রমদপ্তর পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চালু করলো নতুন প্রকল্প ‘পরিযায়ী সহায়’। বাংলার সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের মুখে অন্ন তুলে দিতেই সরকারি এই উদ্যোগ।

এই প্রকল্পে প্রাথমিক ভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের তথ্য নথিভুক্ত করা হবে এবং তার পরে পৌঁছে যাবে এই প্রকল্পের সুবিধা। দুর্গা পুজোর আগেই সমস্ত নথি সংগ্রহের কাজ সংগ্রহ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ‘ পরিযায়ী সহায়’ এর আওতায় কোন‌ও পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে রেশন কার্ড না থাকলেও মিলবে এই সুবিধা। এর জন্য রাজ্য সরকার রেশন কার্ডহীন কুপন দেবে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য। প্রতি মাসে রেশন দোকানে এই কুপন দেখিয়েই তাঁরা তাঁদের বরাদ্দ ধার্য্য সংগ্রহ করতে পারবেন বিনামূল্যে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এর পরেই এই প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছে খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ বিভাগ। এই প্রকল্পের আওতায় পরিযায়ী শ্রমিক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা মাসিক ৫ কেজি চাল ফ্রিতে সংগ্রহ করতে পারবেন। এই সমস্ত পরিবারকে চিহ্নিতকরণের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করেছে শ্রম দপ্তর। এই পর্যবেক্ষকেরা ব্লকে ব্লকে চিহ্নিত করার কাজ করছেন।


এদিকে দুয়ারে রেশন নিয়ে ইতিমধ্যেই কোলকাতা হাইকোর্টের জনস্বার্থ মামলা রুজু হয়েছে। মামলাকারী আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ রাখা হয়েছে যে দুয়ারে রেশন নিয়ে সরকার কোনপ্রকার গনবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নি। বাড়ি বাড়ি গেয়ে রেশন বন্টন আইন পরিপন্থী বলে দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পরিকাঠামোগত খামতির ফলে রেশন ডিলার দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেশন বন্টন অলীক বলেও তাদের মত।