অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে চলতি মাসেই রেশন দোকানে মিলতে চলেছে মুগ-মসুর ডাল..

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এই লকডাউন ঘোষণা করার পরে বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। তাই গরিব মধ্যবিত্ত মানুষের যাতে দুবেলা দুমুঠো খাবার জুটে তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার রেশনে বিনামূল্যে চাল-গম দেওয়ার কথা ঘোষণা করে প্রত্যেক মাসে। সেইমতো এখনো পর্যন্ত প্রত্যেক মাসে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেওয়া হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে। চাল,গম এর সাথে সেই সময় ডাল দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল সরকারের তরফ থেকে কিন্তু কোনো কারণবশত তা দেওয়া হয়নি।

কিন্তু এবার থেকে সাধারণ মানুষেরা রেশন দোকানে চাল ও গম এর সাথে ডালও পাবেন বিনামূল্যে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার খাদ্য সাথী প্রকল্পে এই ডাল দেওয়া হবে জুন, জুলাই এবং আগস্ট মাস পর্যন্ত। কিন্তু এই সুবিধা সবাই পাবেন না। শুধুমাত্র যাদের AAY, PHH এবং SPHH কার্ড রয়েছে তারাই এই সুবিধা পাবেন। সরকারের নির্দেশ অনুসারে প্রত্যেক পরিবার পিছু 1 কেজি করে মুসুর ডাল দেওয়া হবে। 16 তারিখ থেকে 30 শে জুন পর্যন্ত এই ডাল দেওয়া হবে প্রত্যেকটি রেশন দোকানে। এর পরবর্তী জুলাই এবং আগস্ট মাসে ঠিক একইভাবে প্রত্যেক পরিবার পিছু 1 কেজি করে মুগ ডাল দেওয়া হবে।

জুলাই মাসের 15 তারিখে এবং আগস্ট মাসের 16 তারিখ থেকে এই বিনামূল্যে মুগডাল দেওয়া হবে প্রত্যেকটি রেশন দোকানে। করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ভীড় যাতে না হয় তার জন্য গোটা মাস রেশন দোকান খোলার জন্য নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সেই সুবিধার কথা জানিয়ে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে গেলে একেবারে চাল, আটা, গরম এবং ডাল নেওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয় যাদের অন্ত্যোদয় কার্ড রয়েছে তারা একই সাথে 13.50 টাকা কেজি হিসেবে চিনি ও কিনতে পারবেন।

মার্চ মাস থেকে লকডাউন ঘোষণা করার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন আগামী ছয় মাস বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হবে।তবে এই নিয়ে পরবর্তীকালে কীভাবে রেশন বিলি হবে তা নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এবং বহু রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে কারচুপি করার অভিযোগও উঠেছে। প্রত্যেকটি রেশন দোকান ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শুধু তাই নয় খাদ্য সচিব কে পরিবর্তন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর গত মে মাস থেকে আজ সেরকম রেশনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসেনি এবং বেশ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে রেশন দেওয়া হচ্ছে সাধারন মানুষদের।

এমন কী যাদের ডিজিটাল রেশন কার্ড নেই বা করতে দেওয়া হয়েছে এখনো পর্যন্ত তা আসেনি তাদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ‘ফুড কুপন’ এর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে তারা রেশন দোকানে গিয়ে তাদের প্রাপ্য চাল, গম, ডাল সমস্ত কিছু নিতে পারবেন।