চলে গেলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের আরো এক সৈনিক! স্বয়ং নেতাজি ওনাকে দিয়েছিলেন শের-এ- হিন্দ উপাধি…

আজাদ হিন্দ ফৌজ বা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (Indian National Army বা INA) ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের দ্বারা গঠিত একটি সশস্ত্র সেনাবাহিনী। 1942 সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই বাহিনী গঠিত হয়।তবে আজকে আমাদের যে আলোচ্য বিষয়টি থাকতে চলছে সেটি এই আজাদ হিন্দ ফৌজ বা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির এক সৈনিক কে নিয়ে। গত মঙ্গলবার দিন সকালে পৈতৃক ভিটাতে নিজের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন আরো এক আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈনিক শের সিং, তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে আজাদ হিন্দ ফৌজ এর সৈনিক হিসাবে দেশকে স্বাধীনতা প্রদানে কাজ করেছিলেন।

মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল 98 বছর এবং তিনি বিগত দুই বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং উনার চিকিৎসার খরচ সরকার বহন করছিলেন। মান্ডি জেলার সরকাঘাটের পরসদা হবানি পঞ্চায়েতের ত্রিলোচন কোঠি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এই শের সিং। গত মঙ্গলবার দিন সম্পূর্ণ রাজকীয় সম্মানের সাথেই উনার শেষ কৃত কার্য সম্পন্ন করা হয়। উল্লেখ্য এই শের সিং 25 বছর বয়সেই সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগদান করেন।

এমনকি তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে রেঙ্গুন ও বার্মায় লড়াই করেছেন । তার বাহাদুরির সাথে লড়াই করার জন্যই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তাকে শের ই হিন্দ উপাধিতে সম্মানিত করেছিলেন। এমনকি ওনার দল দুই বছর পর্যন্ত বার্মার ভয়ঙ্কর জঙ্গলে জীবন ব্যথিত করে ইংরেজদের সাথে লড়াই করে গেছেন।যখন তিনি যুদ্ধ শেষ করে জরাজীর্ণ অবস্থায় নিজের বাড়ি পৌঁছান ততদিনে দেশ স্বাধীন হয়ে গিয়েছিল তারপর তিনি নিজের জমিতে চাষবাস শুরু করেন এবং সংসারের প্রতি নিজের কর্তব্য পালন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এরপর পরবর্তীকালে সরকার যখন আজাদ হিন্দ ফৌজের জওয়ানদের জন্য পেনশন প্রকল্প চালু করেন তখন তিনি সম্মানের সাথে নিজের পরিবারের ভরণ পোষণ করেন। তবে শুধু তাই নয় তিনি তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিবছর 15 আগস্ট ও 26 শে জানুয়ারি অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। প্রশাসনের তরফ থেকেই তাকে সম্মানের সাথে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হতো এবং বাড়ি পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করে দেওয়া হত। শুধু তাই নয় এই সব অনুষ্ঠানে তাকে বিশিষ্ট অতিথি সম্মান ও দেওয়া হতো। এবং যখন তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে তখন স্থানীয় প্রশাসন তার শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ করেছিল।

Related Articles

Close