সব বাধা কাটিয়ে ফ্রান্সের কন্যা এলেন বিহারে বিয়ে করতে, সাক্ষী রইল গ্রামবাসী

ভালোবাসা মানে না কোন জাত, না মানে কোন ধর্ম, না মানে কোন বাধা। এমন অনেক গল্প আমরা দেখতে পাই সিনেমার পর্দায়। কিন্তু সিনেমার পর্দার গল্প যে বাস্তবে পরিণত হয়ে যায়Love does not mean any race, does not mean any religion, does not mean any obstacle.  We see so many stories on the movie screen.  But the story of the movie screen that became a reality সেটাও আমরা দেখতে পাই অনেক সময়। এমন একটি গল্পের কথা আজকে আপনাকে বলব। এক বিদেশি নারী সাত সমুদ্র পার হয়ে বিহারের এক বেসরকারি যুবককে বিয়ে করেন। ভালোবাসার এই এক অনন্য উদাহরণ। এই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন মেয়েটির বাবা-মা ও।

আসলে ব্যাপারটা হলো, ফ্রান্সের বাসিন্দা মেরি লর হেরেল সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে এসেছিলেন ভারতবর্ষে। বিহারের বেগুসারাইতে বসবাসকারী তার মনের মানুষকে বিয়ে করেন। গত রবিবার পরিবারের সকলের উপস্থিতিতে আরম্ভর সহকারে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এমন একটি অভিনব বিয়ে দেখার জন্য বিবাহ মন্ডপ উঠছে করেছিলেন গ্রামবাসী।

বিহারীবাবু এবং বিদেশি পাত্রীর এই জুটি দেখার জন্য সকলেই উদগ্রীব ছিলেন। বিয়ের পরদিনও বিদেশি কনের মুখ দেখার জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামবাসী। বিহারী এই ছেলেটির নাম রাকেশ এবং সে বিহারের একটি ছোট গ্রাম কাটারিয়ার বাসিন্দা। পিতার নাম রামচন্দ্র কুমার। যে বিদেশি মহিলার কথা বলা হচ্ছে, তিনি প্যারিসের একজন ব্যবসায়ী মহিলা। তার নাম মারি লর হেরেল।তাদের দেখা হয়েছিল বিদেশে এবং তারপর প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যান দুজনে।

ভারতবর্ষে এই বিয়েতে অংশগ্রহণ করতে এসেছিলেন ওই বিদেশিনীর বাবা-মা ও। বিয়ের এক সপ্তাহ পরেই বরকে নিয়ে প্যারিসে ফিরে যান ওই বিদেশি কন্যা। কিভাবে তাদের এই বিয়ে সম্পন্ন হল, তা জানিয়েছেন স্বয়ং বরের বাবা। রাকেশ দিল্লিতে টুরিস্ট গাইড হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময় ওই বিদেশি নিয়ে এসেছিলেন ভারতবর্ষে। দিল্লিতে দুজনের পরিচয় হয়। আলাপ হয় এবং পরে মোবাইলের মাধ্যমে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এরপর রাকেশ পোশাকের ব্যবসা শুরু করেন এবং ওই বিদেশিনী ব্যবসার একজন অংশ হন। এইভাবে দুজনের ফিল্ম আরো বেশি গভীর হয়।

বিয়ের কথা যখন জানতে পারেন, দুই পরিবারের সদস্যরা তখন দুই পরিবারের সকলেই বিয়েতে রাজি হয়ে যান। মেরি ভারতীয় সংস্কৃতি এবং সভ্যতাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি চেয়েছিলেন, তাঁর শ্বশুরবাড়িতে হিন্দুরীতি অনুযায়ী বিয়ে হোক। বাবা মাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতবর্ষে আসেন তিনি এবং বিয়ে সম্পন্ন করেন। এইভাবে একটি অসম প্রেম পূর্ণতা পেল।