এই সাতটি কারণে গোটা ভারতবাসী সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবে অটল বিহারী বাজপায়ীর কাছে..

অটলবিহারী বাজপেয়ীর নাম কোন ভারতবাসীর শোনেনি এমনটা হতে পারে না। ইনি হলেন প্রথম অ-কংগ্রেসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী যিনি পাঁচ বছরের  মেয়াদ সম্পূর্ণ করেছিলেন। একজন ভালো মানুষ, দেশের নেতা, কবি ও সাহিত্য অনুরাগী হিসেবে সারা দেশবাসীর মনে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন। একজন প্রশাসক হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মোট 10 বারের সাংসদ ইনি এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। 1999 থেকে 2008 মেয়াদকাল এর মধ্যে বাজপেয়ীর নেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

যে সিদ্ধান্তগুলি দেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এই সমস্ত সিদ্ধান্ত গুলির মধ্যে কয়েকটি হলো সর্বশিক্ষা অভিযান, পোখরান, সোনালী চতুর্ভুজ, টেলিকমিউনিকেশন বিপ্লব, রাষ্ট্রীয় সংস্থা বেসরকারিকরণ, বিজ্ঞান ও গবেষনায় উন্নতি।
এই সমস্ত সিদ্ধান্ত গুলির ফলে আমাদের দেশের কি কি লাভ হয়েছে তা নিচে আলোচনা করা হল – 1. সর্বশিক্ষা অভিযান : সর্বশিক্ষা অভিযান প্রকল্প শুরু আর মূল উদ্দেশ্য হলো সবার জন্য শিক্ষা প্রদান করা। 6 থেকে 14 বছর বয়সী সমস্ত পড়ুয়ারা বিনামূল্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে পড়াশোনা  করার সুযোগ পেয়ে থাকে।

যেদিন থেকে এই প্রকল্প চালু হয়েছে সেই দিন থেকে অশিক্ষিতের পরিমাণ অনেকটা কমেছে এর সাথে সাথে ড্রপ আউটের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী 2001 সালে শিক্ষার হার ছিল 64.8 শতাংশ  সেই জায়গায় 2011 সালে তা বেড়ে 74.4 শতাংশ  হয়েছে।
2. পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র : 1974 সালের পর 1998 সালে  দ্বিতীয়বারের জন্য পোখরানে পরমাণু বোমার পরীক্ষা করে ভারত। সেইদিন অটলবিহারি বাজপেয়ির সাহসী সিদ্ধান্ত গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। এরপর কতগুলি দেশ ভারতের উপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু এর পরও ভারত থামেনি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্য ভারত আজকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মর্যাদা পেয়েছে।

3. সোনালী চতুর্ভুজ : প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ির অন্যতম সেরা কৃতিত্বের মধ্যে একটি হলো 1999 সালে দেশকে উন্নত সড়ক যোজনার মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করা। 5847 কিলোমিটার ‘সোনালি চতুর্ভূজ’ প্রকল্পের মাধ্যমে চারটি মেট্রো শহর দিল্লি,কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইকে জুড়ে ছিল এই প্রকল্প। এই প্রকল্প টি এস এস 2012 সালে এবং এই প্রকল্প বহু মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে।
4. টেলিকমিউনিকেশন বিপ্লব : টেলিকমিউনিকেশন এর দিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়ে গিয়েছিল ভারত। এরপর অটলজির আমলে স্থায়ী অনুমদন ভিত্তিক রাজস্বের নীতির দিক থেকে বেরিয়ে তার আমলে সূচনা হয় রাজস্ব বন্টন চুক্তি। এনার আমলেই ভারতে আসে টেলিফোন পরিষেবা।

5. বেসরকারিকরণ : বাজপেয়ী ভারতের ভর্তুকি ও সরকারি হস্তক্ষেপের বিরোধী ছিলেন। তিনি মনে করতেন বেসরকারি বিলগ্নীকরণ এর ফলে দেশে বিপুল পরিমাণে কর্মসংস্থানের সুযোগ আসবে। এরপর বিএসএনএল এবং ইন্ডিয়ান পেট্রোকেমিক্যাল কর্পোরেশন লিমিটেডের বিলগ্নীকরণ শুরু হয় এনার আমল থেকেই। বাজবে আমলে প্রথম শুরু হয় বিলগ্নীকরণ মন্ত্র। যেটি এখন বর্তমানে Department of Investment and Public Asset Managment নামে পরিচিত।
6. বিজ্ঞান ও গবেষনা : দেশের 56 তম স্বাধীনতা দিবসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী ঘোষণা ছিল যে, ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মহাকাশযান চন্দ্রজান 1 মহাকাশের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবে। যা ভারতের বিজ্ঞান ও গবেষনার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

7. শান্তি-শৃঙ্খলা উদ্যোগ:- যখন বাজপায়ী দেশের বিদেশ মন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন তখন তিনি একটা কথা বলেছিলেন যেখানে তিনি বলেছিলেন প্রতিবেশী কে কখনো বদলানো যায় না এবং তাদের সঙ্গে সর্বদা ভালো সম্পর্ক রাখাটাই কর্তব্য। পরবর্তী কালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েও এই নীতিতে আস্থা রেখে পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের উদ্যোগ শুরু করেন। আর আপনাদের বলে রাখি তার আমলেই শুরু হয় দিল্লি লাহোর বাস যাত্রা। প্রথমে বাসে চেপে লাহোর যান বাজপায়ী। আর এরপরই ইসলামাবাদ ঘোষণা করে পাকিস্তানের মাটিতে কোন প্রকার ভারত বিরোধী কার্যকলাপ করতে দেওয়া হবে না শুরু হয় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক। তবে পরবর্তী কালে পাক সেনাবাহিনী দের এই শান্তিপ্রক্রিয়া পছন্দ হয়নি।

The India Desk

Indian famous bengali portal, covers the breaking news, trending news, and many more. Email: theindianews.org@gmail.com

Related Articles

Close