রাতারাতি ব্যাঙ্ক থেকে উধাও ফিক্সড ডিপোজিটের লক্ষাধিক টাকা, মাথায় হাত সরকারি কর্মচারীর

এ এক অভিনব ব্যাংক প্রতারণা। ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমের কথা সাম্প্রতিককালে অনেক বারই শোনা গিয়েছে। তবে মনে করা হয়, সেভিংস একাউন্ট হ্যাক করে তা থেকে টাকা তোলা সম্ভব হলেও ফিক্সড ডিপোজিট এর টাকা হাতানো কার্যত খুবই কঠিন বা অসম্ভব। তবে এমনই এক ঘটনা ঘটল বর্ধমান কালনা শহরে।ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা ফিক্সড ডিপোজিট এর কয়েক লক্ষ টাকা উধাও হয়ে গেল রাতারাতি।

কীভাবে ঘটল এমন ঘটনা চলুন জেনে নেওয়া যাক এক নজরে :-

কালনা শহরের মধুবন আমলা পুকুরের বাসিন্দা ধীরেন্দ্র নাথ দাস নামে অবসরপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তি ও তার পরিবারের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ব্যাংক থেকে এভাবে টাকা কিভাবে উধাও হয়ে গেল তা নিয়ে হতবাক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী।২০১৮ সালে ২৯ আগস্ট ২লক্ষ টাকার একটি ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলেন ধীরেন্দ্রনাথ।২০২৩ সালে ডিপোজিট টি ম্যাচিওর হওয়ার কথা থাকলে প্রয়োজন পড়ায় সেই টাকা তুলতে ব্যাংকের শাখায় হাজির হন তিনি। আর গিয়েই জানতে পারেন যে তাঁর ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা ২০২০ সালেই কেউ তুলে নিয়েছে।

কালনা শহরের ধীরেন্দ্র নাথ দাস নামে ওই ব্যক্তি এক সময় সেচ দপ্তরে চাকরি করতেন। তিনি জানান দুই মেয়ের মধ্যে এক মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও দিব্যাঙ্গ ছোট মেয়ের জন্য কালনা শহরের রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকে দু লক্ষ টাকা গচ্ছিত রাখেন তিনি। আচমকা এই ঘটনা ঘটায় কালনা থানার পুলিশ ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিকট তিনি দ্বারস্থ হন বলে জানান। পুলিশ এই বিষয়ে আশ্বাস দিলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা ই পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ জানান তিনি।

ধীরেন্দ্রনাথ এর অভিযোগ, এই সংক্রান্ত কোন এসএমএস আসেনি তার কাছে।অন্যদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ব্যাংকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নি গ্রাহক। লিখিতভাবে জানালে ব্যাংকের তরফেও তদন্ত করা হবে বলে আশ্বাস দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ধীরেন্দ্রনাথ বাবুর বক্তব্য, ” রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে টাকা টা রাখলাম, তাতেও যে এমনটা ঘটবে আমি তো দুঃস্বপ্নেও ভাবি নি। জীবনের সঞ্চয়টুকু ব্যাংকে জমা রেখে ছিলাম। এখন মেয়ের চিকিৎসা কিভাবে হবে তাই ভেবে ঠিক করতে পারছিনা”।

উল্লেখ্য,কয়েকদিন আগেই কালনা শহরের মিতালী বসুরায় নামে আরো এক বাসিন্দার এমনই এক ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। তার ও ফিক্সড ডিপোজিটের এক লক্ষ টাকা উধাও হয়ে যায় তার অজান্তেই তার অ্যাকাউন্ট থেকে। এদিকে শহরে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে একের পর এক টাকা উধাও হয়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অন্যান্য গ্রাহকেরা। কালনার এসডিপিও সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য বলেন,’ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা হবে ‘।