ভারত-চীন বিতর্কিত বিবাদের মধ্যেই, ফ্রান্স থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো রাফায়েল বিমান

রাফাল নিয়ে এর আগে বহু তর্ক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি এই নিয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গেছে এই লড়াই। আর এবার এই সমস্ত কিছুর অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিল প্রথম পর্বের পাঁচটি রাফাল যুদ্ধবিমান।আগামী 29 জুলাই এই বিমান গুলি হরিয়ানার আম্বালায় পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে যাবে। মোট 36 টি রাফেল বিমান এর চুক্তি হয়েছে ভারতের সাথে। এই 36 টি বিমান ধাপে ধাপে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি 2016 সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন ফ্রান্স সফরে যান তখনই রাফাল চুক্তির কথা ঘোষণা করেন তিনি। ফ্রান্সের যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা দাসো এভিয়েশনের সাথে 36 টি রাফেল বিমান প্রস্তুত করার জন্য চুক্তি করে ভারত সরকার। মোট 59 হাজার কোটি টাকার এই চুক্তি হয় এক্ষেত্রে। এই ঘোষণা করার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলি সরব হয়। তাদের দাবি অনেক বেশি থাকায় এই চুক্তি করা হয়। এমনকি এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও যায় কংগ্রেস। কিন্তু অবশেষে এই মামলায় জয়ী হয় কেন্দ্র সরকার।

সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই চুক্তিতে কোন প্রকার অসঙ্গতি নেই। এই সমস্ত কিছুর জট কাটিয়ে অবশেষে সোমবার ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিল প্রথম ধাপের এই পাঁচটি রাফেল বিমান। ভারতের 12 জন বায়ুসেনার পাইলট এবং ইঞ্জিনিয়াররা আগেই ফ্রান্সে গিয়ে এই যুদ্ধ বিমান চালানোর ট্রেনিং নিয়ে এসেছিলেন। তারাই এই পাঁচটি বিমান ভারতে চালিয়ে নিয়ে আসছেন। জানা গিয়েছে মাঝপথে জ্বালানি ভরার জন্য আরব আমিরশাহিতে বায়ু সেনা ঘাঁটিতে মঙ্গলবার নামবে বিমানগুলি। এই বিমান গুলি ভারতে নামার পর তাদেরকে স্বাগত জানার জন্য বিশেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি শেষ হয়ে গেছে।

ফ্রান্স থেকে যখনই বিমানগুলি ভারতের উদ্দেশে রওনা দেয় তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রদূত। এবং তিনি নিরাপদে পৌঁছানোর জন্য পাইলটের শুভেচ্ছা বার্তা দেন। এ বিষয়ে ভারতীয় বায়ুসেনা তরফ থেকে টুইট করে জানানো হয় যে,” আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান গুলিকে চালানোর জন্য পাইলটদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। তাই এই বিমানগুলি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবহার করাটাই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে আমাদের।” প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাফাল যুদ্ধবিমান গুলি লাদাখ সীমান্তে মোতায়েন করা হবে।

আর এর ফলে ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি এবং মনোবল দুটোই অনেকটা বেড়ে যাবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অপরদিকে আবার দ্বিতীয় ধাপে যে রাফাল যুদ্ধবিমান গুলি ফ্রান্স থেকে আসবে সেগুলি বায়ুসেনার হাসিমার সেনা ঘাঁটিতে থাকবে। এই হাসিমারায় এবং আম্বালাতে পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নত করে তোলার জন্য 400 কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।