রেশন পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনতে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হল জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে..

এবার থেকে রেশন কার্ড সংক্রান্ত একটি অভিনব সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। এখন থেকে একজনের রেশন কার্ড নিয়ে অন্যজন রেশন দোকান থেকে মাল তুলতে পারবে না। এমনকি বয়স্ক বা অসুস্থ কোন ব্যক্তি থাকলেও পারবে না যদি সেই ব্যক্তির পরিচয় পত্র সহ লিখিত চিঠি রেশন দোকানে দেখাতে হবে তবেই অন্যজন ওই রেশন কার্ডটি নিয়ে সেই গ্ৰাহকের প্রাপ্য মাল তুলতে পারবেন। রেশন দোকানে স্বচ্ছতা আনতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রশাসনের তরফ থেকে।

ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফ থেকে জেলার বিভিন্ন রেশন দোকানে নজরদারি চালানোর জন্য আধিকারিক পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রেশন সংগঠনগুলিও। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে রেশন দোকান সম্পর্কে যাতে গ্রাহকদের হতাশার মানুষদের কোনো অভিযোগ না আসে তার জন্য এসডিও, বিডিও, ডেপুটি – ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে এক বিশেষ ধরনের নজরদারি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটির সদস্যরা রেশন দোকানে গিয়ে দেখছেন যে গ্রাহকরা ঠিকমতো তাদের পাপ্য মাল পাচ্ছে কিনা এবং সম্পর্কে তাদের কোন অভিযোগ আছে কিনা।
এমনকি রেশন দোকান গুলিতে প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যে একজনের রেশন কার্ড নিয়ে এসে অন্যজন যেন মাল না তুলে। যদি বয়স্ক বা অসুস্থ কোনও ব্যক্তি থাকে তাহলে তার প্রমান পত্র সহ লিখিত চিঠি নিয়ে আসতে হবে ওই ব্যক্তিকে।

বেঙ্গল ফেয়ার প্রাইস ডিলার্স এর সভাপতি মিহির কুমার দাস এ বিষয়ে জানিয়েছেন, প্রকৃত গ্রাহকের কাছে রেশন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি ডিলারই  বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় ব্যাপার। বালুর ঘাটের সদর মহকুমার শাসক ঈশা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, অভিযান চালিয়ে তারা অনেক জায়গায় দেখেছে একজনার হাতে অন্যজনার রেশন কার্ড রয়েছে। আবার অনেক জায়গায় এমন হয়েছে যে ডিলারদের কাছে আগে থেকেই অন্যজনার রেশন কার্ড মজুদ রয়েছে। এমন অবস্থায় প্রত্যেকটি গ্রাহক যেন তাদের নিজের প্রাপ্য রেশন পায় তার জন্য এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।