ভারতের এমন কিছু সম্মানীয় ব্যক্তি যারা খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছলেও তাদের পা সর্বদা মাটিতে

কথায় বলে টাকার নেশা যার একবার  হয়ে যায়, সে অহংকারী হয়ে যায়।  যার কাছে টাকা ধন-সম্পদ প্রতিপত্তি সমস্ত কিছুই থাকে তার মধ্যে আলাদা ধরনের একটা অহংকার কাজ করে।  আর সেই অহংকারের প্রদর্শন করতে শুরু করে তার থেকে দুর্বল মানুষের উপর।  শো অফ  করার লোক পৃথিবীতে কম নয়। কিন্তু এমন কিছু মানুষ পৃথিবীতে রয়েছেন,  যারা যতই বড়লোক হয়ে যান তাদের কাছে যতই ধনসম্পত্তি থাকুক না কেন তারা সবসময়ই মাটির মানুষ।  অহংকার তাদের স্পর্শ করতে পারে না। আজ  এমন কিছু মানুষের কথাই বলবো,  যারা টাকা-পয়সা ধন-দৌলত সমস্ত দিক থেকে প্রভাব প্রতিপত্তি থাকলেও কখনো ধনসম্পত্তি টাকা পয়সা নিয়ে অহংকার করে না।

 

প্রথমেই বলব বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরের কথা।  গ্ল্যামার দুনিয়ায় শো অফ  করাটাই কাজ। নানা পাটেকার এমন একজন অভিনেতা  যিনি চাইলে বিলাস ব্যসনে থাকতে পারতেন।  সেখানে তিনি একটা এক কামরার ছোট্ট ফ্ল্যাটে তার মাকে নিয়ে থাকেন।  এবং বহু পুরনো মডেলের একটি গাড়ি ব্যবহার করেন।  এবং তিনি তার উপার্জনের টাকা দিয়ে গরীব মানুষের সহায়তা করেন।  তার মৃত্যুর পর তার উপার্জনের 90% টাকা গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

Ratan tata

এরপর আপনাদের বলব টাটা গ্রুপের প্রাক্তন চেয়ারম্যান রতন টাটার কথা। পরিবারের কাছ থেকেই তিনি মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা পেয়েছিলেন।সেই শিক্ষা তিনি আজীবন মনে রেখেছেন৷ টাটা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ 65 শতাংশ শেয়ার গরিব মানুষের সবার কাজে লাগে।  টাটা গ্রুপ যত বেশি প্রফিট করবে ততবেশি গরিব মানুষের সহায়তা হবে।  এছাড়াও রতন টাটা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোটি কোটি টাকা গরিব মানুষদের জন্য দান করে থাকেন।  এছাড়াও দেশের মানুষের বিপদে সরকারেরও আগে রতন টাটা মানুষের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন।  তিনি তার উপার্জিত ধন সম্পত্তি কুক্ষিগত করতে চাননি। দেশের সবথেকে ধনী মানুষের তালিকায় তিনি থাকতে পারেন নি  ঠিকই,  কিন্তু মনের দিক থেকে সবথেকে বড়,  সবথেকে ধনী রতন টাটা।

গুগল  সিইও সুন্দর পিচাই এর কথা কর্মজীবনে অর্থ উপার্জন করার পরেও তিনি তার শিকড় ভুলে যাননি।১৯৭২ এর চেন্নাইতে তার জন্ম সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে।  দুই হাজার কুড়ি রিপোর্ট অনুযায়ী সুন্দর পিচাই এর একদিনের উপার্জন 5 কোটি 87 লক্ষ হাজার টাকা।এরপরেও তিনি যে সাধারণ জীবনযাপন করেন তা সত্যিই অভাবনীয়।

অভিনেতা রজনীকান্ত অভিনয় জীবনে প্রবেশের আগে ট্রেনের মালপত্র উঠানোর জন্য কুলির কাজ করেছেন।  তারপর বাস কন্ডাক্টর কাজও করেছেন।  এমন একজন অভিনেতা, যে সিনেমা হিট না হলে প্রযোজকদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেন নিজের টাকা থেকে। এত খ্যাতির পরেও সকলের আগে শুটিং সেটে আসেন৷ অসহায় মানুষদের পাশে থাকেন,  নিজের গাড়ি নিজেই চালান  এবং সাধারণ জীবন যাপন করেন।

ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার রাহুল দ্রাবিড় আজীবন সাধারণ জীবনযাপন করেছেন৷  যেখানে এখন বিভিন্ন ক্রিকেটার তাদের জীবন যাপনের জন্য নানারকম বিতর্কে জড়ান,  সেখানে রাহুল দ্রাবিড় তার সম্পূর্ণ ক্রিকেট কেরিয়ারে এমন কোন বিতর্ক হয়নি।  তিনি ভারতীয় দলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন সেটা সকলেরই জানা।  শুধু ভারতীয় ক্রিকেট নয় সমগ্র বিশ্বের ক্রিকেটের ইতিহাসে ঠান্ডা মাথার ক্রিকেটার বলে দ্রাবিড়কে মনে করা হয়।  বাঙ্গালোর শহরে তিনি অটোতে করে যাতায়াত করে। প্লেনেও  ইকোনমি ক্লাসে ও যাতায়াত করেন।  সেইসঙ্গে নতুন যারা ক্রিকেট খেলতে চান,  তাদেরকে সাহায্য করেন।

 

পুরোপুরি Unlimited, থাকছে না কোনো ডাটা লিমিট! ৩৯৮ টাকার দুর্দান্ত প্ল্যানে বাজিমাত BSNL-এর

এরপর বলবো ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের কথা। তিনি কেবল ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নন তিনি একজন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক।  রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে 40 বছর তিনি ইসরোর বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন।  তাকে মিসাইলম্যান আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতকিছু জীবনে পেয়ে যাবার পরেও তিনি একেবারেই সাধারণ মানুষের মতন জীবন যাপন করতেন।

উইপ্রো  চেয়ারম্যান আজিম প্রেমজি ভারতের সর্বাধিক ধনী 10 জন ব্যক্তির মধ্যে অন্যতম৷  তিনি শুধু বড় ব্যবসায়ী নন,  তিনি তার সাধারন জীবনযাপনের জন্য মানুষের আলোচনায় উঠে আসেন।তিনি তার সম্পত্তির অধিকাংশ অংশ দান করে দিয়েছেন। ২০২০ এর  রিপোর্ট অনুযায়ী আজিম প্রেমজি দানকৃত সম্পত্তির পরিমাণ প্রতিদিন 22 কোটি টাকা।  দেশের মানুষের যেকোন বিপদে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন।