ভারতীয় মুদ্রা-তে সর্বকালের রেকর্ড পতন, এই ৩ টি কারণের ওপর ইঙ্গিত দিলেন বিশেষজ্ঞরা

ভারতীয় মুদ্রায় হতে চলেছে ব্যাপক পতন। গত মঙ্গলবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার সর্বনিম্ন রেকর্ড দরপতন হয়ে গেছিল ৭৭.২৪- এর কাছাকাছি। এই নিয়ে তৃতীয় দিনও একই ধারা অব্যাহত রইল। সোমবার মার্কিন ডলার পিছু ভারতীয় মুদ্রা পেয়েছে ৫৪ পয়সা। ডলার পিছু এখনো পর্যন্ত ৭৭.২৪- এ নেমে এসেছে। বিদেশে আমেরিকার মুদ্রার দর বৃদ্ধি এবং অবিরাম আউটফ্লয়ের কারণে এই দরপতন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত শুক্রবার ভারতীয় মুদ্রার দর ৫৫ পয়সা কমে গিয়ে ডলার পিছু হয়েছে ৭৬ টাকা ৯০ পয়সা। ফরেক্স ট্রেডার এবং মার্কেট ট্রেকারদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান বন্ডের বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণ এই হাল হয়েছে ভারতীয় মুদ্রার। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন কোন কারণে আমাদের ভারতীয় মুদ্রার অবনতি ঘটলো।

শক্তিশালী ডলার: কারেন্সি এবং এনার্জি বিশেষজ্ঞ এবং শেয়ার ও স্টক ব্রোকার আনন্দ রাঠি এই প্রসঙ্গে ইকুইটি বাজারে ভারতের রপ্তানিতে নিম্নগামী গ্রাফ, অপরিশোধিত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতিকে এই পতনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পিটিআই এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ব্যাংকের তরফে দেওয়া পলিসির কারণে ভারতীয় মুদ্রায় অস্থিরতা আরো বেশি বেড়ে গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার সেলিং প্রাইসের চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় এবং বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজারে এই প্রভাব পড়েছে ব্যাপক আকারে।

শার্প সেলিংয়ে লাগাম: এই মুহূর্তে ইকুইটি মার্কেটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর মুদ্রানীতির অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে ভরসা পাচ্ছেন না। এর ফলে গোটা বিনিয়োগের প্রক্রিয়া স্তিমিত হয়ে গেছে যার ফলে ভারত এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে ফল ভুগতে হচ্ছে।

আন্তর্দেশীয় মুদ্রাস্ফীতি: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বর্ধিত মূল্য, ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি,ব্যাপক আমদানির খরচ রীতিমতো শেয়ার বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।

ডলার থেকে মুদ্রা: মতিলাল অসওয়াল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের ফরেক্স অ্যান্ড বুলিয়ন অ্যানালিস্ট গৌরাঙ্গ সোমাইয়া বলেছেন, আমরা আশা করছি ইউ এস বি আই এন আর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ট্রেডিং করবে এবং ৭৭.২০ ও ৭৭.৮০ রেঞ্জে কোট করবে।

অন্য আরেক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, মুদ্রার দর ক্রমশই নিম্নমুখী হয়ে চলেছে তাই এই মুহূর্তে ডলারে যদি বিনিয়োগ করা হয় তাহলে বড়োসড়ো ঝুঁকি হতে পারে। ডলার ইনডেক্সে বদল এলে তখন বিনিয়োগ করা উচিত হবে সমস্ত বিনিয়োগকারীদের।