প্রতি 100 বছর অন্তর অন্তর পৃথিবীতে ফিরে আসে কোনো না কোনা ভয়াবহ মহামারী,কী সত্য রয়েছে এর পেছনে…

এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে 5 লক্ষ 97 হাজার, আর এই ভাইরাসের জেরে আপাতত বিশ্বজুড়ে মৃত্যু হয়েছে প্রায় 28 হাজার লোকের। শুধু তাই নয় এই বিশ্বব্যাপী মহামারী হাত থেকে রেহায় পায়নি বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোও। অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন WHO এর তরফ থেকে এই ভাইরাসটিকে মহামারী বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এবং আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে অনেক বেশি আগের তুলনায়।

তবে এরকম মহামারী হওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে এই প্রথম নয় এর আগেও মানুষ জাতি এরকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে এবং প্রতিবারই মহামারির কবলে বহু মানুষ তাদের প্রাণ হারিয়েছে। তবে এখন যে তথ্যটি বেরিয়ে আসছে সেটি একটু আশ্চর্য করার মতো, প্রত্যেক শতাব্দীর ঠিক 20 সালেই কেন আবারও কেনো ফিরে আসে এরকম ভয়াবহ প্রাণনাশক মহামারী? এর আগে আজ থেকে প্রায় 100 বছর আগে অর্থাৎ 1920 সালে সারাবিশ্বে হানা দিয়েছিল স্প্যানিশ ফ্লু, যার ফলে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় দুই কোটি মানুষের।

শুধু তাই নয় এই মরণ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল সারা বিশ্বজুড়ে 50 কোটি মানুষ। আর এই বিদেশি রোগের কারণেই ভারতে মারা গিয়েছিল 1.4 কোটি মানুষ। আর 1920 সালের ঘটনা আরো 100 বছর আগে অর্থাৎ 1820 সালে আরো এক মহামারী সারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল যার নাম ছিল কলেরা। তবে এই রোগের ফলে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল যারা আর্থিকভাবে দুর্বল ছিলেন তারাই,তখনকার দিনে ভয়াবহ বন্যার পরে জলবাহিত পেটের অসুখে কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল দেশের হাজার হাজার মানুষ।

তবে এখানেই শেষ নয় 1820 সালে ঠিক 100 বছর আগেও অর্থাৎ 1720 সালের আরো এক মহামারী ছড়িয়ে পড়েছিল যেটি ছিল ফ্রান্সে প্লেগ রোগের মহামারী। সেই সময় এক টানা দু’বছর এই রোগের স্থায়ী হয়, আর ফ্রান্সের যে দুটি শহর থেকে এই রোগের উৎপত্তি হয়েছিল সেখানে প্রায় 50 হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল এর দরুন এবং সারা বিশ্বে প্রায় 10 লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল মহামারীর দরুন। তাই বিজ্ঞানীমহলে একথা একটা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে গোটা বিশ্বের প্রায় 100 বছর পর পর এরকম মহামারী পেছনে কি রয়েছে কোনো কারণ?

নাকি পুরোটাই কি কাকতালীয় ঘটনা চক্র ! আপাতত কারো কাছে নেই এর সঠিক উত্তর।এখন সকল বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে কীভাবে বিশ্বব্যাপী মহামারি ভাইরাস করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারা যায় তবে এখনও পর্যন্ত তারা সফল হয়ে ওঠেনি তাই এখন বিশ্বের সকল মানুষের কাছে সতর্কতা অবলম্বন করা ছাড়া কোন উপায় নেই। তাই এই ভাইরাসের প্রকোপ এর গতিকে মন্থন করতে সকলকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এরই পাশাপাশি অবলম্বন করা হচ্ছে একাধিক সতর্কতাঃ।

আর ভারতে এর দরুনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডাক দিয়েছেন 21 দিনের লকডাউনের। প্রসঙ্গত বলে রাখি ভারতে এই ভাইরাসের দরুন বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে 887 জন, আর এই ভাইরাসের জেরে ভারতে মৃত্যু হয়েছে 20 জনের।