সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ির পাইপ থেকে বইছে টাকার ফোয়ারা, ভিডিও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়াতে

ছোটবেলায় আমাদের কমবেশি এই কথাটা শুনতে হত, “টাকা গাছে ফলে না”। কিন্তু সম্প্রতি এক ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ির পাইপ থেকে বের হতে দেখা গেল টাকা। ঘটনাটা কি? আসলে বুধবারের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে হানা দেয় অ্যান্টি করাপশন বিউরো। এই ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছিল, যে তার সম্পত্তির পরিমাণ যুক্তি সংগত নয়।এমন একটি অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই ইঞ্জিনিয়ারের কালবুর্গি বাড়িতে হানা দেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা।

বুধবার সকাল সাতটা নাগাদ কর্নাটকের দুর্নীতি দমন শাখার উত্তর পূর্ব বিভাগের পুলিশ সুপার মহেশ মেঘানন্নভরের নেতৃত্বে স্থানীয় কলোনির ওই বাড়িতে হানা দেওয়া হয়। বাড়ির মালিক শান্তনগৌরা বিরাদর ছিলেন PWD সাব ডিভিশনের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার।

সারা বাড়ি তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা নগদ। এছাড়া ৫ লক্ষ টাকা লুকিয়ে রাখা ছিল বাড়ির পিভিসি (PVC) পাইপ লাইনের ভেতরে। ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি তল্লাশি করার সময় আধিকারিকরা নিয়ে এসেছিলেন একজন মিস্ত্রি। তার সাহায্যে প্রথমে পাইপের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেটে ফেলা হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় আরো পাঁচ লক্ষ টাকা।

এছাড়া উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমানের সোনার গয়না, পাঁচটি স্থাবর সম্পত্তির কাগজ। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই ইঞ্জিনিয়ারের আরও দুটি বাড়ি আছে। একটি গুব্বিতে, অপরটি বাদেপুরে। এছাড়া ব্রম্ভপুরে এবং বৃহত্তর কুটানুর এলাকায় দুটি ভিটা রয়েছে। নিদৃষ্ট দুটি খামারবাড়ি রয়েছে জাদ্রমি তালুকে।

এই দিন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা ওই খামারবাড়ি গুলিতেও সাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে কিছু উদ্ধার করা যায়নি। পুলিশ আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে এখনো কত টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে তা জানতে পারা যায় নি। কিন্তু এত বিপুল পরিমানের সম্পত্তি যেভাবে বাড়িতে রাখা ছিল, তাতে আন্দাজ করা হচ্ছে কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওই ইঞ্জিনিয়ার।প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে পঞ্চায়েতে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি, পাকাপাকিভাবে চাকরি পান ২০০০ সালে।