ভয়ে কাঁপবে শত্রু দেশ চীন-পাকিস্তান, বিশ্বের সর্বোত্তম সামরিক বাহিনী তৈরির লক্ষ্যে মোদি সরকার, করলেন বড় ঘোষণা

ভারতের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও চীনকে রাজনৈতিক ভাবে চেপে ফেলার জন্য একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। চীন এবং পাকিস্তান যখন ভারত কে ক্রমাগত আক্রমণ করে যাচ্ছে ঠিক তখনই ভারতও পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য ভারত তার সামরিক বাহিনী কে এক আলাদা চূড়ান্ত তে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ভারত কে আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাতখানা নতুন কোম্পানি ভারতের ভিতরে আরম্ভ করেছেন যারা প্রতিরক্ষা করার প্রযুক্তি বিষয়ে নানান দিকে ভারত কে সাহায্য করতে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন যে, তিনি আশা করছেন এই সব কোম্পানিগুলি দেশকে আত্মনির্ভর করে দেশের শক্তির ভিত্তি হয়ে উঠবে। ভারতে গড়ে তুলবে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ সামরিক শক্তি। এই বার ভারত এর কেন্দ্র সরকার আরও দেশ কে আরো আত্মনির্ভর করে তোলার জন্য সাতটি নতুন প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে সংস্থা তৈরি করে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গোটা দেশে এখন এক উৎসব এর পরিস্থিতি, কোথাও দুর্গাপুজো তো কোথাও নবরাত্রি আবার কোথাও দশেরা।

সেই উপলক্ষ কে কেন্দ্র করেই সাতটি কোম্পানি আরম্ভ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিআরডিও ক্যাম্পাস, দিল্লিতে। এখন ভারতের অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের পরিবর্তন করে সাতটি নতুন রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা তৈরির ঘোষণা করেছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, “স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে অনেক বড় ধরনের সংস্কার করা হয়েছে , এতে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস রয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন,”যে সাতটি নতুন কোম্পানি আজ প্রতিরক্ষা খাতে প্রবেশ করতে চলেছে তারা একটি সক্ষম জাতির সংকল্প পূরণ করবে। আমি আশা করি, এই সব কোম্পানি দেশের শক্তির ভিত্তি হয়ে উঠবে।” প্রধানমন্ত্রী মোদি আরো বলেন,”আমি এই সাতটি সংস্থাকে তাদের কাজের সংস্কৃতিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে আপনাদের নেতৃত্ব দিতে হবে, গবেষকদের সুযোগ দিতে হবে। আমি স্টাটা আপগুলিকেও এই সাতটি কোম্পানির সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”

পাশাপাশি তিনি আরো জানান,”ভারতকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলির প্রধান উৎপাদনকারী দেশ হিসাবে বিকাশের জন্য স্থবির নীতির পরিবর্তে একটি সিঙ্গল-উইন্ডো ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন,”স্বনির্ভর ভারত অভিযানের অধীনে আমাদের লক্ষ্য হল ভারতের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি থাকা এবং আধুনিক সামরিক শিল্পের বিকাশ ঘটানো। গত সাত বছরে দেশ মেক ইন ইন্ডিয়া মন্ত্র নিয়ে এই সংকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছে।” সেই অনুষ্ঠানে মোদি নিজের ভাষণে বলেন যে,”ভারত স্বাধীনতার ৭৫ বছরে প্রবেশ করছে। এখন এমন প্রকল্পগুলি সম্পন্ন হচ্ছে যা দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল।”

এই বিষয়ে তিনি আরো বলেন, “আজ দেশের প্রতিরক্ষা খাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছতা, বিশ্বাস এবং প্রযুক্তি চালিত পন্থা বিরাজ করছে। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো আমাদের প্রতিরক্ষা খাতে এত বড় সংস্কার হচ্ছে। স্থবির নীতির পরিবর্তে এখন সিঙ্গল-উইন্ডো সিস্টেম চালু করা হয়েছে।” সবাই মানছে যে মোদি সরকার এর এই বিগত ১০ বছরের আমলে ভারতের সামরিক শক্তি অনেক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে । ভারতের শত্রু প্রতিবেশী দেশগুলি যারা প্রতিমুহূর্ত ভারতের উপর চোখ তুলে তাকায় বিশেষ ভাবে চীন এবং পাকিস্তান কে নিয়ে সেই পরিমাণে এতো কড়া মনোভাব নিয়ে প্রকাশ করতে দেখা যায়নি আজ স্বাধীন ভারতের প্রাক্তণ কোনও সরকার কে।

এই বিষয়ে তিনি জানান, “স্বাধীনতার পর অর্ডন্যান্স কারখানাগুলো কে আপগ্রেড করার, নতুন যুগের প্রযুক্তি গ্রহণ করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এটি তেমন মনোযোগ পায়নি। আমাদের আত্মনির্ভরশীলতা এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির উন্নতির জন্য ৪১টি অর্ডিন্যান্স কারখানা এখন সাতটি কর্পোরেট সংস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে। নতুন ভবিষ্যৎ গড়তে ভারত এবার নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।”এমন কি সেই উক্ত অনুষ্ঠানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ও নানা প্রতিরক্ষা শিল্প সমিতির বিভিন্ন প্রতিনিধি এরা।

ভারতের সরকার দ্বারা অনুমোদিত সেই সাতটি সংস্থা:–

ভারতের প্রতিরক্ষার বিষয়ে দেশ কে আরো আত্মনির্ভর করে তোলার জন্য ভারতের কেন্দ্র সরকার , আজ থেকে ২০০ বছর এরও বেশি পুরনো একটি সংস্থা যেটি ব্রিটিশ আমলে তৈরী হয়েছিল সেই অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড কে সাতটি সম্পূর্ণ আলাদা সংস্থা তে প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। যে সাতটি নতুন প্রতিরক্ষা কোম্পানি কে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেগুলো হল, অ্যা।মিউনিশন ইন্ডিয়া লিমিটেড (এমআইএল), আর্মার্ড ভেহিকেলস নিগম লিমিটেড (এভানি), অ্যাডভান্সড ওয়েপনস অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ইন্ডিয়া লিমিটেড (এডব্লিউই ইন্ডিয়া), ট্রুপ কমফোর্টস লিমিটেড (টিসিএল), ইয়ান্ত্রা (যন্ত্র) ইন্ডিয়া লিমিটেড (ওয়াইআইএল), ইন্ডিয়া অপটেল লিমিটেড (আইওএল) ও। গ্লাইডার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (জিআইএল)।