দেশরাজনৈতিকরাজ্য

অপরাধীদের ধর্মীয় নং দেখে নয় তার অপরাধ দেখে শাস্তি দিন-নইলে লজ্জায় পড়ছি, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি মুসলিম নাগরিকদের একাংশের…

সাম্প্রদায়িকতার রঙ নয়, বরং অপরাধ ও অপরাধীর সাজা হোক আইনি পথেই, দোষীদের কঠোর শাস্তিই কাম্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে এমনটাই জানাল কলকাতার মুসলিম নাগরিকদের একাংশ। এরকম এক অনুরোধ পত্রে স্বাক্ষর রয়েছে 50 জনের। এই চিঠিতে দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে কর্তব্যরত চিকিত্সককে নিগ্রহ এবং দ্বিতীয়টি রাতের কলকাতায় প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স ঊষসী সেনগুপ্তের ওপরে হামলা।

এই দু’টি ক্ষেত্রেই অভিযুক্তেরা ঘটনাচক্রে মুসলিম।কাজেই ধর্মের রঙ নিয়ে সামাজিক স্তরে হোক রাজনৈতিক পরিসরে, ইতিমধ্যেই জলঘোলা শুরু হয়ে গেছে। এবং সাম্প্রতিক এই দুই ঘটনার প্রেক্ষিতে যথেষ্টই লজ্জায় পড়তে হয়েছে শহরের মুসলিম সম্প্রদায়কে।এই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা হয়েছে, “কলকাতা শহরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক দুই ঘটনায় ‘দোষীরা’ মুসলিম, তাতে আমরা ব্যথিত ও লজ্জিত। অপরাধীদের আইনি সাজা দিন। সংবিধানে অপরাধের কোনও ধর্ম হয় না। যে কোনও ঘটনাতেই যদি মুসলিমরা জড়িত থাকেন তাঁদের উপযুক্ত সাজা প্রাপ্য।”

” চিঠিতে আরও লেখা হয়, “ইদানীংকালে মানুষ যা ভাবছে তেমনটা যেন কখনওই না হয়, অর্থাত্‍ মুসলিম বলে কেউ ছাড় পেয়ে না যান। তাতে সকলের কাছেই এই বার্তা যাবে একটি গোষ্ঠীকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে না।” কিছুদিন আগে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য। রোগীর মৃত্যু ঘটার ফলে চিকিৎসকদের আক্রমণ করেছিল রোগীর পরিবারের লোকজন।এবং তারপরই দোষীদের শাস্তি ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে দেশের চিকিৎসকেরা একাধিক রাজ্যে কর্মবিরতি পালন করেন।

অবশেষে ত মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় চিকিৎসকদের কর্মবিরতি উঠে যায়। আর ঘটনাক্রমে এই চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় জড়িত ছিল মুসলিমরা। আর তারপরই বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ ওঠে সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না সরকার। আর অন্যদিকে সোমবার দিন গভীর রাতে কলকাতা এক্সাইড মোড়ে হামলার শিকার হন প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স ঊষসী সেনগুপ্ত। আর এই ঘটনার জেরে 7 জন মুসলিম যুবককে গ্রেফতার করা হয় পরবর্তীকালে।

তবে এক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে ময়দান থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ওই ঘটনা ঘটলেও অভিযোগ থানায় গিয়ে সাহায্য পাননি তিনি। গভীর রাত পর্যন্ত দড়ি টানাটানির পর অবশেষে চারু মার্কেট থানায় দায়ের হয় অভিযোগ।

Related Articles

Back to top button