ভারতীয় এই কোম্পানির কাছে বড়সড় ঝটকা খেতে পারে Elon Musk এর Tesla, বহুকাল আগেই বানিয়েছিল ড্রাইভার বিহীন গাড়ি

বিগত কয়েক বছর ধরে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তিতে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ইনভেস্ট করেছেন টাটা মোটরস। একসময় টেসলা একাধিক গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন, তখন রাস্তায় self-driving গাড়ি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন টাটা মোটরস। বিগত কয়েক বছর ধরে স্বয়ংক্রিয় গাড়ির জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন সময় আসবে যখন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে রাস্তায় গাড়ি চলবে।

এই প্রযুক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এলন মাস্ক টেসলা। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, ২০১৪ সালে ইউনাইটেড কিংডমে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ শুরু করে দিয়েছিল টাটা মোটরস। তিন বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডের একাধিক রাস্তায় পরীক্ষামুলকভাবে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির গাড়ি চালানো শুরু হয়ে গিয়েছিল। ২০১৪ সালে যখন ড্রাইভিং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে কৌশলগতভাবে প্রতিযোগীদের দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল টাটা মোটরস এইসময় টেসলা ছাড়া আর কোন কোম্পানির সঙ্গে এই প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।

হাজার বাধা সত্ত্বেও কোম্পানির ইঞ্জিনিয়াররা মাত্র তিন বছরের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তির SUV রাস্তায় নামিয়েছিল। ২০১৫ সালে ড্রাইভারবিহীন গাড়ির এই উদ্যোগ নিয়ে এসেছিল ইউকে সরকার। এটি সংযোগ এবং স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিং প্রযুক্তি বিকাশের জন্য ডিজাইন করা একটি তিন বছরের প্রকল্প ছিল। এই প্রকল্পে টাটা মোটরস, ফোর্ড, জাগুয়ার, ল্যান্ড রোভারের মত কম্পানি গুলি কেন্স এবং কভেন্ত্রির রাস্তায় চালানোর জন্য গাড়ি সরবরাহ করেছিল।

নিসন্দেহে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তির ব্যবহার অটোমোবাইল দুনিয়ায় একটি নতুন বিপ্লব এনেছে এবং এই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছে টেসলা। কিন্তু তাই বলে টাটা মোটরসের অবদান ভুলে গেলে চলবে না। টাটা ইলেক্সি অ্যানালাইটিকসের ডাটা সাইন্টিস্ট বিশ্বজিৎ বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বিষয়টা যখন স্বচালিত গাড়ি, তখন টাটার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এক্ষেত্রে। আমরা AutonomAI নামে একটি ফুল-স্ট্যাক IP তৈরি করেছি, যা কিছু OEM ইতমধ্যেই ব্যবহার শুরু করেছে। কোম্পানিগুলির স্বয়ংক্রিয় যানবাহন তৈরিতে উল্লেখযোগ্য সাহায্য করেছে এই প্রযুক্তি। উপলব্ধি এবং নেভিগেশন স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের প্রধান জিনিস। আমরা বেশ কয়েকটি ডিপ লার্নিং মডেল তৈরি করেছি যা বিভিন্ন উপলব্ধির কাজ ভালভাবে করতে সক্ষম। ওপেন সোর্স উপাদান এবং আমাদের অংশীদারদের উপর নির্ভর করার পাশাপাশি, অনেক সরঞ্জাম এবং প্ল্যাটফর্মও তৈরি করেছি আমরা।

এই ধরনের উদ্যোগগুলি এই অটোমোবাইল দুনিয়ায় Tata Motors -কে সাফল্য দিয়েছে। এখন যে সব বিশ্বমানের গাড়িগুলি কোম্পানিটি তৈরি করছে এই পথ চলা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। প্রায় এক দশক আগে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বিনিয়োগ শুরু করেছিল এই সংস্থাটি। তাই ভবিষ্যতে যদি Tata Motors কোন SUV তে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি দেখেন তাহলে অবাক হবেন না একেবারে।