তাজমহল বিতর্কেরও মধ্যে ইলন মাস্কের টুইট, নেটিজেনরা শুরু করল মন্দিরের সৌন্দর্য দেখাতে

বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে একটি হলো তাজমহল, যা বর্তমানে বিভিন্ন কারণে শিরোনামে রয়েছে। তাজমহলের ইতিহাস নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির এক নেতা। দাবি এই যে, তাজমহলের ২২টি কক্ষের মধ্যে আবদ্ধ রয়েছে তার সত্যগুলি এবং এই কক্ষগুলি খুললে ভিন্ন সত্য বেরিয়ে আসবে। তাজমহল সম্পর্কে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের একটি টুইট ভাইরাল হচ্ছে, যা তিনি ৯ই মে করেছিলেন। টেসলার মালিক ইলন মাস্ক, যিনি সম্প্রতি মাইক্রো ব্লগিং সাইট টুইটার কিনেছেন, ৯ই মে তাজমহল সম্পর্কে তিনি টুইট করে বলেন, তিনি ২০০৭ সালে গিয়ে তাজমহল দেখেছিলেন, যা সত্যিই বিশ্বের বিস্ময়।

 

ইলন মাস্ক একটি ছবির প্রতিক্রিয়ায় এই টুইটটি করেন, যেই ছবিটি বলা হচ্ছে আগ্রার লাল কেল্লার। ইলন মাস্কের টুইটে ওপর লোকেরা ইলন মাস্ককে দেশের মন্দিরগুলির সৌন্দর্য দেখাতে শুরু করেন। আসলে, বিশ্বের অন্যতম সুন্দর ঐতিহ্য তাজমহলের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাজমহলে শিব মন্দিরের বিষয়টি নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চে আবেদন করা হয়েছে। পিটিশনে তাজমহলের ২২টি বন্ধ কক্ষের রহস্য থেকে পর্দা তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বড় কথা হল, তাজমহলে মন্দির থাকার দাবি করেছেন বিজেপি নেতা। বিজেপি নেতার আবেদনে বলা হয়েছে, বহু বছর ধরে একটি বিরোধ চরমে রয়েছে যা তাজমহল বা তাদজ মহল বা তেজো মহালয়ার সাথে সম্পর্কিত।

কিছু হিন্দু দল এবং বিশিষ্ট সাধুরা এই স্মৃতিস্তম্ভটিকে একটি পুরানো শিব মন্দির বলে দাবি করছেন, যা অনেক ইতিহাসবিদ এবং তথ্য দ্বারা সমর্থিত, যদিও অনেক ঐতিহাসিক এটিকে মুঘল সম্রাট শাহজাহান দ্বারা নির্মিত তাজমহল বলে মনে করেন। কিছু লোক এও বিশ্বাস করেন যে, তেজো মহালয়া বা তাজমহল, জ্যোতির্লিঙ্গ অর্থাৎ চমৎকার শিব মন্দির বলে মনে হয়। পিটিশনে বলা হয়েছে, অনেক ইতিহাসের বইয়ে আছে যে, ১২১২ খ্রিস্টাব্দে রাজা পরমর্দি দেব, তেজো মহালয়া মন্দির মহল তৈরি করেছিলেন। মন্দিরটি পরবর্তীতে জয়পুরের তৎকালীন মহারাজা রাজা মান সিংহ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন।

তারপরে সম্পত্তিটি রাজা জয় সিং কর্তৃক অনুষ্ঠিত এবং পরিচালনা করা হয়েছিল, কিন্তু শাহজাহান ১৬৩২ সালে দখল করেন এবং পরে তা শাহজাহানের স্ত্রীর স্মৃতিসৌধে রূপান্তরিত হয়। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাজমহলে ২২টি কক্ষ রয়েছে, যা শেষবার ১৯৩৪ সালে কেবল পরিদর্শনের জন্য খোলা হয়েছিল তবে রেকর্ডে তা উল্লেখ নেই, অর্থাৎ স্বাধীনতার আগে কক্ষগুলি খোলা হয়েছিল এবং এই ২২টি কক্ষ স্বাধীনতার পর থেকে আর খোলা হয়নি।একটি দাবি অনুযায়ী, ২২টি কক্ষের সবকটিই মুঘল আমল থেকে বন্ধ রয়েছে।