অভিনব নিয়ম শুরু করতে চলেছে এবারে নির্বাচন কমিশনার, সন্দেহ হলে মিলবে দ্বিতীয়বার ভোটদানের সুযোগ…

ভোটারদের জন্য আবার এক নতুন নিয়ম নিয়ে এলো নির্বাচন কমিশন। নিজের ভোট  ঠিক জায়গায় না পড়লে ভোটাররা ফের দ্বিতীয়বার ইভিএম এর বোতাম টিপে ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছে যে তারা ভোট সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরাপদে করতে চাইছে। নাগরিকরদের নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিয়ে সরকার গড়ার সম্পূর্ণ অধিকার দেওয়া হবে। শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার এই নয় ভোটারদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি ভাবে নজর রাখছে। অনেক সময় ভোটাররা ভুলবশত বা কোন প্রযুক্তিগত কারণে ইচ্ছেমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে না সেটা একটি ভোটারের জন্য অনেক দুর্ভাগ্যের বিষয়। এই ঘটনা যাতে না হয় তাই এই ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন যে ভিভিপ্যাট এর সাহায্য নিতে চলেছে তার দরুন ভোটাররা দেখতে পাবেন তার ভোট ঠিক জায়গায় পড়েছে কিনা। ভিভিপ্যাট কিভাবে কাজ করে তা আমরা এর আগে আলোচনা করেছি। ইভিএম মেশিন এর পাশেই ভিভিপ্যাট  যন্ত্রটি লাগানো থাকবে। ইভিএম মেশিনে কোন প্রার্থী ভোট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভিভিপ্যাট যন্ত্র টিতে সেই প্রার্থীর নাম এবং চিহ্নের পাশে আওয়াজ হবে এবং একটি লাইট জ্বলবে। এরপর একটি কাগজের স্লিপ বেরিয়ে আসবে ওখানে লিখা থাকবে ভোটটি কোন প্রার্থীর ঝুলিতে গেল। সাত  সেকেন্ড পর একটি বাক্সে ওই কাগজের স্লিপটি জমা পড়ে যাবে। সাত সেকেন্ডের মধ্যে ভোটাররা দেখতে পাবেন তার ভোট পছন্দের প্রার্থীর ঝুলিতে গেল কিনা। অর্থাৎ ভোট দেওয়ার পরেই হাতেনাতে প্রমাণ পেয়ে যাবে ভোটাররা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, যদি কোনও ভোটার দেখেন অন্য প্রার্থীর কাছে ভোট চলে গেছে তাহলে ওই ভোটার আরেকবার ভোট দিতে পারবেন।

ডিসাইজিং অফিসার এবং ভোট কর্মীদের উপস্থিতিতে ওই ভোটার ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন এই পদ্ধতিটিকে টেস্ট ভোট বলে নাম দিয়েছেন। কিন্তু ভোট কর্মীর উপস্থিতও যদি প্রমাণ হয় যে ভোটার যে প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছে সেই প্রার্থীর কাছে ভোট যাচ্ছে না, তখন ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করা হবে। এরপর পরীক্ষা করা হবে ইভিএম এবং ভিভিপ্যাটে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে কিনা। নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানান, প্রতিবছর এই ভোটের পর ইভিএম মেশিন নিয়ে নানান অভিযোগ ওঠে। অনেকে অভিযোগ করেন ভোটাররা যেখানে ভোট দিয়েছেন সেখানে ভোট না পড়ে অন্য জায়গায় পড়েছে। এবার যাতে এই সমস্ত অভিযোগ না ওঠে তার জন্যই এই ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ওই আধিকারিক কে প্রশ্ন করা হয়, ভোট যদি একবার পড়ে যায় তাহলে তা বাতিল করা হয় না। কিন্তু এক্ষেত্রে কি করে বাতিল করা হবে?

এর উত্তরে ওই আধিকারিক বলেন, প্রত্যেকটি ভোট পড়ার সাত সেকেন্ডের মধ্যে ভিভিপ্যাট থেকে বাক্সে একটা স্লিপ পড়বে। এরপর কাউন্টিং এর সময় ওই স্লিপ মিলিয়ে দেখা হবে।দ্বিতীয় বার ভোট দেওয়ার সময় ভোট কর্মী যখন পাশে উপস্থিত থাকবেন সেহেতু তিনি কাকে ভোট দিচ্ছেন সেটা দেখতে পাবেন। ফলে গণনার সময় সেই দলের ওই ভর্তি কিভাবে বাতিল করা হবে তার পদ্ধতি শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনেই জানেন। এই পদ্ধতির উপরে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে  বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।

Related Articles

Close