নোট বন্দির 3 বছর কেটে যাওয়ার পর আবারও 2000 টাকার নোট বাতিলের পরামর্শ প্রাক্তন অর্থনীতি সচিবের..

আজ থেকে গত তিন বছর আগে 2016 সালে মোদি সরকার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নোট বাতিল করে। আর এবার সেই নোট বাতিলের তিন বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও যা বর্তমান পরিস্থিতি তাতে 2000 টাকার নোট বাতিলের পরামর্শ দিলেন দেশের প্রাক্তন অর্থনীতি বিষয়ক সচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ। গত জুলাই মাসে অর্থমন্ত্রক থেকে তাকে হঠাৎ বিদ্যুৎ মন্ত্রকের সচিব করা হলে সুভাষ গর্গ স্বেচ্ছাবসর নেন।

এর আগে সুভাষ গর্গ কে নিয়মিত টিভির পর্দায় দেখা যেত নোট বাতিল এর সময় কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে কথা বলতে। তিনি বলতেন পুরনো 500 এবং 1000 টাকার নোট বাতিল করে কেন্দ্র যে 2000 টাকার নোট এনেছিল এখন কালো টাকার কারবারিরা সেই নোটেই বর্তমানে মজুত করেছে। তাই এবার সরকারের উচিত এই 2000 টাকার নোট বাতিল করে দেওয়া। তিনি মনে করেন এই বাতিলের সিদ্ধান্ত অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব না ফেলেও করা যাবে।

এই জন্য তিনি পরামর্শ দেন ব্যাংকের নোট জমা দেওয়া এবং সেক্ষেত্রে নোট যাতে আর বাজারে ফেরে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি দাবি করে বলেন নোট বন্দির ফলে দেশের অর্থনীতিতে নানাভাবে আঘাত পেয়েছে কিন্তু যে মূল উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছিল তা আদৌ সফল হয়নি বলে মোদি সরকার কে বারবার সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে বিরোধীদের।যার জেরে বর্তমানে কালো টাকা উদ্ধার হয়নি এবং জঙ্গি দমন নিয়ন্ত্রণ রাখার কথা হলেও এখনো জঙ্গিরা বারবার মাথা চারা দিয়ে উঠছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের হিসাব অনুসারে গত অক্টোবর মাসের শেষে দেশে নগদ এর মুদ্রার যোগান বেড়ে হয়েছে 22 লক্ষ 31 হাজার কোটি টাকা। তাই এখানে সুভাষ গর্গ বক্তব্য করে বলেছেন এই দুই হাজার টাকার নোটে বেশিরভাগটাই এখন লেনদেন করা হচ্ছে অর্থাৎ তা কোথাও মজুত রাখা হচ্ছে। তার ধারণা দেশের অর্থনীতিতে এখন অনেক বেশি নগদ রয়েছে। তার পাশাপাশি একাধিক প্রমাণ মিলেছে 2000 টাকার নোট মজুদ করার। তিনি বলেন বর্তমানে দেশে মোট লেনদেনের 85 শতকরা নগদ টাকার মাধ্যমে করা হচ্ছে, যেখানে চীনে ডিজিটাল লেনদেন বা চেক ড্রাফট ইত্যাদির মাধ্যমে লেনদেন করা হয় 87 শতকরা।

তার জেরেই তিনি পরামর্শ দিয়েছেন দেশজুড়ে আবারো 2000 টাকার নোট বাতিল করার। তবে অন্যদিকে বলে রাখি রিজার্ভ ব্যাংক বছরখানেক হয়েছে নতুন করে 2000 টাকার নোট ছাপানো বন্ধ রেখেছে ইতিমধ্যে। এই নোট বন্দির পরেই রিজার্ভ ব্যাংকে তরফ থেকে 2000 টাকার নোটটি প্রথম বাজারে আনা হয়েছিল। আর 2017 সালের জুন মাস পর্যন্ত এই নোটের সংখ্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল 328.5 কোটি টাকা। তারপর 2018 সালে আরো 7.8 কোটি টাকার এই নোট ছাপানোর ফলে গত বছরের শেষে 2000 টাকার নোটের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়ে গিয়েছিল 336.3 কোটি টাকা।

অথচ এ বছর জুন মাসে এই অংকটা দাঁড়িয়েছে 329.1 কোটি বলে জানিয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক।অর্থাৎ বলা যেতে পারে 2000 টাকার নোট ছাপানোর দূরের কথা যা সংখ্যা ছিল তার থেকেও কমতে লেগে গেছে টাকা র পরিমান।

Related Articles

Close