একাধিক ব্যাঙ্কে কী একের বেশি অ্যাকাউন্ট রয়েছে আপনার? তাহলে ভুলেও এড়িয়ে যাবেন না প্রতিবেদনটি

বিভিন্ন সময় দেখা যায় একটি গ্রাহকের এক বা একের বেশি অ্যাকাউন্ট থেকে যায় ব্যাংকে। অনেক সময় কোন কোম্পানি চেঞ্জ করলেও থেকে যায় এক বা একাধিক সেলারি অ্যাকাউন্ট। কিন্তু জানেন কি এক বা একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকা কতটা ক্ষতিকর হতে পারে আপনার ? জানলে অবাক হবেন , একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকার ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেই সংশ্লিষ্ট গ্রাহক অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি গ্রাহকের অজান্তেই থেকে যায়। ট্যাক্স এবং ইনভেস্টমেন্ট এর ব্যাপারে অনেকেই আপনাকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে তারা হয়তো বলেন না এক বা একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকলে রিটার্ন ফাইল করতে হয়।

যদি কোনো গ্রাহকের একাধিক ব্যাংকে একের বেশি অ্যাকাউন্ট থাকে সেখানেই সবথেকে বেশি প্রবলেম হয় ন্যূনতম টাকা রাখার ক্ষেত্রে কারণ বিভিন্ন ব্যাংকে ন্যূনতম টাকা রাখার কিছু নিয়ম রয়েছে। ফলে ব্যাঙ্ক গুলিতে ন্যূনতম টাকা রাখতে গিয়ে অনেকটাই বেশি খরচ হয়ে যায় গ্রাহকদের। এছাড়াও ডেবিট কার্ড এসএমএস চার্জ এবং সার্ভিস চার্জ রয়েছে কতগুলি ব্যাংকে আপনার অ্যাকাউন্ট রয়েছে প্রত্যেক ব্যাংকিং চার্জ গুলি আপনাকে দিতে হবে। প্রত্যেকটি ব্যাংকের নিয়ম আলাদা। সমস্ত মিলে দেখা যাবে প্রতিদিন গড়ে ১ টাকা করে খরচ হয়ে যাচ্ছে আপনার নিজের অজান্তেই।

একাধিক ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রাখার কোনো লাভ বোধ হয় হয়না বরং ক্ষতিই বেশি হয় কারণ অনেক সময় ন্যূনতম ব্যালেন্স মেনটেন করা সম্ভব হয় না ফলে মোটা অংকের চার্জ দিতে হয় গ্রাহকদের। ট্যাক্স রিটার্ন দিতে গেলে আপনার যদি একটা অ্যাকাউন্ট থাকে তাহলে সমস্ত তথ্যই ওই অ্যাকাউন্টে জমা থাকে এবার আপনার যদি একের বেশি অ্যাকাউন্ট থাকে সে ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ভাবে সমস্ত তথ্য ক্যালকুলেশনে অনেক সময় লেগে যায় এমনকি টোটাল রোজগারের হিসাব করতে গিয়ে ট্যাক্স পরামর্শদাতাদের ভালোই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এমনকি জমা দেওয়া তথ্য যদি কোন ভুল হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে আয়কর বিভাগ আপনাকে নোটিশ ও ধরাতে পারে।

যদিও এই সমস্যা সমাধানে নয়া এক পদ্ধতি ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি জানিয়েছেন এবার থেকে প্যান কার্ডের মাধ্যমে রোজগারের সমস্ত তথ্য একত্রিত করে দেওয়া হবে। ফলে অনেকটাই সমস্যার সমাধান হবে ট্যাক্স জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে। এছাড়াও কোন সেভিংস না কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এক বছরের বেশি সময় ধরে লেনদেন না হলে ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গুলিকে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার যদি একের বেশি শাখাতে অ্যাকাউন্ট রাখেন তাহলে মাসে প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হবে মিনিমাম ব্যালেন্স মেইনটেন্যান্স করতে গিয়ে। এতে গ্রাহকদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। তবে এমন নয় যে ন্যূনতম টাকা ইন্টারেস্ট দেওয়া হয় না। কিন্তু অনেকটাই কম হয় খুব একটা উপকারে আসবেনা গ্রাহকদের। যদি একটি জায়গায় মোটা অংকের টাকা রাখা হয় সে ক্ষেত্রে মাসিক ৭ থেকে ৮ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যায়। এতে গ্রাহকদের অনেকটাই সুবিধা হয়।

বেসরকারি ক্ষেত্রে ব্যালেন্স চার্জ বিভিন্ন হয় যেমন এইচডিএফসি ব্যাংকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১০ টাকা। এবং শহরতলীতে এই ব্যাংকে অন্তত ৫ হাজার টাকা রাখতেই হবে। আপনি যদি ন্যূনতম ব্যালেন্স না রাখেন, তাহলে এক ধাক্কায় ৭৫০ টাকা পর্যন্ত পেনাল্টি হিসাবে কেটে নেওয়া হয়। অন্যান্য প্রাইভেট ব্যাংকের ক্ষেত্রে পেনাল্টি চার্জ অনেক বেশি। শুধু তাই নয় অনেক সময় যদি পেনাল্টি চার্জ এ টাকা না থাকে অ্যাকাউন্টে, তাহলে প্রত্যেক মাসে এর ওপরে আলাদা করে চার্জ যোগ হতে থাকে।

শেষমেষ একটা বিরাট অংকের টাকা কেটে নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এতে আপনার CIBIL স্কোরে ভালো রকম সমস্যা হয়। আজকের পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে CIBIL স্কোর এর গুরুত্ব খুবই বেশি। এর মাধ্যমে লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যা হতে পারে গ্রাহকদের।