বাচ্চাদের নিয়ে অযথা বাড়ির বাইরে বেরোবেন না, অজানা জ্বর আতঙ্কে পরামর্শ চিকিৎসকদের

দীর্ঘ লকডাউনের জেরে গত এক বছর থেকে কার্যত ঘরবন্দি শিশুরা। করোনার প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ে শিশুরা আক্রান্ত না হলেও তৃতীয় ঢেউ এই যে শিশুরা ব্যাপকহারে আক্রান্ত হবে তা আগে থেকেই জানানো হয়েছিল হু-এর তরফ থেকে । সম্প্রতিককালে তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাক্কালে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অজানা জ্বরে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারি বা বেসরকারি নার্সিং হোমে দিন দিন অজানা জ্বর নিয়ে শিশুদের ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে।

সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের অজানা জ্বরে শিশুদের সংক্রমনের সংখ্যা বাড়ছে। বসিরহাট মহকুমা প্রায় দশটি ব্লকে শিশু এবং বয়স্ক মিলে মোট ৫০ জনের বেশি মানুষ অজানা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই হাসনাবাদ ,সন্দেশখালি ,বাদুড়িয়া, হাড়োয়া এবং হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের অন্তর্গত। তবে চিকিৎসকদের একাংশের দাবি এটি কোন ভয়ের কারণ নেই সাধারণ সিজিন চেঞ্জ এর জন্য ভাইরাল ফিভার হচ্ছে।

কিন্তু তা হলেও সমস্ত আক্রান্তদের রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কভিডের টেস্ট লালা রস সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে । এর পাশাপাশি যাদের শরীরের ন্যূনতম উপসর্গ আছে তাদের করোনার রপিড টেস্ট করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হলেও লাফিয়ে লাফিয়ে অচেনা জ্বরের আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। সমস্ত মহকুমায় যেভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে স্বাস্থ্য আধিকারিক দের কপালে চিন্তার ভাঁজ । উত্তরবঙ্গে রোগীদের সব রকম পরীক্ষার পরেও জ্বরের উপসর্গ এর কোন মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

Advertisements

বসিরহাটের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল কুমার বিশ্বাস বলেন, ” যদিও এই অজানা জ্বরের সঠিক কারণ বোঝা যাচ্ছে না । কিন্তু তাও এই অচেনা জ্বর হোক অথবা করোনা তৃতীয় ঢেউ সবকিছুর জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে ।সুতরাং অহেতুক বিনা কারণে বাচ্চাদের অতিরিক্ত বাইরে বের না করাই ভালো। ” বসিরহাট জেলা হাসপাতালে এই বৃহস্পতিবার শিশু বিভাগের আক্রান্তের সংখ্যা বেশ অনেকটাই বেশি ছিল সমস্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান বসিরহাট দক্ষিণের চিকিৎসক বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বসিরহাট এর পৌর প্রশাসক অসিত মজুমদার।

Advertisements

যদিও হাসপাতাল পরিদর্শন করার পর চিকিৎসক সপ্তর্ষি বন্দোপাধ্যায় বলেন, “এখনই এই অজানা জ্বর নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার কিছু নেই। করোনার তৃতীয় ঢেউ আসার আগে আমরা সবাইকে সব রকম সচেতনতা অবলম্বন করতে বলছি । ন্যূনতম উপসর্গ থাকলেও সাবধানতা অবলম্বন করাই ভালো। তবে এখন ঋতু পরিবর্তনের সময়। এই সময়ে সাধারণ জ্বর সর্দি সবারই হয়ে থাকে। ”

বসিরহাট এবং উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি নদীয়া জেলাতেও এই জ্বরে আক্রান্ত সংখ্যা বেশ ভালোই। নদীয়া জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সাধারণত জ্বর ,বুকে ব্যথা বা খিঁচুনি এই উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে আক্রান্তেরা। কল্যাণী এবং কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে জ্বর-সর্দি উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে অনেকেই ।কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে প্রায় ৫০ জন ভর্তি হয়েছেন । তবে সুস্থতার হারও বেশ ভালই। ইতিমধ্যে ৮৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে কমবেশি প্রায় সমস্ত হাসপাতাল সূত্রে খবর প্রতিদিনই এই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

এই দিন শুক্রবার উত্তরবঙ্গের বৈঠক করেছেন স্বাস্থ্য ভবনের চার সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল। গোটা পশ্চিমবঙ্গে এই অজানা জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে ফলে রীতিমতো চিন্তায় পড়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর ।এদিন উত্তরবঙ্গের বৈঠকের যে চার সদস্যের দল গঠন করা হয়েছিল তার মধ্যে ছিলেন চিকিৎসক বিকাশ মণ্ডল এবং পল্লব ভট্টাচার্য্য। এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পেডিয়াট্রিক ডাক্তার মিহির সরকার।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেডিসিনের অধ্যাপক দীপ্ত কান্তি মুখোপাধ্যায় এবং মাইক্রোবায়োলজিস্ট অধ্যাপক রাজা রায়। আপাতদৃষ্টিতে চিকিৎসকরা ঋতু পরিবর্তনের ফলে জ্বর-সর্দি বলে মনে করলেও উত্তরবঙ্গের জ্বরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে দক্ষিণেশ্বরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বেশ কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তার ফলে রীতিমতো কপালে ভাঁজ চিকিৎসকদের।