ভুলেও মাথার কাছে রেখে ঘুমাবেন না মোবাইল ফোন! দেখা মিলতে পারে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা, বাড়তে পারে বিপদের ঘনঘটা

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মোবাইল ছাড়া যেন এক মুহূর্ত ও চলা দায়। আর ফোন ব্যবহার করা বলতে আমরা বেশিরভাগ সময়তেই বুঝি ইন্টারনেট সার্চিং, সোশ্যাল মিডিয়ায় উঁকিঝুঁকি, ওটিটি তে গিয়ে নিজের পছন্দের সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ দেখা। আর এসব চলে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত।

একাধিক গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে,মোবাইলের প্রতি আসক্তি আমাদের ধীরে ধীরে শেষ করে দিচ্ছে।বিশেষত যারা মাথার কাছে ফোন রেখে ঘুমাতে যান,তাদের আয়ু তো চোখে পড়ার মতো কমছে। সময় না মেনে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে ক্ষতিকারক যে সমস্ত দিক গুলি সামনে উঠে এসেছে..

চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক :-

১) গোটা বিশ্বে অনেকেই ভুগছেন নিদ্রাহীনতায়।আর এর প্রধান কারণ হলো ফোন বা ওয়াইফাই ব্যবহার। ফোন থেকে আসা রেডিয়েশন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

২) প্রতিদিন ওয়াইফাই ব্যবহার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

৩) ওয়াইফাই ডিভাইস থেকে নির্গত হওয়া রেডিয়েশন গর্ভস্থ ভ্রূণের বিকাশেও প্রভাব ফেলে।এর পাশাপাশি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

৪) একনাগাড়ে ওয়াইফাই ব্যবহার করলে হৃদরোগের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। রাতে মাথার কাছে ওয়াইফাই অন করে শুলে মস্তিষ্ক তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।

এই বিপদ থেকে বাঁচতে আমাদের কী কী করনীয় চলুন জেনে নেওয়া যাক:-

১) ঘুমোনোর আগে ফোন বন্ধ করে নিন। এটি শুধু আপনার জন্য নয়, আপনার সঙ্গে যারা ঘুমায় তাদের জন্য ও ভালো।

২) বেডরুম বা রান্নাঘরে ওয়াইফাই এর রাউটার বসাবেন না।

৩) যখন ফোন ব্যবহার করছেন না তখন ওয়াইফাই বন্ধ রাখুন।

৪) মোবাইল ফোনের অ্যালার্ম বন্ধ রাখুন। কারণ প্রমাণিত হয়ে গেছে যে মোবাইলে অ্যালার্ম সেট করার পরে যতক্ষণ না আমরা তা অফ করছি, ফোন থেকে’ রেডিও ট্রান্সমিশন ‘ হতে থাকে। যার প্রভাবে শরীর এবং মস্তিষ্কের নানা রকম ক্ষতি হতে পারে।

৫) সারারাত ফোন চার্জ দেওয়া চলবে না যদি মাঝ রাতে পুড়ে মরতে না চান, তাহলে মাথার কাছে ফোন রেখে চার্জ দেওয়া বন্ধ করুন।

প্রসঙ্গত গবেষকরা লক্ষ্য করে দেখেছেন, ঘুমানোর সময় শরীর থেকে মোবাইল ফোনটিকে যদি কম করে ৩ ফুট দূরত্বে রাখা যায়, তাহলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে।