দীনেশ একজন হকার, 17 বছর ধরে হাতে লিখে বিক্রি করেন খবরের কাগজ…

রিপোর্টার, এডিটর, প্রকাশক এবং একই সাথে হকারও সবকিছুই একজনেই কাজ করেন। হ্যাঁ শুনে অবাক লাগলেও এই কথাটা সত্য। এবার আপনাদের যার কথা বলবো তিনি নিজেই এই সমস্ত কাজ গুলি করেন। তারপর বের হয় সংবাদপত্র। সাদা কাগজের উপর কালো মার্কার দিয়ে খবর লিখেন তিনি। তারপর সেটি লাগিয়েদেন জনবহুল জায়গায়। এই কাজটি তিনি এক বছর দু বছর ধরে নয় টানা 17 বছর ধরে করে যাচ্ছেন দীনেশ কুমার।

দীনেশের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরের গান্ধী কলোনিতে। 51 বছরের দীনেশ পেশায় একজন হকার। ঘুরে ঘুরে টফি, চকলেট, আইসক্রিম ইত্যাদি বিক্রি করেন। এবং সেই টাকা দিয়ে কাগজ কলম কিনেন খবর লেখার জন্য। এরপর সে কাগজ কলম নিয়ে বসে যান খবর লেখার জন্য। শুধু তাই নয় এনার লেখা খবর মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত যায়। এই সংবাদপত্রের নাম ‘ বিদ্যা দর্শন’। এনার লেখা সংবাদপত্রে থাকে সমসাময়িক খবর, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং অপরাধ।

তার হাতের লেখা সংবাদপত্র জেরক্স করেন এবং রাস্তার মোড়ে সেটি লাগিয়ে দেন। এই খবর লেখার জন্য তিনি অপরের কাছ থেকে সাহায্য পেলেও তিনি সেটি নাকচ করে। কারণ তার মতে আর্থিক সাহায্য পেলে তিনি স্বার্থপর হয়ে যেতে পারেন। তিনি কালো রঙের একটি সাইকেলে করে খবর খুঁজতে বেরিয়ে যান গোটা উত্তরপ্রদেশ জুড়ে। যেখানে অন্যায়ের খবর পান সেখানেই চলে যান তিনি এবং ওই সম্পর্কে লিখে ফেলেন তার ওই নিউজ পেপারে। এবার আমরা দীনেশ কুমার এর জীবন সম্পর্কে কিছুটা জানবো –

সংবাদপত্র লেখা ছাড়া তার বাকি সময় কীভাবে কাটে? তিনি জানান, তার বাকি সময় লজেন্স,টফি চকলেট বিক্রি করে সময় কাটান। অন্যান্য সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেলের সঙ্গে আপনার সংবাদপত্রে পার্থক্য কোথায়? তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান সমাজের সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলি জায়গা পায় আমার সংবাদপত্রে। কোন সমস্যা থাকলে তার সমাধান কীভাবে করা যেতে পারে এই বিষয়ে আমার সংবাদপত্রে আলোচনা করা থাকে। অপরাধ কমানোর জন্য উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় যেমন বিদ্যালয় পরিবহন ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরার লাগানোর কথা আমি বলেছিলাম। সেটি সরকার মেনেও নিয়েছে।

যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় হাতে লেখা সংবাদপত্রের মধ্যে এত ক্ষমতা আছে সেটি বুঝলেন কখন? এর উত্তরে তিনি জানান, আমার ‘ব্লেড ম্যানের’ কথা মনে পড়েছে। 2008 সালে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় মুজাফফর নগরের শামলিতে। সেই রহস্যময় ব্যক্তি ব্লেড হাতে স্কুলের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। এবং শিশুদের আক্রমণ করে। এই বিষয়ে পুরো ঘটনাটি আমি আমার সংবাদপত্রে লিখেছিলাম। এবং এই সংবাদপত্র গ্রাম এর বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়ে দিয়েছিলাম। ফলে সাধারণ মানুষ অনেক সচেতন হয়েছিল। তখন আমি বুঝতে পারি হাতে লেখা সংবাদপত্রের ক্ষমতা কতটা।

Related Articles

Close