তদন্তকারীর কাছে দেবাঞ্জন এর আফসোস ‘তিনি নিজেই নাকি প্রতারিত’

কসবায় ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে রহস্য ৷ খামখেয়ালি জীবন থেকে আচমকাই রাজ্য সরকারের আমলা বলে নিজেকে পরিচয় দেওয়া ৷ একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের কাগজপত্র নকল করা থেকে শুরু করে পুলিশ মহলের একাধিক পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে ওঠাবসা ৷ এত কাজ কি কারও একার পক্ষে সম্ভব ?

তদন্ত প্রক্রিয়া যত এগোচ্ছে তত এই ধরনের প্রশ্ন উঠে আসছে ৷ প্রথম থেকেই পুলিশের সন্দেহ ছিল, এই কাণ্ড কেউ একা ঘটাতে পারে না ৷ এর নেপথ্যে একটি চক্র রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা ৷ আর সেই চক্রের সন্ধান করতে গিয়েই দেবাঞ্জন দেবের একাধিক সহযোগীর নাম উঠে এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে৷যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মহিলাও রয়েছে৷দেবাঞ্জনের মতো নাকি তারাও নিজেদের সরকারি আমলা বলে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজ হাসিল করত৷ ইতিমধ্যেই দেবাঞ্জনের একাধিক সাগরেদের কথা জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।

জালিয়াতির মূল পান্ডা দেবাঞ্জন দেব নাকি তার দাদা কাঞ্চন দেবের সাথে প্রতারণার শিকার, তদন্তকারীর কাছে নাকি নিজের আফসোসের কথা বলছেন দেবাঞ্জন। তদন্তকারীদের এও বলেছেন অফিসের কোন কিছু কেনার হলে বা কোন টাকার প্রয়োজন হলে বাড়তি টাকা আদায় করতেন কাঞ্চন অর্থাৎ ২০০০ টাকা ব্যয় হলে তাকে তার দুই গুণ অর্থাৎ ৪০০০ টাকা দিতে হতো। দেবাঞ্জন যে ভুয়া আই এ এস তা জানতেন তার দাদা কাঞ্চন সেই কারণেই বোধহয় কাঞ্চনের কোন কথা ফেলতে পারতেন না দেবাঞ্জন।

কিন্তু এখন যখন সব কিছু ফাঁস হয়ে গেছে তখন তদন্তকারীদের কাছে নিজের আফসোসের কথা জানান তিনি। দেবাঞ্জন বলেছেন ‘তিনি নিজেই নাকি প্রতারিত’। এছাড়াও দেবাঞ্জন শিকার করেছেন ভ্যাকসিন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য রয়েছে কাঞ্চন এর কাছে। অন্যদিকে কসবা নর্থ সিটি কলেজ থেকে গ্রেফতার স্বাস্থ্যকর্মী শরৎ পাত্র। আমিকাসের ইঞ্জেকশন যেটি কোভিশিল্ডের লোগো, স্টিকার লাগিয়ে কসবা ভ্যাকসিন ক্যাম্পে দিয়েছিলেন শরৎ।

আজ দেবাঞ্জন, কাঞ্চন ও শরৎকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে সিট গঠন করেছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডি ভুয়া ভ্যাকসিন কাণ্ডের এফআইআরের নথি চেয়ে পাঠিয়েছেন কলকাতা পুলিশের কাছে।