সংসদ হওয়ার পরে একের পর এক ছবি ফ্লপ… নায়িকারা পর্যন্ত এড়িয়ে চলত! ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম

মহাপঞ্চমীর দিন ‘কাছের মানুষ’ সিনেমার গল্প নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সাথে কথোপকথন করতে হাজির হন অভিনেতা-প্রযোজক দেব এবং তাঁর সাথে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ইশা সাহা। দীর্ঘসময় পর রুপোলি পর্দায় টলিউডের দুই সুপারস্টারকে একফ্রেমে দেখতে দর্শকও উত্তেজিত। ‘কাছের মানুষ’ সিনেমার ট্রেলার,গান বেশ পছন্দ করেছেন সবাই। গল্পের বিষয় খুব সময়োপযোগী। কথোপকথনকালে দেবকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, ডিপ্রেশনের মতো সংবেদনশীল বিষয় সম্পর্কে, তখন দেব বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষের জীবনে ওঠাপড়া থাকে। সেটা জীবনের অঙ্গ। তুমি উঠলে তোমাকে নামতে হবেই।

ডিপ্রেশনে আছি মানেই সুইসাইড করতে যাব তা নয়, আমিও ডিপ্রেশনে ভুগেছি। যখন সাংসদ হলাম, তখন পরপর আমার সিনেমা ফ্লপ করা শুরু করল। তখন আমি দেখলাম নায়িকারা আমাকে এড়িয়ে চলছে। সবাই বলেছিল আমি শেষ হয়ে গেছি, কিন্তু দেখো আমার গত কয়েকটা সিনেমা ভালো ব্যবসা করেছে। জীবনে কোনো কিছু শেষ হওয়া মানে জীবনটা শেষ হওয়া নয়। সব পরিস্থিতি থেকেই ফিরে আসা যায়।’

‘কাছের মানুষ’ সিনেমাটি দেবের নতুন এক্সপেরিমেন্ট কিনা জানতে চাওয়ায় দেব বলেন, ‘আমার মনে হয় এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এই সিনেমাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলে। এটা সিনেমা জীবনের গল্প বলে। সেলেব্রিটিরা আত্মহত্যা করছে, কতকিছুই ঘটছে চারিদিকে। এই সিনেমা মানুষকে বোঝাবে কী করে কারুর খারাপ সময়ে কাছের মানুষ হয়ে ওঠা যায়। আমি এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসি, এটাও তেমন একটা সিনেমা। টলিউডের অন্য তারকারা হিন্দি সিনেমাতে কাজ করছেন, তবে দেব কেন বলিউডে কাজ করছে না জানতে চাওয়ায় দেব বলেন, ‘তাহলে বাংলা সিনেমাতে কে কাজ করবে? আমি এখানেই হ্যাপি। আমি কাউকে অপমান করছি না।

অফ কোর্স তাদের যাওয়া উচিত, কিন্তু আমরাও যদি চলে যাই তাহলে বাংলা সিনেমাকে কে দেখবে? আমি পালিয়ে যেতে পারব না।’ অনেক দিন পর দর্শকরা প্রসেনজিৎ এবং দেবকে একসঙ্গে দেখবেন সেই ব্যাপারে দেবার অনুভব জানতে চাওয়ায় দেব বলেন, ‘আমাদের ওয়েব লেনথটা খুব ম্যাচ করে। দুজনেই ২৪ ঘন্টা সিনেমা নিয়ে ভাবি, বাংলা সিনেমাকে ভালোবাসি। আমাকে যারা চেনেন তারা জানেন, দেব রাজনীতিতে থাকলেও সিনেমা নিয়েই সারাক্ষণ ভাবে। সেটাই আমাদের দুজনের কমফর্ট জোনটা তৈরি করেছে। আমরা নিজেদের শিল্প নিয়ে খুব সৎ, সেটাই এখানে উঠে এসেছে। কেউ কারুর উপর প্রভুত্ব ফলানোর চেষ্টা করিনি। সত্যি বলতে, প্রযোজক হিসাবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে এই সিনেমাতে কাস্ট করতে পেরে আমি খুব হ্যাপি।’

‘গোলন্দাজ’ সিনেমার পর ফের দেব-ইশার অনস্ত্রিন প্রেম সকলের মন জয় করছে, এই রসায়ন নিয়ে দেবকে প্রশ্ন করায় দেন বলেন, ‘সত্যি বলতে আমার মনে হয় ইশা খুব আন্ডাররেটেড অভিনেত্রী। কোথাও মনে হয়, ওকে একই প্যাটার্নের সিনেমা দেওয়া হয়। ও কিন্তু মেইনস্ট্রিম সিনেমারও খুব শক্তিশালী অভিনেত্রী। ওর মধ্যে একটা প্রাণোচ্ছ্বল ব্যাপার আছে, কিন্তু ওকে কাস্ট করা হয় না তেমন সিনেমাতে। এই সিনেমার ‘চুম্বক মন’ গানটা সেই অর্থে ইশার প্রথম কমার্শিয়্যাল গান। এর আগে ওকে এত হাসিখুশি কোনো সিনেমার গানে দেখা যায়নি। আমার মতে ইশা আমাদের সময়কার অন্যতম ভার্সাটাইল অভিনেত্রী। ইন্ডাস্ট্রিতে দেবের সবচেয়ে কাছের মানুষ কে, এই প্রশ্নের উত্তরে দেব জানান, ‘আমার দর্শক। তাদের চেয়ে কাছের আর কেউ নেই। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পেয়েছি তাদের কাছ থেকে।’

প্রযোজক দেব ‘বয়কট সংস্কৃতি’ নিয়ে চিন্তিত কিনা জিজ্ঞাসা করায় দেব বলেন, ‘না, একদম নয়। আগে সিনেমাটা ভালো বানাই। তাহলে যারা দেখবার নয় তারাও দেখবে। আমার মনে হয় দর্শক আমাদের প্রচেষ্টাকে সম্মান জানাবে। আমি বাংলা সিনেমা নিয়ে ভাবছি, সেটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আমি নতুনদের সুযোগ দিচ্ছি, সেটা কেউ উপেক্ষা করতে পারবে না। কাছের মানুষের পরিচালক পথিকৃৎকে দ্যাখো, বুম্বাদা পর্যন্ত ভাবতে পারেনি এই সিনেমাটা ও করতে পারবে। যারা ওর জন্য অফিসের দরজা পর্যন্ত করে দিয়েছিল তারা এখন ওকে নিজেরা ডাকছে সিনেমা বানানোর জন্য। ও চারটে সিনেমা সাইন করেছে। আমার একটাই চেষ্টা, যাদের একটু সাপোর্ট করলে তারা বাংলা সিনেমার জন্য ভালো কাজ করতে পারবে, তাদের সেই সাপোর্টটা দেওয়া। আমি তো দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমি যে জিনিসটা পারি না সেটা করি না, যেমন পলিটিকস, কিন্তু যেটা পারি সেটা পরিশ্রম। যদি আপনারা আমার সেই পরিশ্রমটা দেখতে না পান তাহলে সরি।’