দিল্লির সংঘর্ষের জেরে গভীর রাত পর্যন্ত চলল শুনানি, বাতিল করা হলো সিবিএসই-র দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা..

গত সোমবার দিন থেকে উত্তর-পূর্বের দিল্লির অধিকাংশ জায়গাতে একের পর এক সংঘর্ষের খবর বেরিয়ে আসতে থাকে CAA আইনের সমর্থনকারী ও বিরোধীদের মধ্যে যার দরুন গত সোমবার দিন সারারাত ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে বিভিন্ন এলাকাতে। আর ঠিক সেই একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায় গতকাল মঙ্গলবার দিন। এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের মাতা গতকাল এতটাই বেড়ে যায় যে দিল্লি চারটি জায়গাতে জারি করা হয় কারফিউ, এমনকি দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে এটাও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবার থেকে যদি কেউ হাঙ্গামার চেষ্টা করে তাহলে তাদের কে গুলি করে দেওয়া হবে।

আর এরকম এক পরিস্থিতিতে দিল্লিতে গভীর রাতে চলল শুনানি। এই ঘটনা দরুন যারা আহত হয়েছেন তাদেরকে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি হাইকোর্টের তরফ থেকে। গতকাল এই বিষয়ে একটি শুনানির আয়োজন করা হয়েছিল বিচারপতি এস মুরলীধরের বাড়িতে, আর এই শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন আরও এক বিচারপতি।এখনো পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী জানতে পারে যে দিল্লির এই হিংসা যেদিন মৃত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে 17 জন, গতকাল রাতে জিটিবি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের।

আর নিহতদের মধ্যে রয়েছে একটি শিশু ও। আর এই ঘটনার দরুন আহতের সংখ্যা 150 জনেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। দিল্লি হাইকোর্টে তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অশান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিন্ত করতে দিল্লি পুলিশকে, এরই সাথে আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে তা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে এরকম এক ঘটনার জেরে গতকাল মঙ্গলবার দিন রাত্রে বেলায় অশান্ত এলাকায় ঘুরে দেখেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।

আর এই বিষয়ে তিনি দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ অধিকারীদের সঙ্গে একটি বৈঠক ও করেন। এমনকি জাফরাবাদ মেট্রো স্টেশনের সামনে থেকে সিএএ প্রতিবাদকারীদের এইদিন সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে শুধু জাফরাবাদ নয় জাফরাবাদ ছাড়াও অন্যান্য মেট্রো স্টেশন গুলিতে ঢোকার ও বেরোনোর জায়গা কে খালি করে দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনার জেরে এইদিন জামিয়ার ছাত্ররা হাজির হয় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালের বাড়িতে, যদিও এসব ছাত্রদের পরে জলকামান দেগে সরিয়ে দেয় পুলিশ।অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিষয়ে মঙ্গলবার দিন সন্ধ্যেবেলায় দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিবিএসই-র দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হয়‌ উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে। তবে বাকি জায়গাগুলিতে পরীক্ষাগুলি তাদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হবে একথা জানান তিনি।

Related Articles

Close