টেক নিউসনতুন খবরবিশেষ

দুই ভারতীয় ছাত্রের অভিনব আবিষ্কার, এবার হাঁটলেই চার্জ হবে মোবাইল ফোন, হইচই গোটা দেশজুড়ে..

বর্তমান সমাজে মোবাইল ফোন হল একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের জীবনে মোবাইল ছাড়া আমরা আমাদের একটা দিনও কল্পনা করতে পারিনা।এখনকার দিনে আমরা যেকোনো কাজের জন্য ব্যবহার করে থাকি মোবাইল আর দেশ যত ডিজিটাল হবে তত বাড়তে থাকবে এই মোবাইল ব্যবহার করা সংখ্যাও। নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ঘড়ি থেকে শুরু করে ক্যালেন্ডার সব রকম কাজই এখন করা হয় মোবাইলের মাধ্যমেই। এছাড়া মেইল পাঠানো নানা রকম পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়ে থাকে মোবাইল, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে এটি এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে।

মোবাইল ব্যবহার করার সাথে সাথে আরও একটি প্রয়োজনীয় জিনিস রয়েছে যেটি হল মোবাইলের চার্জ আর চার্জ না থাকলে সেটি খুবই হতাশার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় সকলের কাছে। যার জন্য অনেকেই পাওয়ার ব্যাঙ্ক ব্যবহার করে থাকেন তবে এবার পাওয়ার ব্যাঙ্ক ছাড়াও মোবাইল চার্জ করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি দুইজন 19 বছরের বালক একটি আবিষ্কার করেছেন যা সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে তাদের এই আবিষ্কারের দরুন এখন হেঁটে হেঁটে চার্জ করা যাবে মোবাইল ফোন।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী জানতে পারা যাচ্ছে এই দুইজন দিল্লিতে বসবাস করেন যাদের নাম মোহক ভাল্লা ও আনন্দ গঙ্গাধারণ। শুধুমাত্র আর কিছু দিনের অপেক্ষা তারপরেই আমরাও এই আবিষ্কার হয় তো হাতে পেয়ে যাবো। যখন তাদেরকে এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমের তরফ থেকে কথা বলা হয় তখন তারা জানান যখন তারা দুজনে দশম শ্রেণীতে পড়েন তখনই তারা কিছু নতুন তৈরি করার কথা ভেবেছিলেন এবং তখনই তাদের মাথায় এই আবিষ্কারের কথা এসেছিল। আর এই আবিস্কারের প্রথম মডেল তৈরি করতে তাদের সময় লেগেছিল মাত্র তিন মাস।

যদিও তারা যখন এই মডেলটি তৈরি করেছিল তখন কিছু সমস্যা দেখতে পেয়েছিল তবে এবার তারা সেই সমস্ত সমস্যার সমাধান করে ফেলেছে আর তারা জানিয়েছেন যে সাধারণ চার্জার মোবাইল চার্জ দিতে যতটুকু সময় লাগে তার চেয়ে অনেক কম সময়ে এই চার্জারটির মাধ্যমে মোবাইল চার্জ করা সম্ভব হবে। তবে কীভাবে তৈরি করা হয়েছে এই যন্ত্রটি সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে।তারা জানিয়েছে এই যন্ত্রটি ইলেক্ট্রোমাগনেটিক ইনডাকশন পদ্ধতিতে কাজ করে থাকে আর এই যন্ত্রটির অবস্থান হল গোড়ালির নীচে, এই চার্জার এর দুটি অংশ একটি ডায়নামো ও অপরটি বাফার।

যখন আমরা চলা ফেরা করে থাকি তখন আমাদের গোড়ালিতে চাপ সৃষ্টি হয় যার ফলে যে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং তা সাহায্য করে ডায়নামো ঘুরতে আর এর ফলে বিদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন হবে যেটি এই মোবাইল কে চার্জ করতে সক্ষম। তাদের তৈরি এই চার্জারটি আকারে অন্যান্য চার্জারের তুলনায় একটু বড় রয়েছে ফলে সেটি পায়ে পড়তে একটু অসুবিধা দেখা মিলতে পারে এ ক্ষেত্রে অনেকটাই বেশি। এই বিশেষ চার্জার বানাতে খরচ হয়েছে প্রায় 2 হাজার টাকা। তবে পরে উত্পাদন বাড়লে এর খরচ অনেকটাই কমবে বলে আশা মোহক-আনন্দের।

এই চার্জারটি আকারেও বেশ বড়। ফলে এটির আকারে পরিবর্তন এনে চার্জারটিকে আরও পরিবহনযোগ্য করে তুলতে গবেষণা চালাচ্ছেন দুই তরুণ। তাঁদের আশা, আর দু’ বছরের মধ্যেই ভারতের বাজারে চলে আসবে এই ‘ওয়াকিং চার্জার’।

Related Articles

Back to top button