বাবাকে ফেরত চায়, ছত্তীসগড়ে নিখোঁজ CRPF জওয়ানের মেয়ের কাতর আবেদন মাওবাদীদের কাছে, দেখুন ভিডিও

গত শনিবার অর্থাৎ 3 এপ্রিল ছত্রিশগড় বিজাপুরে মাওবাদীরা হামলা চালিয়েছিল ভারতীয় জওয়ানদের ওপর। ওই সময় ওই ঘটনার জেরে 23 জন জওয়ান ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। কিন্তু ওই ঘটনায় সেদিন উপস্থিত ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের আর এক জওয়ান রাকেশ্বর সিং মানহসকে। ওই ঘটনার পরে তিনি নিখোঁজ। মনে করা হচ্ছে মাওবাদীরা তাঁকে অপহরণ করেছে। তার পরিবারের আত্মীয়দের আর্তনাদে জলে ভিজে গেল নেটিজেনদের চোখ।

 

রাকেশ্বর সিং মানহসের পাঁচ বছরের ছোট্ট পরী জানেনা মাওবাদী মানে কি? সে শুধু তার বাবার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। এক সংবাদমাধ্যমের কাছে ধরা পড়ল শিশু কন্যাটির কান্নাভেজা গলায় তার বাবাকে ফেরানোর আবেদন। মাওবাদীকাকুদের উদ্দেশ্যে সে বলছে ‘পাপার পরী পাপাকে খুব মিস করছে৷ আমি আমার বাবাকে খুব ভালবাসি৷ প্লিজ নকশাল আঙ্কেল, আমার বাবাকে বাড়ি পাঠিয়ে দাও!’ তবে শুধু যে এই জওয়ানের কন্যা তাই না তাঁর ভাইপো সাংবাদিকদের কাছ থেকে জানতে চাইছে যে তার কাকুকে তারা কবে কাছে পাবে?

১৫ এপ্রিল এক পরম আত্মীয়ের বিয়ে উপলক্ষে রাকেশ্বর সিং জওয়ানের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটল এমন বিপত্তি।জওয়ানের স্ত্রী মিনু বলেন, ‘পাঁচ দিন আগে ফোনে আমার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়৷ উনি জানিয়েছিলেন একটা অভিযানে যাচ্ছেন, ফিরে এসে ফোন করবেন৷ যখন টেলিভিশনে এই হামলার খবর জানতে পারলাম, দুশ্চিন্তায় বার বার ওকে ফোন করছিলাম৷ কিন্তু কোনও সাড়া পাইনি৷’ মিনু তাঁর স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি জানতে পারেন তাঁর স্বামীর এক সহকর্মীর কাছ থেকে।

 

Advertisements

তারপর সোমবার বিকেলে এই জওয়ানের স্ত্রী এর কাছে সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে একটি অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁকে ফোন করেন। এই বিষয়ে মিনু বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আমাকে বলেন যে আমার স্বামীকে মাওবাদীরা অপহরণ করেছে এবং আমি যেন ভিডিও রেকর্ড করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি৷ আমি ভিডিও রেকর্ড করে ওই ব্যক্তিকে পাঠিয়েও দিয়েছি৷ কিন্তু বিজাপুরে থাকা কেউ কী ভাবে আমার ফোন নম্বর পেলেন, এটা আমি বুঝতে পারছি না৷ এই বিষয়টির তদন্ত হওয়া উচিত৷’

 

Advertisements

এত বড় দুর্ঘটনার পরেও এই জওয়ানের স্ত্রী এবং বৃদ্ধা মা আশাবাদী যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁদের এই অমূল্য রতনটিকে তাঁদের কাছে নির্বিঘ্নে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন। সেনাবাহিনী থেকে জানানো হয়েছে যে তাঁরা সব সময়ই এই পরিবারের পাশে আছেন। এই পরিবারের ছেলেকে তাঁরা ফিরিয়ে আনবেনই।