কোভিড সতর্কতাবাণীতে প্রতিদিন খরচ তিন হাজার কোটি ঘন্টা

ফরচুন রাইস ব্র্যান অয়েল-এর বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল,  হৃদযন্ত্র ভালো রাখার জন্য এই তেল খাওয়া উপকারী৷ কিন্তু তার পরেও  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বিসিসিয়াই প্রেসিডেন্ট  সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়৷ ব্যাপক সমালোচনা এবং ট্রোলের মুখে পড়ে  ওই বিজ্ঞাপন সাময়িক ভাবে  বন্ধ করে দেয় ফরচুন। পরে যদিও আবার সেই বিজ্ঞাপন চালু হয়েছে।

কিন্তু বিগ-বি অমিতাভ বচ্চন আর ফিরতে পারলেন না৷ লকডাউনের সময় থেকেই মোবাইলে করোনা সতর্কতা বার্তায়  সিগনেচার ব্যারিটোন ভয়েসে দেশবাসীকে সতর্ক করে দিচ্ছিলেন অমিতাভ বচ্চন। পরবর্তীকালে  পরিবারের অন্যদের সঙ্গে তিনিও করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর কণ্ঠ প্রচার থেকে  বাদ দিতে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট কে  কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে,  বিগ-বি’র কোভিড-বার্তার কলারটিউন আর শোনা যাবে না। এরপর মামলা খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতিরা।

কিন্তু এবার থেকে যাই হোক,  ঘরে আগুন লাগুক বা রান্নার গ্যাস লিক হোক, কারও হার্ট অ্যাটাক হোক -দমকল/ডাক্তার/পুলিশ, যাকেই ফোন করবেন, ৩০ সেকেন্ড এর আগে ফোন যাবে না। মোবাইলে কল করতে গিয়ে  প্রতিদিন গড়ে ৩ কোটি ঘণ্টা  নষ্ট হচ্ছে এই কোভিড-সর্তকবার্তা শোনার চক্কোরে।তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর জেরে ক্ষতি হওয়া অর্থ নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই।

 

১৪০ কোটির ছুঁইছুঁই দেশ ডিজিটাল যুগে আলোর গতিতে উন্নয়নের পথে ছুটছে।  একশো কোটিরও বেশি মোবাইল,  সেখানে ৩০ সেকেন্ডের বাধ্যতামূলক অপেক্ষায় কত ক্ষতি হচ্ছে,  সে বিষয়ে টেলিকমমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ এবং ক্রেতা বিষয়ক মন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং টেলিকম রেগুলেটার অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (ট্রাই)-সহ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে লিখিত ভাবে জানিয়েছে,  দেশীয় কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন।

তাঁদের দাবি, ৩০ সেকেন্ডের বাধ্যতামূলক এই সতর্কতার  বর্তমানে কোন প্রাসঙ্গিকতা নেই৷ দেশবাসী গত ১০-১১ মাসে এই সম্পর্কে প্রতিদিন  টিভি-ইন্টারনেট-সংবাদপত্র, সর্বত্র এত সতর্কবার্তা শুনেছে, যে তাঁদের আর নতুন করে কোভিড-বিধি, স্বাস্থ্য বিধি শোনানোর প্রয়োজনীয়তা নেই। এর জন্য প্রতি দিন ১.৩ কোটি ম্যান-আওয়ার্স নষ্ট হচ্ছে৷ অর্থনীতির টালমাটালের বর্তমান প্রেক্ষিতে, এই সময়টা কাজে লাগানো প্রয়োজন৷

জরুরি প্রয়োজনের সময়ে ফোন করতে গিয়ে এই সময় নষ্ট হওয়ার জন্য মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে৷  সেইসঙ্গে বিপুল সম্পদ এবং আর্থিক ক্ষতি  হচ্ছে। কয়েক কোটি দেশবাসী প্রতিদিন গড়ে ৩ কোটি ঘণ্টা বেশি মোবাইল ব্যবহার করছেন৷ এরফলে মোবাইল সংস্থাগুলির  দুর্মূল্য ব্যান্ডউইডথ সম্পদও অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।

কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন হাইকোর্টের কাছে দেওয়া তাঁদের চিঠিতে জানিয়েছে  , কোভিড-প্রি কল অ্যানাউন্সমেন্টের জন্য দৈনিক যে ৩ কোটি ঘণ্টা বেশি মোবাইল ব্যবহার করতে হচ্ছে দেশবাসীকে, তার জন্য হ্যান্ডসেটের চার্জ খরচ হচ্ছে তুলমামূলক বেশি৷ ফলে  ব্যাটারি রিচার্জে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎও অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে দেশে, যা অনাবশ্যক খরচ৷ এই খরচ  সহজেই বাঁচানো যেতে পারে, এই অ্যানাউন্সমেন্ট বন্ধ করে দিয়ে।

 

যেখানে হোয়াটঅ্যাপ, মেসেঞ্জারে  মাধ্যমে  ডেটা কল করলে কোনও প্রি কল অ্যানাউন্সমেন্ট ছাড়া ফোন করা যাচ্ছে সেখানে গ্রাহকের মোবাইল সাধারণ সময়ের থেকে দ্রুত শেষ হচ্ছে। কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন-এর বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই অ্যানাউন্সমেন্ট যদি জারি রাখতেই হয় তাহলে ব্ল্যাঙ্কেট রিপ্লেসমেন্ট কলার টিউন হিসেবে ব্যবহার করা হোক৷ এক্ষেত্রে   প্রাপক কল ধরার আগে অবধি করোনা সতর্কতাবাণী  বাজবে।