বাবা পেয়েছে টিকিট,পায়নি ছেলে! পদত্যাগের পথে তৃণমূল জেলা সভাপতির পুত্র

গতকাল শুক্রবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে  তৃণমূল। প্রার্থী তালিকায় নতুনদের জায়গা দেওয়া হয়েছে৷ সেইসঙ্গে  পুরনো বিধায়ক, মন্ত্রীদের অপসারণ করা হয়েছে। পুরনোদের প্রার্থী না করায় ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের দাপুটে নেতা বলে পরিচিত আরাবুল ইসলামকে বিধানসভার টিকিট না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন৷  ওঁর বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগও  উঠেছে।

আরেকদিকে, তৃণমূলের দাপুটে নেত্রী,  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সোনালী গুহকেও এবছর তৃণমূল টিকিট দেয়নি৷ সোনালী গুহ  বলেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুবুদ্ধি হোক। বীরভূমের নলহাটির তৃণমূল বিধায়ক মইনুদ্দিন সামস বলেছেন, “আমি টুপি পরা মুসলিম বলে বালি-পাথর মাফিয়াদের সঙ্গে আপোষ করে নিইনি। আর সেই কারণে আমাকে প্রার্থী করেনি। ”  টিকিট না পাওয়ায় তিনি দলও ছেড়ে দিয়েছেন।

 

যারা তৃণমূলের টিকিট পাননি, তাঁরা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানা যাচ্ছে৷ সূত্রের খবর,  বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি মুকুল রায়ের বাড়িতে ইতিমধ্যেই  গিয়েছেন অনেক তৃণমূল নেতা। আরও এক তৃণমূল নেতার কথায়  বিক্ষোভের সুর শোনা গেছে৷ স্বভাবতই জল্পনা তুঙ্গে  রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে৷

তৃণমূলের ওই নেতার বিক্ষোভের কারণ এই যে  তিনিও টিকিট পাননি। পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূলের যুব সভাপতি সুপ্রকাশ গিরি টিকিট না পাওয়ায় ফেসবুকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি ফেসবুকে  লিখেছেন, ‘মজা করে বন্ধুরা বলত পয়সা না থাকলে রাজনীতি করতে যাস না, আজ পারফরম্যান্সকে হার মানতে হল পয়সার কাছে ৷ আজ বুঝলাম পারফরম্যান্সের কোনও দাম নেই এই যুগে ৷”

সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক ট্রোল, ঘোষিত হয়েছে প্রার্থী তালিকা, নেই দেবাংশু নাম! কী বললেন দেবাংশু নিজে
এই ফেসবুক পোস্টের পর তার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, খুব শীঘ্রই কাঁথি পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন এই নেতা৷ সুপ্রকাশ গিরি হলে পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল সভাপতি অখিল গিরির ছেলে। অখিলবাবু  নির্বাচনে টিকিট পেলেও  সুপ্রকাশবাবু পাননি। অখিল গিরি রামনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবছর  তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন।

সূত্রের খবর, সুপ্রকাশ গিরির সঙ্গে আরও কয়েকজন নেতাও তৃণমূল ছাড়তে পারেন। পূর্ব মেদিনীপুরে অধিকারী পরিবারের বিরোধী গোষ্ঠী বলে পরিচিত গিরি পরিবার৷ নির্বাচনের আগে গিরি এই ভাঙন কার্যত শুভেন্দু অধিকারীর রাস্তা মসৃণ করতে চলেছে।