যত্রতত্র থুতু ফেলা বন্ধ করতে রাজ্যগুলিকে গুটখা- খৈনি-পানমশলা নিষিদ্ধের নির্দেশ কেন্দ্রের..

দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ রুখতে দেশবাসীকে বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে মুখে মাক্স পড়ে থাকতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ রোধে যেখানে সেখানে থুথু ফেলতে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।তাই রাজ্য সরকার গুলিকে এবার কেন্দ্রের তরফ থেকে এ কথা মাথায় রেখে গুটখা, পান-মশলা, খৈনি এবং জর্দা এর মতো লালারস সৃষ্টিকারি তামাকজাত পদার্থ গুলিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।এই বিষয় নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবগুলিকে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

সেই নির্দেশিকা পৌঁছেছে নবান্নেও। সেই চিঠিতে জানানো হয়েছে প্রতিটি রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলি এখন যেহেতু মহামারী আইন চালু রয়েছে এই মুহূর্তে ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী করোনা রাজ্যগুলি হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা রয়েছে আর এরকম এক পরিস্থিতিতে যেখানে সেখানে থুথু ফেলা তার পাশাপাশি গুটকা, পান মশলা, খৈনি, এবং জর্দার মতো ধোয়াহীন চিউইং টোবাকো গুলির ব্যবহার বন্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এই বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের দাবি দেশজুড়ে এই লকডাউন উঠে গেলেও যতদিন পর্যন্ত এই করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন বের হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত যেখানে সেখানে থুথু ফেলার অভ্যাস বন্ধ করতে হবে না হলে বিপদ ঘনিয়ে আসবে আবার।তাই এই বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকার গুলিকে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে কেন্দ্রের তরফ থেকে। আর যার জন্য এই বিষয় নিয়ে জনসাধারণের কাছে ব্যাপকভাবে প্রচার চালানোর অনুরোধ জানানো হচ্ছে। যদিও এ বিষয় নিয়ে এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার জনসাধারণকে সচেতন করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রে তরফ থেকে এরকম এক চিঠি পাবার পর ও তামাকজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ করতে রাজ্য তরফ থেকে কোনো নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। যদিও এর আগে 2013 সালে পশ্চিমবঙ্গে আইন করে গুটকা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল কিন্তু রাজ্যে পান মশলা ও জর্দার ব্যবহার এখনো পর্যন্ত নিয়মিত রয়েছে যার ফলে গুটখার দাপট অব্যাহত রয়েছে।যার ফলে বলা চলে এই কারবারের নতুন করে দিগন্ত খুলে গিয়েছে গুটকা নির্মাতাদের মূলত উপাধি এবং জর্দা সঙ্গে প্যারাফিন ওয়াক্স মিশিয়ে তৈরি করা হয় গুটখা। যদিও রাজ্যে আইন করে গুটকা নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে জর্দা ছেঁটে ফেলা হয়। তার জায়গায় চেনা গুটকা হয়ে দাঁড়ায় নিরীহ পান মশালা। আর পাশাপাশি এই জর্দার প্যাকেট বিক্রি করা হয় একটি ছোট পকেটে। আর পান মশলা কিংবা জর্দা দুটোই মধ্যে কোনটাই রাজ্যে নিষিদ্ধ নয় তাই নতুন করে আরও ভয়ঙ্কর রূপে আত্মপ্রকাশ করে গুটখা। সাধারণত যেকোন মুদি দোকান পান,বিড়ি-সিগারেট দোকান সর্বত্রই এই গুটখার রমরমা বোঝায় থাকে।যদিও কেন্দ্রের তরফ থেকে এরকম এক নির্দেশিকা চিঠি পাওয়ার পরে বিহার, ঝাড়খন্ড, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র ,তেলেঙ্গানা, উত্তরাখন্ড ,নাগাল্যান্ডের সরকার এই পান মশলা জর্দা এবং খৈনির ব্যবহার পুরোপুরি ভাবে নিষিদ্ধ করতে নির্দেশিকা জারি করে দিয়েছে।

তাই এখন দেখার বিষয় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে কবে এই বিষয় নিয়ে নির্দেশিকা জারি করা হবে বা আদোও নির্দেশিকা জারি করা হবে কিনা।