দেশজুড়ে লকডাউনের মধ্যে মোদি সরকারের বড় ঘোষণা!আগামী 24 ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার সাথে বিলে বিশেষ ছাড়…

করোনা মোকাবিলা করার জন্য সারা দেশ এখন লকডাউন। আর তার জন্যই মোদী সরকার সমস্ত বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলির জন্য আর্থিক প্যাকেজ নিয়ে এলো। এখানে বলা হয়েছে 24 ঘন্টা বিদ্যুৎ দিতে হবে আর বিদ্যুতের বিল মেটাতে যদি দেরি হয় তাহলে কোনো ফাইন নেওয়া যাবে না। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উপভোক্তারা আগামী তিন মাস বিদ্যুতের বিল মেটাতে সক্ষম নাও হতে পারে। আর তাহলে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলি আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই সমস্ত দিক ভেবে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় তাদের জন্য আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসকে ঠেকানোর জন্য 21 দিন ধরে সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাই আর্থিক দিক থেকে ভেঙে পড়বে বিভিন্ন কোম্পানি। এটিকে কন্ট্রোল করার জন্য সরকার গত তিনদিন ধরে অনেক বড় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকার বিনামূল্যে রেশন দেওয়া থেকে শুরু করে হোম লোন, কার লোন, ইএমআই এ ছাড়ের ঘোষণা করেছেন।

CERC (সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলাটরি কমিশন) বিদ্যুৎ ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী গুলির উপর কোন চার্জ ধার্য্য করবে না। অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে কোন বিদ্যুৎ গ্রাহক যদি দেরিতে বিল জমা দেয় তাহলে তার উপর কোন লেট চার্জ ধার্য হবে না। এই পদক্ষেপের পাশাপাশি সরকার 24 ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করার লক্ষ্য রেখেছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ডিস্ট্রিবিউশন করা কোম্পানিগুলোকে সরকারের তরফ থেকে ছাড় দেওয়ার অর্থ হল, কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ কোম্পানি বকেয়া টাকা পরেও মেটাতে পারবে।

সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানিগুলোকে বিদ্যুৎ দিতেই থাকবে। তাদের কাছে পয়সা মেটানোর এখন কোনো চাপ দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অ্যাডভান্স পেমেন্ট হিসেবে এখন মাত্র 50 শতাংশ টাকায় দিতে হবে। আপনাদের জানিয়ে দি, দেশের 70 শতাংশ বিদ্যুৎ কয়লা দিয়ে উৎপন্ন করা হয়। ফলে কোনভাবেই কয়লা উৎপাদন কে বাধা দেওয়া যাবে না। এবং কয়লা সাপ্লাই যাতে ঠিকঠাক হয় তার জন্য রেলওয়েকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে যাতে কোনও ভাবে বিদ্যুত্ সরবরাহে ব্যাঘাত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিদ্যুত্ মন্ত্রক। ইতিমধ্যেই কেন্দ্র ও রাজ্যের বিদ্যুত্ সরবরাহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে এ বিষয়ে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের বিদ্যুত্-এর কোনও সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস বিদ্যুত্ মন্ত্রকের। দেশের প্রায় সব রাজ্যেই এক ধাক্কায় বিদ্যুতের চাহিদা 20-30% কমে গিয়েছে। অন্যদিকে রেল, কল- কারখানা, অফিস ইত্যাদি বাণিজ্যিক চাহিদা প্রায় নেই বললেই চলে। তাছাড়া বিল সংগ্রহও কমেছে এক ধাক্কায় 80% এর মতো। ফলে, পেমেন্টের ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক।