রাজ্যে ক্রমশ চিন্তা বাড়াচ্ছে 10 টি জেলার করোনা গ্রাফ, কনটেইনমেন্ট জোন ঘোষণার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যজুড়ে করোনা সংক্রমণ কমাতে জারি ছিল কড়া বিধি নিষেধ সহ লকডাউন। দীর্ঘ এক মাসের আত্ম শাসনের পর নিম্নমুখী হতে দেখা গিয়েছিল রাজ্যে করোনার গ্ৰাফ। তবে রাজ্যে এই করোনা গ্রাফ আরো নিম্নমুখী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে যা আজ সোমবার দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এর উপস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব এইচকে দ্বিবেদী আগামী 30 জুন পর্যন্ত বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তবে এক্ষেত্রে শিথিল করা হয়েছে কিছু নিয়ম।

যদিও এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে করোনা সংক্রমনের গ্ৰাফ অনেকটাই নিম্নমুখী হয়েছে তবে তারই মধ্যে কিছু কিছু জেলা যেমন নদীয়া, হাওড়া, জলপাইগুড়ি, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, কলকাতা ,উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা, কোচবিহার ,দার্জিলিং এর জেলা শাসকের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং তাদেরকে করোনা সংক্রমণ রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দেন। মুখ্যমন্ত্রী এই বৈঠকে জানা নেই জেলাগুলিতে প্রায় প্রত্যেক দিন 200 বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছে তাই এই জেলা গুলিকে যত শীঘ্রই কনটেনমেন্ট জোনে পরিণত করা হোক।

আর এটা করতে যেসব ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করা উচিত সেগুলো যাতে গ্রহণ করা হয় সাত থেকে আটটি জেলাতে এখনো পর্যন্ত প্রত্যেকদিন আক্রান্তের সংখ্যা 200 পেরিয়ে যাচ্ছে যার দরুন সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজন রয়েছে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা আর সেটিকে করতে হবে খুব তাড়াতাড়িই। যদিও অন্যদিকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যজুড়ে লোকাল ট্রেন ব্যবস্থা, মেট্রো, সরকারি বেসরকারি বাস পরিষেবা চালু করা হচ্ছে না আপাতত।

শুধুমাত্র আগের মতই চলবে স্টাফদের জন্য ট্রেন। নতুন নির্দেশিকাতে জানানো হয়েছে আগামী 16 জুন থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য খুচরো দোকানগুলি সকাল ৭ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এবং অন্যান্য দোকানগুলি দুপুর ১২ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ৫০% বসার জায়গা নিয়ে বেলা ১২ টা থেকে রাত্রি আটটা পর্যন্ত চালু থাকবে সমস্ত রকমের পানশালা রেস্তোরাঁ। তার পাশাপাশি আপাতত বন্ধ থাকছে সমস্ত সিনেমা হল, মাল্টিপ্লেক্স, জিম আর আগের মতোই বন্ধ থাকছে স্কুল- কলেজ সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ চালানো যেতে পারে। যেখানে তাদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত। তাদের যাতাযাতের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে অফিস কর্তৃপক্ষকেই। মুদি দোকান, বাজার, হাট খোলা রাখা যাবে সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত। এছাড়াও অন্যান্য দোকানগুলো খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ব্যাংক খোলা রাখা হবে ১০ টা থেকে দুপুর ২ পর্যন্ত। রেস্তরাঁ, হোটেল এবং পানশালাগুলি খোলা থাকবে।দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

আর সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন ৫০ শতাংশ গ্রাহক। শপিংমলে প্রবেশ করতে পারবে ৩০ শতাংশ গ্রাহক। শপিং মল খোলা থাকবে সকাল ১১থেকে সন্ধ্যে ৬ পর্যন্ত। ৫০ জন কর্মীকে নিয়ে টলিউডের বিভিন্ন ধারাবাহিকের শুটিং করার অনুমতি পাওয়া গেছে।অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী এই বৈঠকে আরও জানান, রাজ্য জুড়ে যে বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছিল তার জেরে রাজ্যে করোনা সংক্রমনের হার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে যার ফলে দৈনিক প্রায় কুড়ি হাজার থেকে সংক্রমণের সংখ্যা কমে এসেছে,এবং এখন তা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজারের নীচে।

তবে পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনই সবকিছুতে রাশ টানতে চাইছেনা রাজ্য যার দরুন মুখ্যমন্ত্রী বলেন নির্বাচনী প্রচারে যেভাবে রাজ্যের পজিটিভিটি রেট২২ শতাংশ তে পৌঁছে গিয়েছিল তা এখন কমেছে, ৬ শতাংশতে নেমে এসেছে। আর রাজ্যজুড়ে এখনো প্রায় ২ কোটি মানুষ টিকা পেয়েছেন।