নতুন খবররাজনৈতিক

১৯৮৪ শিখ দাঙ্গায় দোষী প্রমাণিত হলো কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমার , হলো আজীবন কারাদন্ড !

কংগ্রেস নেতা সজ্জান কুমার কে এবার দোষী সাব্যস্ত করল হাইকোর্ট। ১৯৮৪ সালে ঘটে যাওয়া শিক বিরোধী দাঙ্গায় এই কংগ্রেস নেতা ছিল মূল অভিযুক্ত। সংবাদ সংস্থা এএনআই এর রিপোর্টে এটা প্রকাশ পেয়েছে যে দেশের নিম্ন আদালতের রায় কে পরিবর্তন করে এই সজ্জান কুমার কে দোষী সাব্যস্ত করল হাইকোর্ট। এবং সেই সাথে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে সজ্জান কুমার কে আগামী ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এইদিন দিল্লি হাইকোর্ট, নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বদল করে জানিয়েছেন যে, এই অভিযুক্ত সজ্জান কুমার একজন দোষী ইনি সেই সময় ৫ জন কে হত্যা করা এবং জনতার মধ্যে বিভাজন ঢুকিয়ে তাদের উত্তেজিত করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল।কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক ক্ষমতা বলের কারণে এত দিন এই সুজ্জান কুমার পালিয়ে বেড়াতে পেরেছে।

বিচারপতি বিনোদ গোয়েল এবং বিচারপতি এস মুরিলধর এর নেতৃত্বে এই মামলার শুনানি শুরু হয় ২৯ শে অক্টোবর। নানান প্রমাণ পাওয়ার পর সবদিক বিচার করে বিচারপতিরা এই মামলায় তাদের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান সোমবার।দিল্লি হাইকোর্ট এই ব্যাপারে তদন্ত শুরু করার আগে জানিয়েছিলেন যে, আমরা এই ব্যাপারে আসল অপরাধীকে ঠিক খুঁজে বের করব এবং তাকে শাস্তি দেব। সেই অনুযায়ী তারা তদন্ত শুরু করেন এবং কংগ্রেসের নেতা সাজ্জান কুমারকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তার বিরুদ্ধে আদালতের তরফে যে সকল অভিযোগ গুলি আনা হয়েছে সেগুলি হল শত্রুতা বৃদ্ধি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরুদ্ধে কাজ করা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করা।

দোষী সাজ্জান কুমার কে তৌরাম কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি হাইকোর্টের তরফে।মনজিন সিং যিনি হলেন সিরাসা শরিয়ানি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা তিনি এইদিন বলেন যে, আমরা অনেকদিন ধরে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি অবশেষে আমরা হাইকোর্টের রায়ে শান্তি পেলাম। আমরা এই জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি হাইকোর্ট কে। এছাড়াও এইদিন তিনি আরোও বলেন যে এই কংগ্রেস নেতা সাজ্জান কুমার ও জগদীশ টাইটলার কে যতদিন না ফাঁসিতে ঝোলাতে পারছি ততদিন আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে যাবো। এবং সেই সাথে জেলের ঘানি টানিয়ে ছাড়বো গান্ধী পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর ১৯৮৪ সালে শুরু হয় শিখ বিরোধী আন্দোলন। সেই সময় সজ্জান কুমার নামে এই কংগ্রেস নেতার তত্ববোধনে পাঁচ জন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ কে হত্যা করা হয়। তারা হলেন রাঘুভিন্দর সিং, গুরুপ্রীত সিং, নরেন্দ্র পাল সিং, কুলদীপ সিং এবং কেনার সিং। তারপর রাজনৈতিক চাপের ফলে এই কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা টি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে কংগ্রেস সরে গিয়ে মোদী সরকারের আগমনে ফের শুরু হয় এই মামলার তদন্ত। অবশেষে এই মামলায় কংগ্রেস নেতা সজ্জান কুমার দোষী সাব্যস্ত হন।
#অগ্নিপুত্র

Related Articles

Back to top button