আজ থেকে আরও এক মহাজাগতিক ঘটনা সাক্ষী থাকতে চলেছে গোটা বিশ্ব! 6800 বছর পর ঘটছে এমন ঘটনা…

14 ই জুলাই থেকে এক আশ্চর্য মহাজাগতিক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে চলেছে পৃথিবী। বিজ্ঞানী মহলের দাবি, উজ্জ্বল এক ধুমকেতু পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে ধীরে ধীরে। এই ধূমকেতুর নাম হল নিওওয়াইস। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল এই ধুমকেতু অনায়াসে খালি চোখে দেখা যাবে। কালকে থেকে টানা 20 দিন দেখা যাবে এই ধূমকেতুকে। টেলিস্কোপে এই ধুমকেতু প্রথম ধরা পড়ে এ বছরের 27 শে মার্চ। এই ধূমকেতুকে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে দেখা যাবে। এমনকি ভারতেও দেখা দেখা যাবে এই ধূমকেতুকে।

এ বিষয়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা দাবি জানিয়েছেন যে, এই ধূমকেতুর দেখা পাওয়া যাচ্ছে প্রায় 6800 বছর পর।মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এও জানিয়েছেন যে, ভারতসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে টানা 20 দিন সূর্যাস্তের পরও উত্তর পশ্চিম আকাশে 20 মিনিট পর্যন্ত এই ধূমকেতুকে দেখা যাবে। এবং প্রত্যেক দিন একই জায়গাতে দেখতে পাওয়া যাবে এই ধূমকেতুটি কে।জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই ধূমকেতুটির নাম দিয়েছেন        সি/2020 এফ3। জ্যোতিষ বিজ্ঞানীদের মতে এই ধুমকেতু প্রচন্ড গতিতে পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে।

আপনাদের জানিয়ে রাখি, ধুমকেতু দেখার জন্য সাধারণত দূরবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই ধুমকেতু দেখতে হলে কোন দূরবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হবে না খালি চোখেই দেখা যাবে। 1 লা জুলাই থেকে উত্তর পূর্ব আকাশে সূর্য উদয় এর আগে এই ধূমকেতুকে দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু 14 জুলাই থেকে সূর্যাস্তের পর দেখা যাবে এই ধূমকেতুকে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, 22 শে জুলাই এই ধূমকেতুটি পৃথিবীর সবথেকে সামনে চলে আসবে। ওই দিন পৃথিবী থেকে এই ধূমকেতুটি দূরত্ব থাকবে 10 কোটি 35 লক্ষ কিলোমিটার। এর আগে আরও অনেক ধূমকেতুর দেখা পাওয়া গিয়েছিল পৃথিবীর বুকে। কিন্তু দূরবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায়নি বাকি ধুমকেতু গুলিকে।

এবার আমরা সংক্ষেপে জেনে নেবো ধুমকেতু জিনিসটা আসলে কী – এটি হল সৌরজগতের বাইরের একটি সদস্য। এরমধ্যে তাপমাত্রা অত্যন্ত কম থাকে। এই ধূমকেতুর ভিতরে বড় বড় বরফের চাঙ্গর থাকে। এই চাঙ্গর গুলির আয়তন কমপক্ষে 5 থেকে 12 কিলোমিটার পর্যন্ত হয়। এই বড় বড় চাঙ্গর গুলি তৈরি হয় জলীয় বরফ, কার্বন-ডাই-অক্সাইডের বরফ এবং মিথেন বরফের মিশ্রণে। আর যখন সূর্যের আকর্ষণের ফলে এই বড় বড়  চাঙ্গর গুলি সূর্যের দিকে এগিয়ে যায় তখন সূর্যের কিরণে সেই বড় বড় চাঙ্গরগুলি বাষ্পীভূত হতে থাকে। এবং এই বরফের বাষ্প গুলিও কোটি কোটি কিলোমিটার দূরে লম্বা ঝাটার মতোন দেখতে হয় অনেকটা। বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকেই ধুমকেতু বলা হয়।

Related Articles

Back to top button