নতুন খবরবিশেষভারতীয় সেনা

লস্কর জঙ্গি হায়দার আর নেই, এই সুখবর শুনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কর্নেল আশুতোষ

বর্তমান সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না করোনার  জন্য। দেশের এই খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে রবিবার সকালে আরো একটি খারাপ খবর এলো। উত্তর কাশ্মীরের লস্কর ই তইবা জঙ্গীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে চার ভারতীয় সেনা এবং এক পুলিস কর্মীর মৃত্যু হয়। দেশের এই দুঃসময়ে নিজের জীবনকে তোয়াক্কা না করে দেশকে রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন তারা। আর এই শহীদদের কুর্নিশ জানাচ্ছে সমস্ত দেশবাসী।বর্তমানে প্রত্যেকের মুখে মুখে ঘুরছে কর্নেল আশুতোষ শর্মার নাম। কর্নেল আশুতোষ শর্মা লক্ষ্য পূরণ করেই শহীদ হয়েছেন।

লস্কর ই তইবা জঙ্গী হায়দারকে মেরে তবেই মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। 21 নং রাষ্ট্রীয় রাইফেলের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন কর্নেল শর্মা। তিনি যে পুরো দেশ প্রেমিক ছিলেন তাই এর আগে প্রমাণ করে দিয়েছেন বহুবার। তিনি তাঁর বীরত্বের জন্য দুবার সেনা মেডেল অর্জন করেছেন। উত্তরপ্রদেশের বুলন্দ শহরের বাসিন্দা তিনি। তার স্ত্রী ও 12 বছরের সন্তান ও একই অঞ্চলের বাসিন্দা। এমনকি সেনামহল এর আড্ডায় এবং ট্রেনিংয়ে বারবার সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। কর্নেল শর্মার বাহিনীকে গ্রেনেড হাতে নিয়ে তাড়া করেছিলেন। তাকে নিখুঁত নিশানাতে খতম করে বাকি সেনাদের প্রাণ বাঁচান তিনি। সেনাবাহিনীর বহু গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনে সামিল থাকতেন কর্নেল শর্মা। সেনা বাহিনী সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, গত পাঁচ বছরে বহু এনকাউন্টার রয়েছে। কিন্তু আশুতোষ শর্মার মতন কর্নেল পদস্থ কোন অফিসারের মৃত্যু হয়নি। শেষ 2015 সালে একটি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় কর্নেল এমএন রাই ও কর্নেল সন্তোষ মহাদিকের। কিন্তু আশুতোষের ঘনিষ্ঠরা বলেছেন, শহীদের রক্ত কোনদিন বৃথা যায় না। বন্ধুদের মধ্যে গল্প করতে করতে তিনি বহুবার বলেছেন তার মূল লক্ষ্য হলো লস্কর ই তইবা জঙ্গী হায়দারকে শেষ করা।

শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের প্রাণ দিয়ে তাকে খতম করলেন। কর্নেল আশুতোষ এবং তার সঙ্গীদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত রবিবার শোক বার্তায় বলেছেন, ” এই সাহসী সৈনিকদের প্রতি আমরা কুর্নিশ জানাই। তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।” এরপর শোকজ্ঞাপন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, ” তাদের আমরা কোনদিনও ভুলব না। তারা দেশকে রক্ষা করার জন্য নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশবাসীর প্রাণ রক্ষা করলেন। শহীদদের পরিবারের জন্য সমবেদনা।” এই সমস্ত কিছু ছাপিয়ে দেশকে ভালোবাসার আরেক নাম হয়ে সবারই মনে থেকে যাবেন কর্নেল আশুতোষ শর্মা।

Related Articles

Back to top button