এবারের বিধানসভা ভোটে কার দখতে যাবে নবান্ন? জনমত সমীক্ষায় বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২১ সালের বিধানসভা ভোট হবে আটটি দফায়। প্রথম দফা শুরু হতে আর মাত্র মাঝে দুটো দিন বাকি। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই জোরদার করে নিজেদের প্রচার শুরু করে দিয়েছে। আর এই ভোটের ফলাফল উঠে এল একটি সমীক্ষার মাধ্যমে। সমীক্ষার অনুযায়ী নবান্ন কার দখলে আসবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

বিধানসভার আসন হল ২৯৪টি। বাংলা সিংহাসন দখল করতে গেলে ১৪৮ আসন পেতে হবে। তাই এই ১৪৮ টি আসনকে ম্যাজিক ফিগার বলা হয়। তৃণমূল বলছে যে তারাই আবার ভোটে জয়যুক্ত হয়ে তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যের সিংহাসন দখল করবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই হবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

 

অপরদিকে বিজেপি শিবির দাবি করছে তারা ২০০ টিরও বেশি আসন দখল করে পশ্চিমবঙ্গের সিংহাসনে আসতে চলেছে। অন্যদিকে আবার রাজ্যের সিংহাসন দখলের জন্য বাম, কংগ্রেস এবং ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট জোট বাঁধতে চলেছে।

তবে রাজ্যের সিংহাসন কার দখলে সেই নিয়ে CNX Opinion Poll এর সমীক্ষা সামনে এসেছে। এই সমীক্ষায় ধরা পড়েছে ক্ষমতায় আসার জন্য কোন দলই ১৪৮ টি আসন পাবে না। CNX Opinion Poll সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে এবার বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভাগ্যে রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট। অপরদিকে বিজেপি পেতে পারে ৩৮ শতাংশ ভোট। বাম-কংগ্রেস-ISF জোট পেতে পারে ১৬ শতাংশ ভোট। অন্যান্যদের ভাগে রয়েছে ৬ শতাংশ ভোট।

মনে করা হচ্ছে তৃণমূল এবার বিধানসভা ভোটে ১৩৬ থেকে ১৪৬ টি আসন দখল করতে পারে যা ম্যাজিক ফিগারের থেকে অনেকটাই কম। অপরদিকে বিজেপিরা ১৩০ থেকে ১৪০টি আপন দখল করতে পারে। এটা হোক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংখ্যা থেকে কম। বাম-কংগ্ৰেস-ISF জোট ১৪ থেকে ১৮টি আসন পাবে। অন্যান্যরা একটি আসন দখল করতে পারে।

এছাড়াও এই সমীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়েছে যে পশ্চিমবঙ্গের ৪৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে এইবার বিধানসভা ভোটে বিজেপি জিতবে। অপরদিকে ৪২ শতাংশ মানুষ মনে করছে আবার ক্ষমতায় আসবে জোড়া ফুল। অপরদিকে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ মনে করছেন রাজ্যের সিংহাসনে এবার বসতে পারে সংযুক্ত মোর্চা।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এ বাংলার মানুষ কাকে চায়? সেই বিষয়ে এই সমীক্ষায় ধরা পড়েছে – ৩৯ শতাংশ মানুষ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের মেয়ে মমতা ব্যানার্জি কে চায়। ১২ শতাংশ মানুষ সমর্থন করছে শুভেন্দু অধিকারীকে। দিলীপ ঘোষের পক্ষে আছে ২২ শতাংশ মানুষের সমর্থন। ৫ শতাংশ মানুষ চায় মুকুল রায়কে। ৭ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেছে অধীর চৌধুরীকে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর সমর্থন রয়েছে ৪ শতাংশ মানুষ। আর ১১ শতাংশ মানুষ চায় অন্যদের।