গার্লফ্রেন্ডের উৎসাহ তে আজ IPS অফিসার, ক্লাস 12th এ ফেল এই ট্রাক ড্রাইভার…

প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনে এমন কিছু অনুপ্রেরণা থাকে যার দ্বারা তিনি এগিয়ে যান। একসময় যে ধনী ব্যক্তিদের কুকুর দেখাশোনা করতেন বা কখনো কখনো টেম্পু চালাতেন সেই আজ প্রেমিকার অনুপ্রেরণাতেই আইপিএস অফিসার হয়ে উঠেছেন। তিনি তার মনের ইচ্ছা শক্তি দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে কঠিন পরিশ্রমের দ্বারা সমস্ত কিছুই পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও তার পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য আরও অনেক ছোটখাটো কাজ করতেন। এমনি করতে করতে তার বান্ধবী একদিন তাকে বলেন আইপিএস এর জন্য পরীক্ষা দিতে।

এরপর তার বান্ধবীর কথা শুনে তিনি পরীক্ষায় বসেন এবং প্রথমবারেই উত্তীর্ণ হয়ে যান আইপিএস পরীক্ষাতে।এই ব্যক্তির নাম হল মনোজ শর্মা। মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা তিনি। মনোজ শর্মা একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার ফলে তার ইংরেজি খুবই দুর্বল ছিল। ইউপিএসসি পরীক্ষার পাশ করার পর তার যখন সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, আপনি যদি ইংরেজি না জানেন তাহলে কিভাবে শাসন করবেন। এই সাক্ষাৎকারের সময় মনোজকে একটি ইংরেজিতে বানান লিখতে বলেন। এ বিষয়ে মনোজ জানিয়েছেন যে, ‘আমাকে ট্যুরিজম বানান লিখতে বলে ইংরেজিতে।

এই ট্যুরিজম লিখতে গিয়ে তিনি টেরিরিজাম লিখে ফেলেন।’ দ্বাদশ শ্রেণীতেও তেমন ভালো ফল করতে পারেনি এই মনোজ শর্মা। নবম, দশম এবং একাদশ শ্রেণিতে তৃতীয় বিভাগে পাশ করেন এই মনোজ বাবু এবং দ্বাদশ শ্রেণীতে ব্যর্থ হন তিনি। তবুও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন ভেঙে পড়েনি। যদিও দ্বাদশ শ্রেণীর পর তার চিন্তা ঢুকে যায় যে কীভাবে তিনি চাকরি পাবেন এই ফলাফলে। এরপর তিনি টেম্পো চালানো শুরু করলেন। যেহেতু তার বাড়ির অবস্থা ভাল ছিল না তাই পড়াশোনা চালিয়ে যাবার জন্য তাকে কাজ করতে হতো।

তিনি এবং তাঁর ভাই একসাথে টেম্পো চালাতেন। এরপর টেম্পু চালাতে চালাতে টেম্পুটি একসময় এসডিএম কাছে ধরা পড়ে। এই ঘটনার পরেই মনোজকে প্রভাবিত করে। এরপরে মধ্য প্রদেশ থেকে আসা মনোজ শর্মা গোয়ালিয়ার এর প্রস্তুতি শুরু করে দেন। তবে সেই সময় তার কাছে কোনো প্রকার অর্থ ছিল না তাই ভিক্ষুদের কাছেই ঘুমাতেন তিনি। বড়লোকদের কুকুর দেখাশোনা করতেন সেই সময়। এমনকি তিনি একটি লাইব্রেরীতে গার্ডের চাকরি ও করেছেন। এই লাইব্রেরীতে তিনি রাত্রে গার্ড দিতে দিতে বই পড়তেন।

দিল্লিতে থাকাকালীন তার একটি প্রেমিকা হয়েছিল। এবং এখানেই তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু যেহেতু তার ছোট থেকে ইংরেজি দুর্বল তাই তিনি কিছুটা হলেও ভয় করতেন। মনোজ বাবু তার একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে,’ তার প্রেমিকা যদি তার সাথে থাকে তাহলে সে সারা জগত পাল্টে দিতে পারবে। এরপরে তার প্রেমিকা তাকে ইউপিএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। এবং তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। যখন তিনি তার ইউপিএসসির ফলাফল জানতে পারেন তখন তার চোখে জল চলে আসে। কারণ এক সময় দ্বাদশ শ্রেণীতে ব্যর্থ হওয়ার পরে অনেক লোকের কথা শুনতে হয় তাকে। কিন্তু আজকে সময়টা একদম পাল্টে গেছে তার।