ভারতে হু হু করে কমছে চীনা স্মার্টফোনের বাজার, দিন দিন বাড়ছে Samsung-এর মার্কেট শেয়ার..

গালওয়ান উপত্যকায় যবে থেকে ভারত এবং চীনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে তারপর থেকে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায় ভারত সরকারকে চীনের বিরুদ্ধে। যেখানে গোটা দেশের মানুষ চীনা পণ্য বয়কট করা উদ্যোগে শামিল হয়েছিল, তবে যেভাবে চীনা কোম্পানির স্মার্টফোন গুলি ভারতের বাজার ধরে রেখেছিল তার জেরে এটা অনেকখানি মুশকিল হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে তখনো পূর্বভাস করা হয়েছিল যদি এই চীনা কোম্পানির স্মার্টফোনগুলো একপ্রকার বয়কট করা হয় তাহলে ভারতের বাজারে আবারো চাহিদা বাড়তে পারে আবারও দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থা Samsung এর।

সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে ভারতে Samsung এর জনপ্রিয়তাতে ভাগ বসিয়েছে Oppo, Vivo, Xiaomi মতো চাইনিজ সংস্থাগুলি। এবার প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী জানতে পারা যাচ্ছে চাইনিজ সংস্থা Vivo কে পিছনে ফেলে এপ্রিল-জুন কোয়ার্টারে না হলেও সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে স্যামসাং দ্বিতীয় স্থান দখল করবে। কারণ এই মুহূর্তে ভারতে কাজ করছে মানুষের চীনা বিরোধী মনোভাব ও দেশের মধ্যে চীনা স্মার্টফোনগুলোর নতুন Stock এর উপলব্ধতার অভাব। যদিও জুন মাসের মধ্যে স্যামসাং এই চীনা বিরোধী মনোভাব কে কাজে লাগানোর জন্য 4 টি স্মার্ট ফোন লঞ্চ করেছে যে গুলির মূল্য যথাক্রমে 10 হাজার টাকা থেকে শুরু করে 20 হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে।

2020 প্রথমদিকে স্মার্টফোন বাজারে চীনা কোম্পানি গুলোর শেয়ার ছিল 81 শতাংশ, তবে এখন অনেকেই চীনা হ্যান্ডসেট ছেড়ে স্যামসাংয়ের দিকে যাচ্ছেন।এ বিষয়ে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের রিসার্চ ডিরেক্টর নীল শাহ জানিয়েছেন মার্চ মাসে ভারতের বাজারে স্যামসাংয়ের মার্কেট শেয়ার ছিল 16%, তবে এই কয়েক মাস চাইনিজ সংস্থাগুলির চাহিদা অনুযায়ী বাজারে তাদের ডিভাইস সাপ্লাই করতে পারেনি। অন্যদিকে স্যামসাংয়ের ডিভাইস সরবরাহ বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। তিনি আরো জানান এই জুন কোয়াটারে স্যামসাং ভারতীয় স্মার্টফোন বাজারে দ্বিতীয় নম্বর স্থানে পৌঁছে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে কাউন্টারপয়েন্ট যে তথ্য প্রকাশ করেছে সেখানে 2020 সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ভারতের বাজারে শাওমির শেয়ার ছিল 30%, ভিভোর 17% ও স্যামসাংয়ের 16 শতাংশ। অন্যদিকে এই বিষয়ে সাইবার মিডিয়া রিসার্চের ইন্ডাস্ট্রি ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের প্রধান জানান বর্তমানে বাজারের এই পরিস্থিতিতে Samsung, Nokia এর মতো নন চাইনিজ প্রোডাক্টগুলি ভারতের গ্রাহকদের সাথে মজবুত সংযোগ স্থাপন করেছে এবং এই বছর সংস্থাগুলোর কাছে বাজারে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভালো সুযোগ রয়েছে। তবে এখানেই শেষ করলে হবে না এই সংস্থাগুলোকে বাজারে টিকে থাকতে হলে তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো প্রোডাক্ট নিয়ে আসতে হবে।

Related Articles

Back to top button